কালাশনিকভ অটোম্যাটিক রাইফেল কাউকে আলাদা করে চিনিয়ে দেওয়ার দরকার নেই. অস্ত্র তৈরীর ব্যাপারে এটা একটা সম্পূর্ণ যুগ. তা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৪০ এর দশকের শেষে আর তা এখনও চলবে, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী কম করে হলেও আরও একশ বছর ধরেই. এই ভবিষ্যত বাণী সত্য প্রমাণ করার দায় পড়েছে রাশিয়ার এই হোল্ডিং কোম্পানী “কালাশনিকভের” উপরেই. সারা দুনিয়ায় পরিচিত এই অস্ত্র নির্মাতা মিখাইল কালাশনিকভ, যিনি এই ইঝেভস্ক শহরের কারখানাতেই বহু বছর ধরে কাজ করেছেন, তিনি রাজী হয়েছেন এই কোম্পানীকে নিজের নাম ব্যবহার করতে দিতে. ইঝেভস্ক শহরেই সমস্ত উত্পাদনের কাজ পুরো করা হবে, একেবারে বরাত দেওয়া থেকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য পাঠানো অবধি. তা স্বত্ত্বেও এখানে রাশিয়ার অস্ত্র নির্মাতাদের সমস্ত ঐতিহ্য বজায় রাখা হচ্ছে. কোন এক সময়ে এই ঐতিহ্যবাহী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সামরিক বাহিনীর হাতে পড়ার আগে সমস্ত রকমের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কড়া ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীণ হত, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সিম পপেনকের বলেছেন:

“রাশিয়ার বিশেষত্বের জন্যই, অর্থাত্ তার প্রসারের জন্যই এই অস্ত্র যেমন এশিয়ার চল্লিশ ডিগ্রী গরমে, তেমনই আর্কটিক এলাকার চল্লিশ ডিগ্রী ঠাণ্ডাতেও গিয়ে পৌঁছতে পারত. তার ওপরে আবার একেবারেই নানারকমের লোকের হাতে, তার মধ্যে একেবারেই অনভিজ্ঞ যোদ্ধার হাতেও. তাই এই অস্ত্রের সবসময়েই প্রধান গুণ ছিল: ভরসাযোগ্যতা, সরলতা ও যে কোন ধরনের পরিস্থিতিতেই কাজ করার ক্ষমতা”.

যে গুণের কারণে রাশিয়ার অস্ত্র সারা বিশ্বেই বন্দিত হয়েছে, তা রক্ষা করা হচ্ছে আগামী দিনের সমস্ত নতুন ডিজাইনেও, এই কথা উল্লেখ করে এই “কালাশনিকভ” কনসার্নের তথ্য সম্প্রচার দপ্তরের প্রধান এলেনা ফিলাতভা বলেছেন:

“বর্তমানে ডিজাইন কেন্দ্রে কাজ চলছে ষাটটিরও বেশী আধুনিক গুলি চালনার অস্ত্র নিয়ে. তার মধ্যে যেমন আছে যুদ্ধের অস্ত্র, তেমনই রয়েছে অসামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্রও”.

এক জায়গায় গুলি লাগার ক্ষমতা, কাজের সময় ভরসাযোগ্যতা আর শক্তি কম খরচের উপযোগিতা- এই সব কিছুই কালাশনিকভ সিরিজের সমস্ত অস্ত্রের গুণ, - যা এখনও নতুন যুগের উপযোগী অস্ত্র নির্মাণের সময়ে রক্ষা করা হচ্ছে. বহু রকমের কালাশনিকভ সিরিজের অস্ত্র বর্তমানে সরকারি ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. এরপরে সেই গুলিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছা দেওয়া হবে. “সাইগা” নামের কার্বাইন আরও সংস্কার করা হচ্ছে, যেগুলো ইতিমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশে ভাল কদর পেয়েছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রহরী বাহিনীতেও. নতুন ধরনের স্নাইপারের বন্দুকও তৈরী করা হচ্ছে আর হচ্ছে আধুনিক শিকার করার অস্ত্র. ইঝেভস্ক শহরে এই কনসার্ন লোক চক্ষুর সামনে উপস্থিত করা হতে চলেছে অস্ত্র নির্মাতা দিবসে, রাশিয়াতে যা পালন করা হয়ে থাকে ১৯শে সেপ্টেম্বর. আশা করা হচ্ছে যে, দেশের সেরা অস্ত্র নির্মাতাদের এই দিনে পুরস্কার দেবেন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. এই উত্সবের প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছেন নিজে মিখাইল কালাশনিকভ, যাঁর এই বছরে বয়স হতে চলেছে ৯৪ বছর. এই লিজেন্ডারি অস্ত্র নির্মাতার সারা জীবনের নীতি: “সবচেয়ে জটিলই – তৈরী করা সোজা”, এখনই রাশিয়ার নতুন অস্ত্র তৈরীর কনসার্নের স্লোগান হয়েছে.