শেষবার হামিদ কারজাই বেজিংয়ে গিয়েছিলেন গত বছরের গরমকালে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকে, যেখানে আফগানিস্তানকে দেওয়া হয়েছি পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা. তখন বেজিং সবচেয়ে বেশী সক্রিয়তা দেখিয়েছিল এই বিষয়ে কাবুলকে সাহায্য করার বিষয়ে. এখন আবার, মনে হচ্ছে যে, চিনের দরকার নিজেদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ, যা আফগানিস্তানে রয়েছে, তার জন্য গ্যারান্টি খোঁজার. বেজিং ইতিমধ্যেই অনেকদিন ধরে তৈরী হচ্ছে এই দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট চলে যাওয়ার পরে নিজেদের ভূমিকা বৃদ্ধি করার জন্য, এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“বেজিং চেষ্টা করছে আগে থেকেই পরিস্থিতিকে নিজেদের জন্য লাভজনক দিকে করে নেওয়ার জন্য, যা এই দেশ থেকে আমেরিকার সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে. এই অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ে তারা চেষ্টা করবে একটা দ্রুত উন্নতি করার, যাতে আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব ও অবস্থানকেই মজবুত করা যায়. একই সঙ্গে অবশ্যই চিনের পক্ষে লাভজনক নয় যাতে আফগানিস্তান সেখান থেকে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে একেবারেই ভেঙে পড়ে, কারণ এই ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষতিই হবে”.

বেজিং শহরে হামিদ কারজাইয়ের আলোচনায় একটি প্রধান বিষয় হবে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা নিয়ে. চিন এই প্রশ্নে খুবই সাবধানী অথচ খুবই জোর দিয়েছে. তারা স্পষ্ট করেই বুঝতে দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা শক্তিকে সমর্থনের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক চারশো কোটি দশ হাজার ডলারের তহবিলে তারা অংশ নিতে চায় না. একই সঙ্গে বেজিং কাবুলের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে আলাদা চুক্তি করেছে. চিন কাবুলকে পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণে সহায়তা করতে চেয়েছে, তাদের জিনিষপত্র ও সংগঠন সংক্রান্ত সহায়তা দেবে, সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তাদের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার ভাগ দেবে. এর জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেখানে বিশেষ করে চিনের পলিটব্যুরোর সদস্য চ্ঝৌ ইউনকান উড়ে এসেছিলেন. এটা ছিল ১৯৬৬ সালের পর থেকে চিনের এত উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির প্রথম সফরই ছিল.

আফগানিস্তানে চিনের উপস্থিতি আজ সবচেয়ে বেশী করে লক্ষ্যণীয় হয়েছে সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই, যা তামা, খনিজ তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ক্ষেত্রে. সেই সব বিষয়ের ভাণ্ডার আমেরিকার লোকরা মূল্যায়ণ করে দেখেছেন এক লক্ষ কোটি ডলার মূল্যের, তবে মনে হয় যে, এই সম্পদ কাজে লাগাবে চিনের লোকরাই.

বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার সময়ে মুখ্য বিষয় হতে চলেছে – কাবুলের কাছে “আইনাক” নামের জায়গায় খনিতে তামা উত্তোলনের প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করাই. চিনের পক্ষ থেকে তামা খনির কাজ করা – এটা আফগানিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প.

চিন বিদেশী কোম্পানীদের মধ্যে প্রথম হয়েছে, যারা আফগানিস্তানে খনিজ তেল ও গ্যাসের প্রকল্পে হাত দিয়েছে. অন্য স্ট্র্যাটেজিক লাভ – ইরানের খনিজ তেল পাওয়ার জন্য আফগানিস্তানের এলাকার মধ্য দিয়ে চিনের জন্য পাইপ লাইন তৈরী. ২০১৪ সালে যখন ন্যাটো ও আমেরিকার “সামরিক বর্ম” খসে পড়বে, তখন এই প্রকল্প সহজেই বাস্তব চেহারা নিতে পারবে. তার ওপরে পাকিস্তানও এই বিষয়ে আগ্রহী, যা নিয়ে তারা একাধিকবার বলেছে.

আজ অনেক বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে চিনের জন্যই আফগানিস্তানে জমি তৈরী করে দিয়েছে. হামিদ কারজাই, খুব সম্ভবতঃ চিন থেকে তাই পাবেন, যা তিনি চাইবেন. নতুন করে চিনের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ করা হলে তা চিনের অর্থনীতির ইঞ্জিনের সঙ্গে আফগানিস্তানের খনিজ দ্রব্যের “ওয়াগনকেই” আরও বেশী করে জুড়ে দেবে, যা বিদেশী কাঁচা মালের ব্যাপারে খুবই বেশী করে ব্যবহারের ক্ষমতা রাখে.

একই সঙ্গে হামিদ কারজাইকে খুব সম্ভবতঃ কূটনৈতিক ভাবে নতুন করে তৈরী করার ক্ষমতা দেখাতে হবে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপে না যায়. কারণ আমেরিকার লোকরাই কাবুলে আবহাওয়া তৈরী করে থাকে. আর তারা আফগানিস্তানে মোটেও সেই কারণে আসে নি যে, তাদের প্রধান বিশ্বমানের প্রতিদ্বন্দ্বী চিনকে এই এলাকায় নিজেদের ভূ- রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে দেবে.