“পেশোয়ার শহরে অল সেন্টস চার্চের কাছে হওয়া পরপর দুটো সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ ঐস্লামিকদের পক্ষ থেকে আরও একটা আন্তর্জাতিক কারবার হয়েছে. আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীরা মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে খুবই ভঙ্গুর শান্তিকে বিস্ফোরিত করার ইচ্ছা নিয়েই এই কাজ করেছে. পাকিস্তানে খ্রীষ্টানদের উপরে আক্রমণ এর আগেও হয়েছে, কিন্তু অল সেন্টস চার্চের কাছে হওয়া বিস্ফোরণে অগুন্তি হতাহতের সংখ্যা বিগত ষাট বছর ধরে চলতে থাকা খ্রীষ্টানদের ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপরে আক্রমণের ইতিহাসে একেবারেই তুলনা রহিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে”.

পাকিস্তানের খ্রীষ্টান গোষ্ঠীর লোকসংখ্যা বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার শতকরা ২ থেকে ৪ ভাগ. এঁরা লক্ষণীয় রকমের সংখ্যার জনগন. খ্রীষ্টান গোষ্ঠীরা বর্তমানে পাকিস্তান বলে স্বীকৃত এলাকায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভেঙে সৃষ্টির বহু আগে থেকেই আছেন. এর অর্থ হল যে, তাঁদের নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদি জনতা হিসাবেই আইনত মনে করা যেতে পারে. যদিও পাকিস্তানের স্রষ্টা মহম্মদ আলি জিন্না পাকিস্তানকে মুসলমানদের রাষ্ট্র বলেই তৈরী করতে চেয়েছিলেন, তবুও এই রাষ্ট্রের ইতিহাসে খ্রীষ্টান গোষ্ঠীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই নিতে পেরেছিল. তাঁদের সামাজিক জীবনের একবারে প্রান্তে ঠেলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা স্বত্ত্বেও সম্পূর্ণ অধিকার সম্মত পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে থাকার জন্যই তাঁরা আজও লড়াই করে চলেছেন, কোন রকমের দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক নয়, এই প্রসঙ্গে তোমিন আরও বলেছেন:

“এই বিষয়ের সমর্থন হিসাবে খ্রীষ্টানদের উপরে আক্রমণের বিরুদ্ধে নানা রকমের মিছিল সমাবেশই দেখা যেতে পারে, যা এই দেশের সমস্ত বড় শহরগুলোতেই হয়েছে – পেশোয়ার, করাচী, ফৈসালাবাদ ও তারই সঙ্গে ইসলামাবাদেও. দেশের জনগনের নিরাপত্তা যোগাতে অক্ষম রাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতি বিক্ষোভে দেশের লোকরা গাড়ীর টায়ার জ্বালিয়ে রাজধানীর রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে. দেশের লোকের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আহ্বান করেছেন পেশোয়ারের ঘটনাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান সমাজের উপরে আক্রমণ হিসাবে না দেখতে. তিনি বলেছেন, - “সন্ত্রাসবাদীদের কোন ধর্ম নেই, আর নিরপরাধ লোকদের লক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা ইসলামের ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী””.

এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের জন্য দায়িত্ব নিজেদের উপরে নিয়েছে পাকিস্তানের তালিবদের নতুন দল “জুনুদ উল-হিফসা.” এর তীব্র নিন্দা করেছেন রোমের পোপ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন. এই গোষ্ঠী কয়েকমাস আগেই তৈরী করা হয়েছে দেশের কট্টরপন্থী ঐস্লামিক আন্দোলন “তেহরিক ই-তালিবান পাকিস্তান” দলের শাখা হিসাবে. “জুনুদ উল-হিফসা” নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে বিদেশী ও অমুসলিম পাকিস্তানীদের উপরে আক্রমণ করাকে ঠিক করেছে, কারণ এই ভাবেই তারা নিজেদের দেশে মার্কিন ড্রোন বিমানের আঘাতের প্রতিবাদ করতে চায়. এই বছরের জুন মাসেই “জুনুদ উল-হিফসা” নিজেদের সম্বন্ধে আওয়াজ করে জানানি দিয়েছে, যখন তারা ১০জন বিদেশী পাহাড় চড়তে আসা অভিযাত্রীকে, যারা এখানে নাঙ্গা পর্বতের চূড়ায় উঠতে এসেছিল, তাদের হত্যা করেছিল. “আমরা পেশোয়ারে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ করতে পেরেছি আর বিদেশী ও অমুসলিমদের উপরে আক্রমণ করাও চালিয়ে যাবো ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না ড্রোন বিমান দিয়ে আঘাত করা বন্ধ হবে”, - ঘোষণা করেছে এই গোষ্ঠীর মুখপাত্র আখমাদ মারওয়াত, এই প্রসঙ্গেও তোমিন বলেছেন:

“অল সেন্টস চার্চের উপরে আক্রমণ, যা পাকিস্তানের খ্রীষ্টানদের বিক্ষোভ হয়ে ফেটে পড়েছে, তা দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বে প্রশাসনের তালিবদের সঙ্গে এখনও শুরু না হওয়া আলোচনাকেই শুধু বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে. এই বছরের মে মাসে সরকারে এসে নওয়াজ শরীফ তালিবদের প্রতি বেশ কয়েকটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি আশা করেছেন যে এই ভাবেই তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে টেনে আনা সম্ভব হবে. কিন্তু তাঁর তালিবদের “পোষ মানানোর” চেষ্টা আপাততঃ সফল হয় নি”.

এই পরিস্থিতিতে পেশোয়ারে আক্রমণ পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর লোকদের জন্য একটা নতুন যুক্তি হিসাবেই উপস্থিত হবে দেশের ঐস্লামিকদের উপরে সামরিক চাপ বৃদ্ধি করার পক্ষে, সামরিক নেতৃত্বের মতে, যারা দেশের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার উপযুক্তই নয়. পাকিস্তানের নেতৃত্বে এবারে বেশী করেই উপরে উঠে আসতে পারেন সেই কঠোর পথ ধরে চলতে চাওয়া লোকেরা যাদের ফর্মুলা: “সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনা হতে পারে না”. দেশের সমাজে পেশোয়ারের এই হত্যাকাণ্ডের পরে এই ধরনের মানসিকতাই এবারে বেশী করে সমর্থন পাচ্ছে.