মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাতেই আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে. দেশ আজ নতুন হওয়া এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে নিহতদের উদ্দেশ্যে শোক দিবস পালন করছে. সোমবার ভোর বেলায় আমেরিকার রাজধানীর একেবারেই কেন্দ্রীয় এলাকায় – মোটামুটি ক্যাপিটল থেকে আধ কিলোমিটার দূরে, মার্কিন সামরিক নৌবহরের সদর দপ্তরের একটি বাড়ীতে গুলি চালনার ফলে ১২জন নিহত হয়েছেন. এই হত্যাকাণ্ড করেছে এক আফ্রোআমেরিকান অ্যারন আলেক্সিস.

আলেক্সিস অসামরিক আইটি বিশেষজ্ঞ ছিল. সে কাজ করত ফ্লোরিডায় সদর দপ্তর থাকা এক “এক্সপার্টস” নামের কোম্পানীতে. তার ছিল একটা পরিচয় পত্র, যা তাকে আমেরিকার সামরিক নৌবহরের কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার সম্ভাবনা করে দিয়েছিল. তার ওপরে আবার শেষবার তার জন্য এই ধরনের কড়া পাহারার জায়গায় ঢোকার ও গোপনীয় তথ্য জানার জন্য পরিচয় পত্র নতুন করে দেওয়া হয়েছিল এই বছরেরই জুলাই মাসে, তাও আবার সামরিক বাহিনীর লোকদের কথামতো, খুবই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখার পরেই. এর আগে এই ছেলেটি চুক্তিবদ্ধ হয়ে জাপানে কাজ করেছে ও খুবই আসন্ন সময়ে তার কথা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দপ্তর “নেভি ইয়ার্ড” নামের জায়গায় কাজ শুরু করার. কিন্তু তার জায়গায় সে অজ্ঞাত কারণে এই গুলিবর্ষণ করেছে. এই বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের সময়ে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন:

“আমরা অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত বিপদের সঙ্কেত শুনতে পেয়েছিলাম ও দেখতে পেয়েছিলাম এক প্রহরীকে. সে আমাদের বিশেষ ধরনের এক লুকিয়ে থাকার জায়গায় যেতে বলে করিডর দিয়ে দৌড়ে চলে গিয়েছিল. আমরা দেখতে পেয়েছিলাম যে, লোকরা অন্যান্য তলা থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে, আর শুনতে পেয়েছিলাম গুলি চালনার আওয়াজ. আমি যতক্ষণ এই বাড়ীতে ছিলাম, ততক্ষণ কম করে হলেও সাতটা গুলির আওয়াজ গুনে দেখেছি. আমি যে গুলি করছে তাকে দেখিনি, আর গুলি চালনা হয়েছে হয় তিন কিম্বা চার তলাতেই”.

বিশেষ বাহিনীর এবারে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে. প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে যে, এই দপ্তরে খুবই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে – সেখানে সশস্ত্র প্রহরা ও ধাতু খুঁজে দেখার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে একেবারেই ঢোকার মুখে. তাহলে কি করে এই সম্ভাব্য ১২জনকে হত্যা করা অপরাধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌবাহিনীর একেবারে ওয়াশিংটনের কেন্দ্রে থাকা দপ্তরে ঢুকতে পেরেছে একটা আক্রমণ করার রাইফেল, পিস্তল ও শটগান নিয়ে? প্রশাসন বলছে যে, আলেক্সিস একাই এই কাণ্ড করেছে – পুলিশ আর কাউকে এখন খুঁজছে না.

বলা হচ্ছে যে, অ্যারন আলেক্সিস জুলাই মাসে খুবই খুঁটিয়ে পরীক্ষা পার হয়েছে. কিন্তু এই রকম তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে যে, তাকে কম করে হলেও দু’বার পুলিশ আটক করেছিল, আর তার মধ্যে অস্ত্র বহনের আইন ভঙ্গ করার জন্যেও.

ওয়াশিংটনে এই ট্র্যাজেডির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে. সোমবারে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, কংগ্রেসের অধিবেশনও বন্ধ রাখা হয়েছিল.