“ভারতের প্রভাবশালী খবরের কাগজ “দ্য হিন্দু” এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার গোপনীয় এক দলিল প্রকাশ করেছে “প্রিজম ব্যবস্থা দিয়ে তথ্য সংগ্রহের জীবনে একটি সপ্তাহ” নামে. এই প্রকাশনার পরে সরকারি ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে খুবই জোর দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের উপরে গুপ্তচর বৃত্তি করা সম্বন্ধে নেতিবাচক বক্তব্যের বিরুদ্ধে একটা খুবই জোরদার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে. মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের পক্ষ থেকে দ্য হিন্দু কাগজকে দেওয়া দলিলে রয়েছে “স্পেশাল সোর্স অপারেশন” নামে গোপনীয়তার মোহর. এখানে ফাঁস করে দেওয়া দলিল গুলোতে টেলিফোন আলাপ ও ইন্টারনেটে তথ্য চলাচল নিয়ে খবর রয়েছে, যা আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী ভারতে যোগাড় করতে পেরেছে সেই প্রিজম নামের প্রোগ্রাম এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই ব্যবহার করে”.

এই স্ক্যান্ডাল তৈরী করা দলিল থেকে বোঝা গিয়েছে যে, প্রিজম প্রোগ্রাম জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার দিক থেকে ভারতের নেতৃস্থানীয় কোম্পানীগুলোর সার্ভার ও সামাজিক সাইটে একেবারেই অবাধ প্রবেশ করে দিয়েছে. এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনী সমস্ত বৈদ্যুতিন চিঠি, ভিডিও, চ্যাট ও ভয়েস মেলের বিষয়েও নজর রাখতে পেরেছে. এই দলিলে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেসবুক, এমএসএন, হট মেল, ইয়াহু!, গুগল, অ্যাপল, স্কাইপে, ইউ টিউবের কথা. এখানে উল্লেখযোগ্য যে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার মূল জোর দেওয়া হয়েছে ভারতের কম করে হলেও তিনটি ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের দিকেই. এটা পারমাণবিক ও মহাকাশ শিল্প ক্ষেত্র ও ভারতীয় রাজনীতি, তাই তোমিন বলেছেন:

“প্রথম দিকের যে খবর ফাঁস হয়েছে যে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনীর “ফাঁদে” পড়েছে, তা এই বছরের গরমের শুরুতেই প্রকাশিত হয়েছিল. ৭ই জুন ব্রিটেনের “দ্য গার্ডিয়ান” কাগজে জানানো হয়েছিল, প্রিজম প্রোগ্রাম জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ভারতের তথ্য ক্ষেত্রের মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছে, আর তা যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার প্রভাইডারদের না জানিয়ে অথবা দেশের বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে কোন রকমের আইন সঙ্গত অনুমতি না নিয়েই”.

কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই ভারতে এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ও তিনি চেষ্টা করেছিলেন এই স্ক্যান্ডালকে থামানোর. প্রিজম প্রোগ্রাম যে রয়েছে, সেই বাস্তব ঘটনাকে অস্বীকার না করে জন কেরি খুবই কড়া ভাবে সেই ধারণাকে অস্বীকার করেছিলেন যে, এই প্রোগ্রাম দিয়ে ভারতে লক্ষ্য স্থির করে গুপ্তচর বৃত্তি করা সম্ভব.

তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি বলেছিলেন যে, “এখানে ই-মেইল অথবা টেলিফোনে আড়িপাতার কথা হচ্ছে না. এটা কম্পিউটারের মাধ্যমে আচমকা ভাবেই টেলিফোন, অথবা শুধু নম্বর সম্বন্ধে তথ্য যোগাড় করে যাওয়া, যাতে কোন নির্দিষ্ট নামধারী ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা হয় না”.

নিজের পক্ষ থেকে ভারতের সরকারি লোকরাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা কোন রকমের সম্পর্কের বিষয়ে তীক্ষ্ণতা সৃষ্টি করতে চান না. ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদ সেই রকমের মানসিকতা নিয়েই ঘোষণা করেছিলেন যে, এই ধরনের কাজ কর্ম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনী সারা বিশ্ব জুড়েই কাজ করে চলেছে, আর তা আসলে “স্রেফ কম্পিউটার দিয়ে টেলিফোন কোথায় করা হয়েছে তাই নিয়ে বিশ্লেষণ”. আর ভারতের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী কপিল সিব্বল ভারতের লোকসভায় সাংসদদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁদের শান্ত করতে চেয়ে ২৬শে আগষ্ট বলেছিলেন যে, “আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী স্রেফ চেষ্টা করছে তথ্যের উত্স ও উদ্ভবকেই লক্ষ্য করতে চাইছে, কিন্তু কখনোই তাতে কি লেখা রয়েছে, তা নিয়ে অনুপ্রবেশ করে না, কারণ তার জন্য প্রয়োজন হয় আদালত থেকে আইন সঙ্গত অনুমতি পাওয়ার”.

প্রসঙ্গতঃ, নতুন সব তথ্য, যা ভারতের সংবাদ মাধ্যমে এডওয়ার্ড স্নোডেনের এগিয়ে দেওয়া থেকে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে, তা একেবারে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভারত আমেরিকার “ফাঁদের” মধ্যেই রয়েছে, এই রকম মনে করে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“দুই দেশের সরকারি মুখপাত্রদের তরফ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নৌকাকে টালমাটাল না করার ইচ্ছা খুবই স্পষ্ট করে বুঝতে পারা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের এর আগের বারের ওয়াশিংটন সফরের পরে, যা ২০০৯ সালে হয়েছিল, এই সম্পর্ক কিছু সময়ের জন্য মধুমাস যাপন করে থাকলেও আবার এখন ঘূর্ণির মুখেই পড়েছে. আমেরিকার ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী লবি ভারতকে দুষছে যে, ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংরক্ষণশীল নীতি নিয়েছে ও ভারতের বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞা জারী করার দাবী করেছে. দুই দেশের অবস্থান বিশ্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে, আর সেটা সিরিয়া থেকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে - উল্লেখযোগ্য ভাবেই আলাদা রকমের হয়ে রয়েছে. আরও একটি গুপ্তচর বৃত্তি নিয়ে স্ক্যান্ডাল এই সম্পর্কের উপরে আঘাতের হুমকি হয়েছে. কিন্তু ভারতে মার্কিন গুপ্তচর বাহিনীর কীর্তিকলাপ নিয়ে তথ্য সম্বন্ধে চুপ করে থাকাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এমনিতেই ভরসা করার মতো মূলধন হারিয়ে ফেলা সম্পর্ককে বেশী করেই নষ্ট করে দিতে পারে”.