অক্টোবরের মাঝামাঝিই রাশিয়ার ‘বিজয়ের পঞ্চাশ বছর’ নামক সর্ববৃহত্ ড্রেজার মুর্মানস্ক থেকে পাড়ি দিয়ে উত্তর মেরুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে. হাতে সময় খুব কম, শরতের মাঝামাঝি ড্রেজারের জন্য বরফ কাটা খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে – বলছেন ড্রেজারের ক্যাপ্টেন ভালেন্তিন দাভেলিয়ান্তস. –

সাধারণতঃ অক্টোবর মাসটাকে জটিল বলে গণ্য করা হয় উত্তর মেরুতে যাওয়ার জন্য, তবে আমরা আশা করছি, যে আমরা আমাদের কর্তব্য পূরণ করতে সমর্থ হব. আমরা আমাদের সমস্ত অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করবো, যাতে অলি্পিক অগ্নিশিখার যাত্রা কোথাও ব্যাহত না হয়.

আশা করা যাচ্ছে ২০শে অক্টোবর নাগাদ ড্রেজারটি উত্তর মেরুতে পৌঁছে যাবে. স্বেতভল্লুকগুলো, যারা মেরুযাত্রীদের কাছ থেকে খাবার ভিক্ষা করে খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, এবার অবাক হয়ে যাবে. এবার জাহাজ থেকে খাদ্যদ্রব্য নয়, নামানো হবে জ্বলন্ত অগ্নিশিখা. এই অভিযানে আমাদের সাথী হবে ক্যানাডা, আমেরিকা ও উত্তর মেরু অঞ্চলে নিয়মিত যাতায়াতকারী অন্যান্য দেশের লোকেরাও. আর এই দলটির নেতৃত্ব দেবেন রাশিয়ান জিওগ্র্যাফিক সোসাইটির অধ্যক্ষ আর্তুর চিলিনগারভ. –

আজকের দিনে উত্তর মেরুকে আয়ত্ত্ব করার জন্য রাশিয়ার যে সামর্থ্য আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের নেই. সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা যেন এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাই, যেখানে বরফের উপর নামা যেতে পারে.

অগ্নিশিখার যাত্রার অন্য পর্যায়গুলোও কম আবেগপ্রবণ হবে না. ১লা ফেব্রুয়ারী ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে দুইজন পর্বতারোহী ঐ অগ্নিশিখা বহন করে নিয়ে যাবেন. তারা সেখানে অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করে পর্বতের ঢাল বেয়ে স্লিপ করে নেমে আসবেন. এই সম্পর্কে জানাচ্ছেন অলিম্পিকের মুখ্য সংগঠক দমিত্রি চের্নীশেনকো. –

অগ্নিশিখা বহন করে আনবেন অন্যান্য ক্রীডবিদরা – স্কি-রেসাররা, স্নো-বোর্ডের খেলোয়াড়রা. মনে হয় এরকম চিত্তাকর্ষক রিলে-রেসের সাথে ভবিষ্যতেও কেউ পাল্লা দিতে পারবে না – বলছেন তিনি.

রিলে-রেসের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়-তাকে বৈকাল হ্রদের তলায় নামানো. এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এর প্রস্তুতি চলেছে. লঞ্চে করে অগ্নিশিখা সেখানে নিয়ে গিয়ে দুইজন ডুবুরির হাতে তুলে দেওয়া হবে, যারা পৃথিবীর গভীরতম হ্রদের একেবারে তলায় বয়ে নিয়ে যাবেন ঐ অগ্নিশিখা. সংগঠকরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যে জলের নীচেও ঐ আগুন নিভবে না. তবে উন্মুক্ত মহাকাশে কিন্তু অগ্নিশিখা জ্বলবে না. কিন্তু ইতিহাসে প্রথমবার অলিম্পিকের অগ্নিবর্তিকা মহাকাশে নিয়ে যাওয়া কিন্তু সত্যিই চিত্তাকর্ষক- তাই নয় কি ?