Jane’s সংস্থার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়াতে প্রায় এক লক্ষ জঙ্গী কাজ করছে. তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক হল অতি চরমপন্থী, যারা ঐস্লামিক কট্টর পন্থার সমর্থক ও বিদেশী ভাড়াটে সেনা. আরও প্রায় ৩০ হাজার – মধ্যপন্থী ঐস্লামিক লোক. এই কেন্দ্রের বিশ্লেষকরা সঠিক করে বলেন নি যে, তারা ঠিক কি সূচক ব্যবহার করে এই মধ্যপন্থী লোক নির্ণয় করেছেন. তারা শুধু মন্তব্য করেছেন যে, সিরিয়াতে সবচেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠী হয়ে দাঁড়াচ্ছে “ঝেভাত আন-নুসরা” জঙ্গী দল আর “ইরাক ও লেভান্তে নামের জায়গার ঐস্লামিক রাষ্ট্র আন্দোলন”. শেষ গোষ্ঠী – এরা ইরাকের ঐস্লামিক রাষ্ট্র আন্দোলনের সিরিয়ার গোষ্ঠী. এই দুই দলই খুবই ঘনিষ্ঠভাবে “আল-কায়দা” দলের সঙ্গে যুক্ত ও তারা ইতিমধ্যেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাধীন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে খোলাখুলি সামরিক কাজ কারবার শুরু করেছে. এই IHS Jane’s বিশ্লেষণ কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া গিয়েছে সামরিক সংঘর্ষের বিশ্লেষণ করে, বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর নেতাদের সাক্ষাত্কার থেকে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য থেকে.

সেই তথ্য আবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরাও সমর্থন করেছেন. সিরিয়াতে পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘণ তদন্ত পরিষদ ১৬ই সেপ্টেম্বর এই ক্ষেত্রে একটা রিপোর্ট পেশ করেছে. তাতে বলা হয়েছে যে, জঙ্গী গোষ্ঠীর কট্টর পন্থা অবলম্বন এখন ক্রমবর্ধমান গতিতেই চলছে. তার সঙ্গে স্থানীয় জনগনের উপরে সন্ত্রাসের বহরও বেড়ে যাচ্ছে.

“সিরিয়াতে আজ যে ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটছে, তা আমি এমনকি বসনিয়া ও যুগোস্লাভিয়ার অন্যান্য প্রজাতন্ত্র গুলিতেও দেখিনি” – সুইজারল্যান্ডের টেলিভিশন চ্যানেল “আরটিএস” কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিষদ সদস্য ও যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুন্যালের প্রাক্তন অভিশংসক কার্লা দেল পন্তে, তিনি বলেছেন:

“ব্রিটেনের সংস্থার এই খবর যে, প্রায় অর্ধেক জঙ্গীই এখন জেহাদী, তা সম্পূর্ণ ভাবেই সঠিক. আমি বরং বলব যে, সিরিয়াতে জেহাদী এখন অর্ধেকের চেয়ে অনেক বেশী”.

নিজের পক্ষ থেকে, কমিশনের প্রধান পাওলা পিনিইয়েরা ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়াতে সম্পূর্ণ রকমের বিচার ও শাস্তি না থাকার জন্যেই দেশের জনগনের উপরে গণ হারে হত্যা ও অত্যাচার চলছে. বিশেষ করে এটা দেশের উত্তরাংশ নিয়ে বলা যেতে পারে, যেখানে প্রধানতঃ “আন-নুসরা ফ্রন্ট” ও “ইরাক ও লেভান্তে ঐস্লামিক রাষ্ট্র” গোষ্ঠী কাজ করছে. তার ওপরে আবার এই জঙ্গীদের পক্ষ থেকে কোন রকমের শাসন মানতে না চাওয়া বাড়ছে, বাইরের দেশগুলো থেকে তাদের এখানে সংখ্যা বাড়ার অনুপাতেই, তাই পিনিইয়েরা বলেছেন:

“বিগত ছয় সপ্তাহ ধরে খুব বেশী করেই সরকার বিরোধী চরমপন্থী জঙ্গীদের তরফ থেকে বিদেশী সাংবাদিকদের অপহরণ করার মতো সেই ধরনের খবর বেড়ে গিয়েছে. পুরো উত্তর সিরিয়া জুড়েই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে চরমপন্থী প্রশাসন বিরোধী গোষ্ঠীদের পক্ষ থেকে অপরাধের সংখ্যা খুবই বেশী রকমের বেড়ে যাওয়া. একই সময়ে এখানে লক্ষ্য করা গিয়েছে বাইরের দেশ থেকে আসা জঙ্গীদের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাওয়া. আজ বিদেশী সেনা দিয়ে তৈরী পুরো ব্রিগেড দেখতে পাওয়া যাচ্ছে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী আজকের দিন অবধি সিরিয়াতে এই বিরোধের বলি হয়েছেন এক লক্ষেরও বেশী লোক. দেশের কুড়ি লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে বাইরের দেশে পালাতে বাধ্য হয়েছেন. আরও ষাট লক্ষ সিরিয়ার নাগরিক দেশে ভেতরেই উদ্বাস্তু হয়েছেন. গৃহযুদ্ধের কারণেই তাঁরা নিজেদের বাড়ীঘর ও এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন.

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে মঙ্গলবারে জানানো হয়েছে হোমস শহরে ঐস্লামিক গোষ্ঠী “ঝেভাত আন-নুসরা” ও অন্য জঙ্গী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াইয়ের খবর. ২২ জন নিহত হয়েছেন.