বাশার আসাদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার কোন রকমের সময়ের বিষয়ে বাধা নিষেধ ছাড়াই হয়েছে, আর তার মধ্যে নানারকমের প্রশ্নই করা হয়েছে. তার মধ্যে – সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য কত সময়ের প্রয়োজন হবে, সেটাও. ইংরাজী ভাষায় এই সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময়ে আসাদ উল্লেখ করেছেন এটা দ্রুত হবে না ও বেশ দামী প্রক্রিয়া, তিনি বলেছেন:

“প্রযুক্তিগত ভাবে এটা বেশ কঠিন একটা প্রক্রিয়া, আর তার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন. কিছু মূল্যায়ণ অনুযায়ী সিরিয়ার সমস্ত সঞ্চয় ধ্বংস করার জন্য একশ কোটি ডলার প্রয়োজন. এটা অবশ্যই শুধু মোটামুটি একটা মূল্যায়ণ করে বলা অর্থের পরিমাণ. কত দ্রুত এই সঞ্চয় ধ্বংস করা সম্ভব, তা শুধু বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারেন. এখানে প্রয়োজন রয়েছে একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলার. হতে পারে এর জন্য এক বছর মতো সময় লাগবে, হতে পারে কিছুটা কম ও আবার কিছু বেশীও”.

রাসায়নিক অস্ত্রের একাংশ সিরিয়ার এলাকাতেই ধ্বংস করা সম্ভব হতে পারে. কিন্তু অনেকটাই দেশ থেকে সীমান্ত পার করে নিয়ে যেতে হবে. এই প্রশ্ন নিয়ে ১৪ই সেপ্টেম্বর জেনেভাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি আলোচনা করেছেন. সমস্ত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাই বুঝতে পারেন যে, সেই দেশ, যেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে, সেখানে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়. শেষ অবধি দেশ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া ও বিষাক্ত পদার্থ নষ্ট করে ফেলার খুঁটিনাটি রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার বিশেষজ্ঞদের দিয়েই হতে পারে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ১৭ই সেপ্টেম্বর মস্কো শহরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র প্রধান লোরান ফাবিউসের সঙ্গে দেখা করার পরে বলেছেন যে, মস্কো সিরিয়াতে এই সংস্থার বিশেষজ্ঞদের কাজের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তৈরী আছে. তিনি তাই বলেছেন:

“দেখাই যাচ্ছে যে, বাড়তি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ সেই সমস্ত ভাণ্ডার, যা বিশেষজ্ঞদের প্রথম অধ্যায়ের কাজের পরে ঠিক করা হবে, সেখানে নির্দিষ্ট রকমের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির প্রয়োজন রাখে. রাশিয়া তৈরী রয়েছে, এই ধরনের কাজে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অংশ নিতে, যাতে যেখানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন সেই এলাকার বাইরের দিক বরাবর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে”.

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের মতে, দামাস্কাসের রাসায়নিক অস্ত্র কোথায় ধ্বংস করা হবে, তার উপরে নির্ভর না করেই, রাশিয়াকে সিরিয়ার ভাণ্ডারে নিজেদের তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈব প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে হবে.

সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র মূল্যায়ণ করা হয়েছে প্রায় এক থেকে তিন হাজার টন. এই ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার অপারেশনের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে দাতা রাষ্ট্রদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের তহবিল গড়তে হবে. সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করার জন্য খরচের মূল্যায়ণ এখনই নানারকমের করা হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি বলেছেন যে, এই কাজের জন্য ১৫ কোটি ডলারই যথেষ্ট হবে, আর বাশার আসাদ বলেছেন একশ কোটি ডলার.