ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্যরা মনে করেন যে, এর-রিয়াদের শাস্তি হওয়া উচিত্ সিরিয়াতে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীদের সহায়তা করার জন্য আর তারই সঙ্গে সব মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সহায়তা করার জন্যই. “সৌদী আরব ও কাতার যে কোন রকমের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকেই সাহায্য করছে, তাদের জঙ্গীদের সিরিয়াতে যুদ্ধ করতে পাঠানোর জন্য. সিরিয়ার পরিস্থিতি সমস্ত এলাকাতেই প্রতিফলিত হয়েছে, আর তার মধ্যে ইরাকেও, যেখানে সেই একই জঙ্গীরা নানা ধরনের সন্ত্রাসবাদী কাজ করছে”, - বলেছেন আশ-শামরি. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৌদী আরব তাদের বর্তমানের পররাষ্ট্র নীতির জন্যই এমনকি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যই একটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীদের সমর্থন করছে, যারা শুধু নিকট প্রাচ্যেই বর্তমানে সক্রিয় নয়.

তারই মধ্যে কিছু বিশেষজ্ঞ যেমন মনে করেছেন যে, এই সমস্যার উত্স রয়েছে অনেক গভীরে ও প্রসারিত ভাবেই. আর তা এই আরব উপদ্বীপ ও এই সমগ্র এলাকার অনেক দূরেই চলে গিয়েছে.

নিকট প্রাচ্য নিয়ে বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন-রায়েভস্কি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“কি রকম করে একটা দেখা যাচ্ছে যে, যেখানেই আমেরিকার লোকরা উদয় হচ্ছে, সেখানেই চলে আসছে “আল- কায়দা”. গত শতকের সত্তরের দশকে আমেরিকার লোকরা সোভিয়েত দেশের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার জন্য আফগানিস্তান ও সৌদী আরবে এবং আরও কিছু অন্যান্য দেশেও জেহাদী রপ্তানী করেছিল. তারা আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনাবাহিনী অপসারণের পরে তৈরী করেছে “আল- কায়দা””.

ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের আগে এখানে কেউই “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর গন্ধও পায় নি. আর অনুপ্রবেশের পরেই সেখানে উদয় হয়েছে “আল-কায়দা” গোষ্ঠীর সক্রিয় এক গঠন, তথাকথিত “ঐস্লামিক রাষ্ট্র ইরাক” নামে, যাদের জঙ্গীরাই আজ ইরাকে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড করছে ও সিরিয়াতে সরকার বিরোধী শক্তিদের হয়ে লড়াই করছে.

গাদ্দাফির শাসনের বছর গুলিতেও লিবিয়ার গুপ্তচর বাহিনী পশ্চিমের একই ধরনের সংস্থাগুলোর সঙ্গে “ঐস্লামিক মাগ্রিবের” দেশগুলোতে “আল- কায়দার” জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াই করছিল. আর তারপরে যখন গাদ্দাফিকে মেরে ফেলা হল, তারপরে এই জঙ্গীরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারল আর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের একটা সবচেয়ে সক্রিয় অংশ হয়েছে. সিরিয়াতে “আল-কায়দা” আগে মাথা তুলতে সাহস করে নি. আর এবারে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্র পেয়ে তারা সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের মধ্যে নেতৃস্থানীয় জায়গা নিয়েছে. এটা ঠিকই যে, খুব কঠিন হবে ওয়াশিংটনকে সন্দেহ করা যে, তারা জেহাদীদের আদর্শের পক্ষে, আবার “আল-কায়দাও” যে আমেরিকার মত করে গণতন্ত্র রোপন করতে চাইছে, সেটা ভাবা কঠিন. কিন্তু বাস্তব বাস্তবই থেকে যাচ্ছে: “আল- কায়দা” সেই সব জায়গাতেই সেই সমস্ত সময়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে এটা আমেরিকার লোকদেরই দরকার হচ্ছে. আর এটাকে হঠাত্ করে হচ্ছে বলে ভেবে নেওয়া তাই আরও কঠিন হয়েই দাঁড়াচ্ছে.