সবে ড্রাইভিং করতে যাওয়া গাড়িচালকরা ফুল ভল্যুয়মে মিউজিকে ৯৮%ই দুর্ঘটনায় পড়ে. এটা কখনো গতি বাড়ানো, কখনো উল্টোদিকের রাস্তায় উঠে যাওয়া, স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে নেওয়া, আগের গাড়িটার সাথে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় না রাখা. ফলশ্রুতিতে প্রত্যেকটি সদ্য শুরু করা ড্রাইভার এক যাত্রায় গড়ে তিনটি করে ভুল করে থাকে. বেনগুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশী-ইস্রায়েলি গবেষকদল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন. তারা সদ্য পারমিট পাওয়া ১৮-২০ বছর বয়স্ক যুবকযুবতীদের উপর গবেষণা করেছেন.

অল্পবয়স্ক ড্রাইভাররা গাড়ি চালাতে চালাতে Rap, Rock বা Hip-Hop শুনতেই ভালোবাসে. পরীক্ষার সময় ৮৫ জন যুব ইস্রায়েলবাসী অপরিচিত গাড়িতে সওয়ার হয়েছিল অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের সঙ্গে, ফুল ভল্যুমে মিউজিক চালিয়ে ৪০ মিনিট ধরে ড্রাইভিং করেছিল. ফলশ্রুতিতে, তাদের কেউই তিনটের কমে ভুল করেনি. তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষকদের জরুরী হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল, হয় তারা তীব্র ব্রেক কষে অথবা শেষমুহুর্তে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে পরিস্থিতি সামলেছিলেন.

গবেষকদলটির প্রধান ওয়ারেন ব্রদস্কি বলছেন – “ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, মিউজিক প্রতিনিয়ত ড্রাইভিং থেকে মিউজিকের দিকে মনোনিনেশ সরিয়ে দেয়”. ঐ গবেষকদলেরই অন্য এক বিজ্ঞানী বরিস শ্ভার্তস ব্যাখ্যা করে বলেছেনঃ “মিউজিকের প্রভাবে মানুষের আবেগে উথালপাথাল হয়, এ্যাড্রেনালিন নিঃসৃত হয় এবং গাড়িচালকের পক্ষে ঠিকঠাক ড্রাইভিং করা ক্রমশঃই কষ্টকর হয়ে ওঠে.” ড্রাইভংয়ের জন্য প্রয়োজন মনোনিবেশ, আর দ্রুতগতির মিউজিক ড্রাইভারকে উদ্বুদ্ধ করে তোলে, সে খানিকটা ক্ষেপে যায় এবং নিয়মনীতি ভঙ্গ করেই সে এগোতে থাকে. দুর্দম চলতে থাকার সময়ে নেওয়া মস্ত্বিস্কের এনসেফেলোগ্রাফই প্রমাণ করেছে যে, গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে হার্ডবিট মিউজিক শোনার সময় মস্তিস্কের সক্রিয়তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়.

ঐ গবেষকরাই প্রমাণ পেয়েছেন যে, ধীর স্থিতধী মিউজিক শুনলে কিন্তু দুর্ঘটনা ২২% কম ঘটে. ঐরকম মিউজিক ড্রাইভারদের মনোনিবেশের বিচ্যুতি ঘটায় না, বরং তাদের মনঃসংযোগে মদত দেয়.

প্রসঙ্গতঃ জানাই যে, মিউজিক ছাড়া ড্রাইভিংয়ে নিরাপত্তার রেকর্ডও কিন্তু আহামরি কিছু নয়, সামান্য ৮% নিরাপত্তা বেড়েছে.

মনোস্তত্ত্ববিদদের মতে, রাস্তায় ড্রাইভ করতে করতে মিউজিক শোনা উচিত্, তবে ডিস্কলিস্টটা আগে থেকে বেছে নেওয়া উচিত্, রেডিও ওয়েভ থেকে চটজলদি ধরে নিয়ে নয়.