ভারতের সামরিক বাহিনীর লোকরা এই ব্যাপারকে বক্রভাবে হলেও সমর্থনই করেছেন. তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, ভারত আরও দূর পাল্লার রকেট তৈরীর ক্ষমতা রাখে, তবে আপাততঃ তার কোনও প্রয়োজন নেই. বাস্তবিক অর্থেই কেনই বা রকেট তৈরীর জন্য খরচ করা হবে, যেগুলো সেই সব দেশের এলাকায় গিয়ে পড়তে পারে, যাদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন রকমের সমস্যাই নেই?

মনে করিয়ে দিই যে, এর আগে “অগ্নি-৫” এর পরীক্ষা, যা গত বছরের এপ্রিল মাসে করা হয়েছিল, তা যেমন বেজিংয়ে একটা স্নায়ু উত্তেজক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল, তেমনই হয়েছিল ইসলামাবাদেও. প্রসঙ্গতঃ, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল একটা আন্তর্মহাদেশীয় রকেট তৈরী করা, যার উড়ানের পাল্লা পাঁচ হাজার কিলোমিটার আর যেটা পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে, তা পাকিস্তানের জন্য তৈরী করার কোন মানে হয় না. তার চেয়ে পুরনো “অগ্নি-৩” বা “অগ্নি-৪” রকেটই, যা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার উড়ে যেতে পারে – সেগুলোই এর জন্য যথেষ্ট. এর সঙ্গে আরও যোগ করব যে, ভারতের অস্ত্র ভাণ্ডারে আর পাকিস্তানেও রয়েছে অনেক আরও কম পাল্লার রকেট, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“নতুন ও ইতিহাসে দ্বিতীয়বার হওয়া এই পরীক্ষার পরে সব মিলিয়ে মন্তব্যের সুর ছিল একই রকমের: ভারত রকেট পরীক্ষা করেছে, যা চিনের যে কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছতে পারে. এই ভাবেই, ভারত একেবারে সরাসরিই নিজেদের নিয়ে এশিয়াতে নেতৃত্বের জন্য ঘোষণা করে দিয়েছে, যারা চিনের একতরফা আগ্রাসনকে রুখতে সক্ষম”.

এখানে আমরা কোন মন্তব্য করব না সেই বিষয় নিয়ে যে, বর্তমানে ভারতের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই রকেট-পারমাণবিক পরিকল্পনা কতখানি যথার্থ হয়েছে. শেষমেষ দেশের প্রতিরক্ষা – সব কিছুরই উর্ধে আর তা সেই সমস্ত মাত্রা দিয়ে হিসাব করা যেতে পারে না, যা দিয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় খরচের হিসাব করে দেখা হয়. তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“একটা প্রশ্ন উত্থাপন করব: এশিয়াতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের সামরিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব করার জন্য অস্ত্র প্রতিযোগিতা কতটা সব মিলিয়ে সেই ভারতবর্ষেরই জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সক্ষম হবে? আজকের দিনে চিন ভারতকে রকেট- পারমাণবিক ক্ষেত্রে অস্ত্রের বৈচিত্রে অনেক বেশী পিছনে ফেলে দিয়েছে, আর তা রকেটের দূর পাল্লায় ওড়ার ক্ষেত্রেও. আর খুবই স্বাভাবিক যে, চিনে ভারতের এই নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরী নিয়ে পরিকল্পনা নজর এড়িয়ে যেতে পারবে না”.

কিন্তু একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তফাত রয়েছে, আর এটার ওপরেই সোমবারে ভারতের “ডিআরডিও” সংস্থার প্রধান অবিনাশ চান্দের আলতো করে উল্লেখ করেছেন. তাঁর কথামতো, “ভারত ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উড়ে যাওয়ার মতও রকেট তৈরী করতে সক্ষম, কিন্তু তার জন্য কোন কার্যকর প্রয়োজনীয়তা দেখতে পাচ্ছে না, যা বর্তমানে থাকা হুমকির উপরে বিচার করেই দেখা হয়েছে”. এই প্রসঙ্গে আবারও ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই বক্তব্যেই – রয়েছে এশিয়ার পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে বুঝে ফেলার চাবিকাঠি. চিনের জন্য বহু দূরে উড়ে যাওয়ার মতো রকেট - একেবারেই জীবন রক্ষার খাতিরে প্রয়োজন, যখন তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের এলাকাতে মনোযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে. আর, নিজেদের রকেট অস্ত্রের শক্তি বৃদ্ধি করে, ভারতবর্ষ বাস্তবে অন্যের খেলাতেই যোগ দিচ্ছে, যারা ভূমিকা নিয়েছে এই ক্রীড়নকের ছোট সহযোগীর আর ওয়াশিংটনের নীতি প্রসারের এক “বিশ্বস্ত অনুচরের”, যারা কিছু একটা হলেই, খুবই আনন্দের সঙ্গে মহাসাগরের ওপার থেকে নিজেদের এশিয়ার সহচরের উপরে মূল ভার অর্পণ করবে, আর তার পরে তাদের ওপরেই রাজনৈতিক দায়িত্ব অর্পণ করবে”.

এই ধরনের পরিস্থিতিতে খুব সম্ভবতঃ, উত্তেজনা কমানোর পথ রয়েছে যা সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে রয়েছে, তার চেয়ে ক্ষমতায় কম হবে না এমন, নতুন ধরনের অস্ত্র নির্মাণের মধ্যেই নয়, বরং উল্টো – ভরসা বাড়ানোর ব্যবস্থার মধ্যেই আর অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্যেও, এই রকমই মনে করেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ. তার ওপরে যেমন চিনের জন্য ভারত, দুই দেশের মধ্যে সমাধান না হওয়া রাজনৈতিক সমস্যা থাকা স্বত্ত্বেও ইতিমধ্যেই প্রধান বিদেশ বাণিজ্যের সহকর্মীতে পরিণত হতে পেরেছে. আর সেই ধরনের পরিস্থিতি কি তৈরী করার দরকার রয়েছে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামরিক- রাজনৈতিক অংশ অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পথে অন্তরায় হতে পারে?