সোচী অলিম্পিকের পাহাড়ে যে সব প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা, সেখানে পৌঁছনো যেতে পারে হয় গাড়ী চড়ে, নয়তো ট্রেনে চড়ে মাত্র আধ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই. এখানের মুখ্য যাত্রী কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৫৭৮ কিলোমিটার উঁচুতে. এখান থেকেই পায়ে হেঁটে অথবা কয়েক মিনিট গাড়ীতে চেপে ট্রাম্পলিন আর স্নো বোর্ড প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পৌঁছনো যেতে পারবে. আর যদি অলিম্পিকের পাহাড়ী স্কি করার উচ্চতায় পৌঁছতে হয়, তবে চড়ে বসতে হবে “রোজা খুতর” নামের জায়গায় রোপ ওয়ের বন্ধ কেবিনে. প্রতি আধ মিনিটে একটা করে এই ধরনের কেবিন উঠিয়ে নিয়ে যাবে আট জনকে.

১৯৯০এর দশক থেকেই এখানে পাহাড়ে স্কি করার রাস্তা তৈরী করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমানের চেহারায় “রোজা খুতর” নামের পর্যটন কেন্দ্র বিশেষ করে তৈরী করা হয়েছে অলিম্পিক গেমসের জন্যেই. তার নানা জায়গায় একসাথে তিরিশ খানা সেট মেডেলের জন্য প্রতিযোগিতা করা হবে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে “রোজা খুতর” নামের সেন্টারের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার বেলোকোবীলস্কি বলেছেন:

“কোন সব ষ্টেডিয়ামে? প্রথমতঃ, এটা পাহাড়ে স্কি করার কেন্দ্র. এর ফিনিশ করার জায়গা রয়েছে সমুদ্র তল থেকে ৯৬০ মিটার উঁচুতে, পুরুষদের স্টার্ট করার উচ্চতা রয়েছে ২০৪৫ মিটার উচ্চতার জায়গা থেকে. অর্থাত্ উচ্চতা কমে আসার ব্যাপারে আমাদের কেন্দ্র সমস্ত রকমের নিয়ম মেনেই তৈরী করা হয়েছে. দ্বিতীয় ষ্টেডিয়াম – এটা ফ্রি স্টাইল ও স্নো বোর্ড করার কেন্দ্র. কাছেই রয়েছে খেলাধূলার জন্য না হলেও অলিম্পিকের জন্যই তৈরী করা জায়গা – এটা অলিম্পিকের ভিলেজ, যেখানে এক সাথে ২৬০০ লোক থাকতে পারবেন, খেলোয়াড় ও তাদের দলের লোকরা এখানেই থাকবেন”.

পাহাড়ের অলিম্পিক ভিলেজ নিজের দিক থেকেই একটা অনন্য জায়গায় পরিণত হতে চলেছে. এখানে খেলোয়াড়রা সমস্ত খেলাধূলার জায়গার প্রায় একই ধরনের উচ্চতায় থাকতে পারবেন, যা স্বাভাবিক কারণেই তাদের এখানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সুবিধা করে দেবে.

সেই গরমের সময় থেকেই “রোজা খুতর” এলাকার পাহাড়ের ঢালে দেখা গিয়েছে সাদা রঙের ছোপ. এটা গত বছরের জমা বরফ, যা বিশেষ ধরনের ঢাকনা ব্যবহার করে ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে, যা বরফকে গলে যেতে দেয় নি. এই ধরনের বরফ জমিয়ে রাখার জায়গা – কৃত্রিম ভাবে বরফ তৈরী করা ও তা জমিয়ে রাখার জন্য একটা বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা, যা বিশেষ করে অলিম্পিক গেমসের জন্যেই করা হয়েছে, এই কথা ব্যাখ্যা করে আলেকজান্ডার বেলোকোবীলস্কি বলেছেন:

“ক্রাসনায়া পলিয়ানা নামের এই জায়গা সব সময়েই প্রচুর বরফের জন্য বিখ্যাত ছিল, এখানে প্রচুর বরফ পড়ে, অন্যান্য বছরে এখানে সবচেয়ে নীচের জায়গাতেও বরফের জমা স্তরের উচ্চতা হয়ে থাকে দেড় থেকে দুই মিটার. সেটা হওয়া স্বত্ত্বেও আন্তর্জাতিক স্কি ফেডারেশনের দাবী অনুযায়ী সমস্ত স্কি করার রাস্তা, যেখানে খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতা করবেন, তাতে কৃত্রিম ভাবে বরফ তৈরী করার ব্যবস্থা থাকা উচিত্ বলে আমরা ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম বরফ তৈরী করার ব্যবস্থা বানিয়ে ফেলেছি, যা আমাদের সুযোগ করে দেবে যেমন এখানে প্রতিযোগিতা করার, তেমনই আমাদের এখানে পাহাড়ে স্কি করার সিজন ছয় মাস অবধি বাড়িয়ে নিয়ে যেতে দেবে. আমরা শুরু করি ডিসেম্বর মাসে আর শেষ হয় সেই মে মাসের নয় তারিখে, এটা ইতিমধ্যেই একটা ঐতিহ্য হয়ে গিয়েছে”.

“রোজা খুতর” এলাকার সমস্ত স্কি করার রাস্তাই এর মধ্যে শুধু যারা স্কি করতে ভালবাসেন তাঁরাই নন, এমনকি পেশাদার খেলোয়াড়রাও পরীক্ষা করে ফেলেছেন. এখানে আন্তর্জাতিক ফ্রি স্টাইল ও স্নো বোর্ডের প্রতিযোগিতা হয়েছে. যেখান থেকে পাহাড়ে স্কি করা শুরু করা হবে, সেখান থেকে ভাল আবহাওয়া থাকলে কৃষ্ণ সাগর, অলিম্পিক ভিলেজ, আর অবশ্যই ককেশাস পর্ব্বতমালার গিরিকন্দরে শোভা দেখতে পাওয়া যায়. সুতরাং এমনকি যখন বরফ থাকে না, তখনও “রোজা খুতর” সোচীর বাইরে দেখতে যাওয়ার মতো মূল জায়গা হয়েই থাকে.