নতুন বিশেষ ধরনের প্রদর্শনী খোলা হওয়াতে তা রাশিয়ার প্রযুক্তি প্রদর্শনী করার জন্য এক ভাল মঞ্চ হতে চলেছে. আজ ভারত জাতীয় সামুদ্রিক নৌবাহিনীর সামনে এক খুবই উচ্চাকাঙ্খী সমর্থ হওয়ার মতো কাজ রেখেছে, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” “রসআবারোনএক্সপোর্ট” কোম্পানীর সরকারি প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভীদেঙ্কো বলেছেন:

“রাশিয়া এক ভরসাযোগ্য স্ট্র্যাটেজিক জোটসঙ্গী হিসাবে তৈরী রয়েছে সবদিক থেকেই আগে থেকে স্থির করা সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য. রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে এই প্রদর্শনী চলার সময়ে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে সামরিক প্রযুক্তি উত্পাদন আরও গভীর ভাবে করার জন্য আলোচনা করতে. এই ধরনের সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য দিক হতে পারে সম্মিলিত ভাবে নতুন যুদ্ধজাহাজের প্রকল্প তৈরী করা ও তা পরে উত্পাদন করা”.

আজ পঁয়তাল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরেই সামুদ্রিক নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা চলার সময়ে ভারতের জন্য তৈরী করা হয়েছে সত্তরটিরও বেশী যুদ্ধজাহাজ, এই কথা উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ দাভীদেঙ্কো বলেছেন:

“বর্তমানে রাশিয়া সহযোগিতা করছে ভারতে তৈরী হওয়া জাহাজগুলিতে রুশ ব্যবস্থা যোগের প্রকল্প তৈরী করা ও তা দিয়ে সমৃদ্ধ করার কাজে. এই ধরনের কাজ হচ্ছে ১৫এ ও ১৫বি ধরনের প্রকল্পের ডেস্ট্রয়ার তৈরী করার ক্ষেত্রে, ৭১ নম্বর প্রকল্প অনুযায়ী ফ্রিগেট ও বিমানবাহী জাহাজ তৈরীর ব্যাপারে. তাছাড়া “সেভমাশ” কোম্পানী “বিক্রমাদিত্য” বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ শেষ করে এনেছে. সেই জাহাজ ভারতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এই বছরের নভেম্বর মাস ঠিক করা হয়েছে”.

রসআবারোনএক্সপোর্ট এই প্রদর্শনীতে ১১৩৫৬ নম্বর প্রকল্পের ফ্রিগেট প্রদর্শন করছে. ভারত নিজেদের নৌবাহিনী আধুনিক করার বিষয়ে বেশী করে মনোযোগ দিয়েছে ফ্রিগেট ধরনের যুদ্ধজাহাজের প্রতি. এই প্রকল্পের দুটি জাহাজ - “তেগ” (তরোয়াল) ও “তারকাশ” (তূণ) রাশিয়া ভারতকে তুলে দিয়েছে ২০১২ সালে, তারপরে ছিল তৃতীয় রকেট ছোঁড়া সম্ভব এমন ফ্রিগেট “ত্রিকণ্ড” (ধনুক). সব মিলিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য রাশিয়ার জাহাজ নির্মাণের ডকে তৈরী করা হয়েছে ১১৩৫৬ প্রকল্পের ছটি জাহাজ, এই কথা উল্লেখ করে “সামরিক অস্ত্র সম্ভার রপ্তানী” জার্নালের প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেই ফ্রোলভ বলছেন:

“এই ফ্রিগেটগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীতে খুবই ভাল নাম করতে পেরেছে. রাশিয়ার শিল্প গ্রহণযোগ্য দামের বিনিময়ে এই গুলিকে যথেষ্ট দ্রুতই তৈরী করে দিয়েছে. অর্থাত্ দাম ও গুণমান সূচক অনুযায়ী এই ধরনের জাহাজ একটি খুবই ভাল ধরনের সম্ভাব্য ক্রয়, যা ভারত নিজেদের জন্য উপযোগী বলে মনে করতে পেরেছে. পশ্চিমের দেশগুলিতে ফ্রিগেট তৈরী করিয়ে কেনা খুবই দামী ব্যাপার, তার ওপরে আবার সেই গুলোকে ভারতের ব্যবস্থা অনুযায়ী তৈরী করে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে – এটাও দাম দিয়ে কিনতে হয় ও তা অনেক সময়েরও ব্যাপার”.

এখানে উল্লেখ করব যে, “তেগ”, “তারকাশ” ও “ত্রিকণ্ড” এই ফ্রিগেট তিনটে নিজের অস্ত্র ভাণ্ডারে রেখেছে শব্দাতীত গতি সম্পন্ন রকেট “ব্রামোস”, যা ভারত ও রাশিয়া একত্রে তৈরী করতে পেরেছে. এই প্রদর্শনী চলার সময়ে “রসআবারোনএক্সপোর্ট” সংস্থা নিজেদের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সহকর্মী দেশের প্রতিনিধি সংস্থাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোচনা করবে, যারা রাশিয়ার পাহারাদার জাহাজ, “গেপার্ড” নামের ফ্রিগেট ও বন্দরের রকেট কমপ্লেক্স “বাস্তিওন” আর জাহাজে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষার জেনিথ রকেট কমপ্লেক্সের উপরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে.

“নেমেকস্পো-২০১৩” প্রদর্শনীর সময়ে রাশিয়ার কোম্পানীদের সঙ্গে একসাথে এখানে অংশ নেবে পঞ্চাশটিরও বেশী বৃহত্তম সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি নির্মাণ কোম্পানী, যারা এখানে এসেছে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, ইজরায়েল আর ভারতেরও.