“তাতারস্থানে ইসলামের ইতিহাস – খুবই ধনী ও আগ্রহোদ্দীপক. আগ্রহ এই কারণে যে, এখানে যে সংস্কারের কাজকর্ম হয়েছে ও যা জ্ঞানের প্রসার ও পড়াশোনার চর্চার জন্যই করা হয়েছে. অবশ্যই এই ইতিহাসের কোন পাতাই বাদ দেওয়ার দরকার নেই. তাদের মধ্যে একটা হল – এটা তাতারদের মুসলিম সংস্কৃতি, তার মধ্যে বইয়ের সংস্কৃতিও”.

“কাজানের ক্রেমলিনের” যাদুঘরের ভাণ্ডারের থেকে পাওয়া প্রদর্শনীর জিনিষগুলোকে আরও বাড়িয়েছে কাজানের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের যাদুঘরের জিনিষ আর এই প্রদর্শনীর মূল বিষয় নেওয়া হয়েছে তাতারস্থান রাজ্যের বিজ্ঞান একাডেমীর অধীনস্থ সাহিত্য, শিল্প ও ভাষা ইনস্টিটিউটের লিখিত ঐতিহ্যের কেন্দ্র থেকে. এই কেন্দ্রে সংরক্ষিত রয়েছে বর্তমানে ১৬০টি হাতে লেখা কোরান.

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী আলসু হাসাভনেখ বলেছেন:

“এই প্রদর্শনীর বিরল হওয়ার কারণ হল যে, আমরা এই প্রথম হাতে লেখা কোরান প্রদর্শনী করছি. এই কোরান গুলো ১৭-১৯শ শতকের, এই সব দেখার মতো জিনিষের মধ্যে রয়েছে – কোরান, যা বাঁধানো, তা যেমন প্রাচ্যের ধরনে, তেমনই প্রতীচ্যের আদলে. এখানে রাখা কোরানের সবচেয়ে পুরনোগুলো সতেরোশ শতকের প্রথম দিকের. কোন সন্দেহ নেই যে, তাতারস্থানে, যেখানে এর অনেক আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা হয়েছিল, তাদের এর আগেও কোরান দেখে লেখার ঐতিহ্য ছিল. কিন্তু এর চেয়ে আগের সময়ের কোরান আমাদের কাছে নেই – হয় সেগুলো আর সংরক্ষিত নেই, অথবা তা আমরা এখনও খুঁজে বের করতে পারি নি”.

হাতে লেখা বইয়ের জন্য সংরক্ষণের প্রশ্নই বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে প্রদর্শনীতে রাখা সমস্ত কোরানই রয়েছে কাগজে লেখা.

বোঝাই যায় যে, একটা কাগজ অন্যটার চেয়ে আলাদা. যেগুলো তৈরী করা হয়েছে শন বা কার্পাস তুলো থেকে, তা বেশী শক্ত. তার ওপরে হাতে লেখা বই সঠিক পরিবেশে রাখা হলে প্রায় পাঁচশো বা তার থেকে বেশী বছরও সংরক্ষণ করা সম্ভব. আর কাঠ থেকে তৈরী করা কাগজের বই অনেক কম সময় টেকে, তা সাধারণতঃ ১০০ থেকে ২০০ বছর রাখা যেতে পারে.

সতেরোশ শতকে হাতে লেখা কোরানের খুব কমই এখনও রয়েছে, তাই আলসু বলেছেন:

“এই তহবিল মূলতঃ পূর্ণ হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব সংক্রান্ত অভিযানের থেকে. এমন অনেক ঘটনাও ঘটেছে, যখন আমাদের কেন্দ্রের জন্য লোকে নিজেরাই এসে কোরান উপহার দিয়ে গেছেন. আর এই ধরনের অভিযান আমাদের কেন্দ্র বছরে দু’বার করে থাকে, তা ভলগা নদীর পারের সমস্ত এলাকাতেই করা হয়ে থাকে. বোঝাই যায় যে, লোকে খুব একটা স্বেচ্ছায় এই হাতে লেখা বই ছেড়ে দিতে চান না. বিশেষ করে কোরান. কিন্তু আমরা তাদের বোঝাই: যদি এই ধরনের বই বিশেষ ধরনের তাপমাত্রা ছাড়া সংরক্ষণ করা হয়, তবে তা একটা সময়ের পরে স্রেফ গুঁড়ো হয়েই পড়ে যাবে”.

তাতারস্থানের পরিবারে হাতে লেখা কোরান একটা বংশগত ঐতিহ্য. আগে এই পবিত্র বই থাকত প্রত্যেক তাতার পরিবারে, এমনকি যখন ছাপা কোরান পাওয়া যেতে শুরু করল ও তা প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেতে লাগল, তখনও কোরান হাতে করে লেখার ঐতিহ্য থেকে গিয়েছিল, আলসু বলেছেন:

“কোরান হাতে লেখা ব্যাপারটাকে মনে করা হয়েছে একটা পবিত্র কাজ. রমজানের পবিত্র মাসে কোরান হাতে লেখা শুরু করা হত. মনে করা হত যে, যিনি এই কাজ করছেন, তিনি জান্নাতে যাবেন. বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কে এই হাতে লিখেছেন, তা জানা নেই, কারণ আল্লার বাণীর পরে নিজের নাম লেখা স্পর্ধার বিষয়. আমাদের কাছে থাকা শতকরা ৯০ ভাগ কোরানই নাস্খ লিপিতে লেখা”.

এই প্রদর্শনীর দিনগুলোতে এখানে মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে আরব হস্ত লিপি নিয়ে আর “কাজানের ক্রেমলিনে” একটা গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যার নাম “কোরান – মুসলমানদের ধর্মের ঐতিহ্যের গুপ্তধনের ভাণ্ডার”. এই বৈঠকে যোগ দেবেন তাতারস্থান রাজ্যের বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় নেতারা.