যারা খেলোয়াড় ও তাদের সঙ্গে আসা লোকদের সাহায্য করতে তৈরী, তাদের প্রশিক্ষণ চলছে রাশিয়ার ১৭টি শহরে. অলিম্পিকের স্বেচ্ছাসেবকরা সমস্ত প্রশ্নেরই উত্তর জানতে বাধ্য: কি করে যেতে হবে, কোথায় খাওয়া যাবে, কোন সেক্টর হয়ে ষ্টেডিয়ামে ঢোকা যাবে. অনেক স্বেচ্ছাসেবকরাই পরে খেলোয়াড়দের সত্যিকারের বন্ধু হতে পারবেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে ত্যুরিন অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমানে রাশিয়ার লোকসভার সদস্যা স্ভেতলানা ঝুরোভা বলেছেন:

“আমি স্রেফ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বেড়িয়ে ছিলাম. তারাই আমার ত্যুরিন শহরে ভ্রমণ সঙ্গী হয়েছিল. যেমন, আমার ছুটি আর ওদেরও ছুটি, আমরা স্রেফ একসাথে বেড়াতে যেতাম. এই লোকদের সঙ্গে আমি অনেক বছর ধরেই বন্ধুত্ব রেখেছিলাম. তার পরে তারা রাশিয়াতেও বেড়াতে এসেছিল. প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজেদের সঙ্গে এই স্বেচ্ছাসেবকদের কথাবার্তার স্মৃতির অংশ নিয়েই ফিরে যান”.

সোচীর জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাছা হয়েছে খুবই খুঁটিয়ে. এখানে নাগরিকত্ব, লিঙ্গ বা ধর্ম বিশ্বাস কোন বাধা ছিল না, মুখ্য ছিল – খেলাধূলার প্রতি আগ্রহ ও বিদেশী ভাষা জানার খুব উঁচু দরের ক্ষমতা. যে কোন মর্যাদাময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার মতোই এখানে প্রতিযোগিতা হয়েছে – একটা জায়গার জন্য আটজন করে লোক. নিজের চোখে অলিম্পিক দেখতে চাওয়া লোকের কোন অভাব নেই. দুই লক্ষ লোকের মধ্যে থেকে আয়োজকরা বেছে নিয়েছেন ২৫ হাজারকে – এটা এই খেলার সময়ে যত লোক পরিষেবা দিচ্ছেন, তাদের একের তিন ভাগ.

মস্কো শহরের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শণ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ওলগা পেরেতিয়াচেঙ্কো সুযোগ পাওয়াতে তার মা ও বাবা খুবই খুশী হয়েছেন, কারণ তাঁদের মেয়ে স্বেচ্ছাসেবক হতে পেরেছে. ১৯৮০ সালে তাঁরা নিজেরাই চেয়েছিলেন মস্কো শহরের অলিম্পিকের স্বেচ্ছাসেবক হতে – কিন্তু তখন তা সম্ভব হয় নি, আর মেয়ের ভাগ্যে তা ঘটেছে. তাই ওলগা বলেছে:

“আমি প্রথম বছরে পড়ার সময়ে একটা বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেয়েছিলাম যে, স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া চলছে. আমি ঠিক করেছিলাম যে, আমি বিদেশী ভাষা জানি, আমার আন্তর্জাতিক ভাবে কথাবার্তা বলার ইচ্ছা আছে, নতুন লোকদের সঙ্গে পরিচিত হতে ইচ্ছা হয়, বন্ধুত্ব করতে ইচ্ছা হয় আর পরে সারা জীবন ধরে গর্ব করতে ইচ্ছা হয় যে, আমি আমার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি”.

এই বাছাই পর্বে যাদের নেওয়া হয়েছে, তারা মূলতঃ ছাত্রছাত্রী. কিন্তু তথাকথিত “রুপালী বয়সের” স্বেচ্ছাসেবকরাও এখানে আছেন. অর্থাত্ তাঁরা, যাঁদের বয়স ৫৫ ও তার চেয়ে বেশী. রাশিয়াতে সেই ধরনের আগ্রহী লোক পাওয়া গিয়েছে প্রায় তিন হাজার.

২০১৪ সালে সোচী শীত অলিম্পিকে বিনামূল্যে কাজ করার জন্য বিশ্বের প্রায় একশটিরও বেশী দেশ থেকে বিদেশীরাও দাবী করেছিলেন, তাদের মধ্যে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ইউক্রেন, গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র.

উজবেকিস্তান থেকে রাশিয়াতে এসেছে আরতিওম শামসুত্দীনভ, সে পড়ে কাজানের টেকনলজি ইউনিভার্সিটিতে. আরতিওম গল্প করে বলেছে যে, সোচী শহরে অলিম্পিকে স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার ইচ্ছা তার কাজান শহরে এসেই হয়েছে, সে বলেছে:

“যখন আমি কাজানে পড়তে ভর্তি হয়েছিলাম, আমি টের পেয়েছিলাম যে, আমি বড় একটা কিছুর অংশ হতে চাই. বাছাই পর্ব ছিল খুবই কড়া, কিন্তু আমার সুযোগ মিলেছে”.

আন্তর্জাতিক খেলাধূলার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, অলিম্পিকের স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়ে ভৌগোলিক প্রসার বাড়ানো- খুবই সঠিক সিদ্ধান্ত. এমনকি তার পরেও যখন শীত অলিম্পিক শেষ হয়ে যাবে, রয়ে যাবে অলিম্পিকের স্বেচ্ছাসেবকদের জমা অভিজ্ঞতা আর দলগত একটা আস্থা. আর তার সঙ্গে রয়ে যাবে অলিম্পিকের সময়ে হওয়া বন্ধুত্বও.