রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা কৃষ্ণ সাগরের তীরে রয়েছে. এটা একসারি ভবন, যেখানে রয়েছে: লেখাপড়া করার ভবন, ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা করে ফ্ল্যাট, আর তারই সঙ্গে একটা বড় সম্মেলনের উপযুক্ত প্রেক্ষাগৃহ. নতুন এই অলিম্পিকের বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বিশ্ব থেকেই আসা ছাত্ররা পারবে খেলা নিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞান করায়ত্ব করতে. প্রথমবারে যাদের বেছে নেওয়া হয়েছে, তারা বিশ্বের সমস্ত মহাদেশেরই প্রতিনিধি. সব মিলিয়ে ২৭ জন, তাদের মধ্যে ৯ জন রাশিয়ার নাগরিক. ইভান বেলিয়ায়েভ এখানে এসেছে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে. সে বলেছে যে, খুবই মনস্থির করে সে খেলাধূলার ম্যানেজমেন্ট পড়ার উপযুক্ত প্রোগ্রামের খোঁজ করেছিল, আর অবশেষে তা পেয়েছে এই সোচী শহরেই, সে তাই বলেছে:

“আমার ব্যাচেলর ডিগ্রী পড়ার তৃতীয় বছরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, অন্যান্য নিয়মিত ম্যানেজমেন্টের তুলনায় আমার খুব ইন্টারেস্টিং লাগে এই স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ব্যাপারটা. ওই গুলো ব্যাঙ্ক অথবা কোম্পানীগুলোতে কাজের সুযোগ করে দেয়. আমার মনে হয়েছিল যে, এটা খুবই বিরক্তিকর, তাই আমি একেবারে লক্ষ্যস্থির করেই স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের প্রোগ্রাম খুঁজতে শুরু করেছিলাম. কয়েকটা সেই রকমের পেয়েও ছিলাম, তার মধ্যে ইংল্যান্ডে, কানাডা আর সোচী শহরে. পরে চিন্তা করে সোচী শহরকেই বেছে নিয়েছি”.

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ইউনিভার্সিটির লেখাপড়ার প্রোগ্রাম খুবই অনন্য ধরনের. তা তৈরী করার কাজে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের সমস্ত নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা. তা তৈরী করাই হয়েছে অলিম্পিকের খেলাধূলার প্রস্তুতির অভিজ্ঞতার উপরে ভর করে. এখানে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা করার অভ্যাস আয়ত্ব করতে পারবে. তারা যেমন অলিম্পিকের খেলাধূলা, তেমনই শহরের মধ্যেই খেলাধূলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারবে, পারবে বড় ষ্টেডিয়াম যেমন ম্যানেজ করতে, তেমনই সাধারণ স্পোর্টস স্কুলও চালাতে.

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর লেভ বেলোউসভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আজ সোচী শহরে একসাথে দুটো উত্সব হচ্ছে: একটা আধুনিক আরামদায়ক ক্যাম্পাসের উদ্বোধন, আর অন্যদিকে – আমরা আমাদের প্রধান পড়াশোনার প্রোগ্রামেরও স্টার্ট করছি: স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট করার উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ তৈরী করা. আমি আপনাদের জোর দিয়েই বলতে পারি, এই ধরনের সম্পূর্ণ রকমের প্রোগ্রাম বিশ্বে কোথাও নেই. আজকের দিনে এটাই সেরা, কারণ তা তৈরী করেছেন সবচেয়ে ভাল বিশেষজ্ঞরাই, যারা স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে পেশাদার, যাদের আমরা সারা পৃথিবী থেকেই এখানে ডেকে এনেছি”.

রেক্টরের কথামতো, অলিম্পিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থাই করা হয়েছে: আধুনিক অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরী, খাওয়ার জায়গা ও বিশ্রামের জায়গা. থাকার অ্যাপার্টমেন্ট, যেখানে রয়েছে শোয়া, রান্না করা আর আলাদা করে বসার জায়গা. পরিচালন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনাতে এই বছরের হেমন্তেই আগামী পড়াশোনার বছরের জন্য ছাত্র নেওয়া শুরু করা হবে. যদি এই বছরে প্রথম কোর্সে ছাত্র সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কারণেই সীমিত থেকে থাকে, তবে আগামী বছরে ছাত্রসংখ্যা বেড়ে হবে তিনগুণ. আর প্রথম যেসব ছাত্রছাত্রীদের অলিম্পিক ইউনিভার্সিটিতে নেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে একটা অতুলনীয় উপহার. তাদের সম্ভাবনা করে দেওয়া হবে নিজেদের পাওয়া জ্ঞান ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকেই ব্যবহার করার জন্য.