ওপিসিডব্লিউ’র পর্যবেক্ষকরা এসব তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করে রাসায়নিক অস্ত্রের পরিমান, ধরণ ও তা ধংস করার পূর্ণ প্রক্রিয়া তৈরী করবেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, সিরিয়ার কাছে প্রায় এক হাজার থেকে তের হাজার টন বিষাক্ত টক্সিন গ্যাস রয়েছে। প্রকৃত কাজ হচ্ছে এখন যে, দামাস্কাস থেকে পাওয়া তথ্যের হিসাব মেলাতে সরেজমিনে গিয়ে রাসায়নিক অস্ত্রের পরিসংখ্যান নিয়ে তদন্ত করা। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত পরিদর্শকদের সিরিয়ায় মজুদ থাকা বিষাক্ত গ্যাস নিষক্রিয়করণের কার্যবলী ধাপে ধাপে বর্ননা করবেন। জেনেভায় এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

 উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভালদাই ক্লাবের এক সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সিরিয়া সংকট সমাধানে যে কৌশল অবলম্বন করবে তার আদলেই কাজ করবে সিরিয়ান সরকার। পুতিন বলেছেন, সিরিয়া ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, শুধু ঘোষণা দিয়েছে বললেই ভুল হবে বরং সিরিয়া নিজেকে এখনই রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের একজন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে। এটি একটি বড় বাস্তব সাফল্য যা দামাস্কাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কি যাওয়া সম্ভব হবে?। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে গত কয়েকদিন যাবত আমরা যা দেখছি তা থেকে ধারণা করতে পারি যে, হ্যাঁ, চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব হবে।

 এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেরগেই ইভানোভ ২০ সেপ্টেম্বর স্টকহোমের একটি ফোরামে বলেছেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র দেশটির কোথায় মজুদ রয়েছে তা শুধুমাত্র আগামী সপ্তাহে জানা সম্ভব হবে। আমাদের বুঝতে হবে যে, বাশার আসাদ পুরো সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ করেন না। আমরা এখনও জানি না যে, রাসায়নিক অস্ত্রের বড় মজুদ ভৌগলিক দিক দিয়ে কোথায় অবস্থিত।

 সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র দেশটির বাইরে কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে, কিভাবে এবং কোথায় তা ধংস করা হবে? । এসব প্রশ্নাবলীর সমাধান এখন বিশেষজ্ঞরা চিন্তা-ভাবনা করছেন।

 তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রজোটরা চাচ্ছে যে রাশিয়ার এ প্রশ্ন নিয়ে কাজ করবে। সিরিয়ায় মজুদ থাকা জারিন গ্যাসসহ অন্যান্য রাসায়নিক অস্ত্র রাশিয়ার উরাল অঞ্চলে শুচে শহরে অবস্থিত বিশেষ কারখানায় ধংস করা যেতে পারে বলে মনে করছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা। তবে এক্ষেত্রে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। এমনটি বলছেন রাশিয়ার সমাজ-রাজনৈতিক গবেষণা সেন্টারের পরিচালক ভ্লাদিমির ইয়েভসেভ। তিনি বলেন, যদি রাসায়নিক অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ রাশিয়াকে করতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করে তাহলে ওয়াশিংটনকে এর জন্য সব ধরণের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের মিত্রজোট তুরষ্কের সাথে একটা সিদ্ধান্তে পৌছাবে হবে যাতে করে আংকারা বসফরাস প্রনালী দিয়ে বিপদজনক রাসায়নিক অস্ত্রসহ জাহাজ পরিবহনের অনুমতি দেয়। শুধু রাশিয়া একাই যে গুরুদায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকবে যুক্তরাষ্ট্রকে তা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র তা রাশিয়ার সমস্যা নয়। এটি পুরো আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সমস্যা।

 সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র সরানোর কাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০ হাজার সৈন্যের প্রয়োজন পড়বে। রাসায়নিক অস্ত্র অপসারণের সময়ে বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতি পালন করতে হবে এবং তা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ভ্লাদিমির ইয়েভসেভ। “শধুমাত্র জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলই তৈরী করা নয়, বরং সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দলকে আরো প্রসারিত করতে হবে। ওই দলে রাসায়নিক অস্ত্র থেকে রক্ষা সংক্রান্ত বাহিনীর কর্মীদের রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে যুক্ত করা যেতে পারে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওই দলে স্পেশাস ফোর্সের সেনাদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

 রাসায়নিক অস্ত্রের সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ নাতালিয়া কালিনিনা জানান, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ি, সাধারণত যে স্থানে ওই অস্ত্র মজুদ থাকে তার কাছাকাছি ধংস করতে হয়। আমার মতে অন্য কোথায় পরিবহন করা তা যুক্তিযুক্ত হবে না। তবে রাসায়নিক অস্ত্র ধংস করার জন্য রাশিয়ার উপযুক্ত অবকাঠামো রয়েছে।

যেহেতু বিশেষজ্ঞরা এখনো সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পূর্নাঙ্গ গবেষণা শেষ করতে পারেনি তাই অস্ত্র পরিবহন ও ধংস করার ব্যাখ্য দেওয়ার অর্থ নেই। এসব কাজে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে যে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ ফক্স নিউজকে দেওয়া নিজের সর্বশেষ এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন।