আন্তর্জাতিক ভাবে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্নগুলোতে রাশিয়া ও ইজিপ্টের দৃষ্টিকোণ বাস্তবে প্রায় এক. এই বিষয়ে সের্গেই লাভরভ তাঁর সহকর্মী নাবিল ফাহমির সঙ্গে আলোচনার পরে ঘোষণা করেছেন.

তাঁদের আলোচনার সময়ে কথা হয়েছে কি করে এই বৃহত্তম আরব রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে. এই দীর্ঘসূত্রী রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে ইজিপ্টের বেরিয়ে আসার পথ ইজিপ্টের জনগনই বাইরের থেকে কোন রকমের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেরাই বের করবেন, এই রকম মনে করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“আমরা একটা বিষয়ে বিশ্বাস করি যে, ইজিপ্টের জনগনই নিজের থেকে সঠিক সমাধান খুঁজে বের করতে পারবেন, যা এই এলাকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে. আর আমরা এর জন্য সাধ্যমত সাহায্য করতেও প্রস্তুত রয়েছি, দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন রকমের হস্তক্ষেপ না করার অবস্থান থেকেই”.

এই আলোচনার একটি আরও বিষয় ছিল সিরিয়ার পরিস্থিতি ও রুশ - আমেরিকার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া নিয়ে. কায়রো সবদিক থেকেই মস্কোর উদ্যোগকে সমর্থন করে. তার চেয়েও বেশী করে নাবিল ফাহমি ঘোষণা করেছেন যে, শুধু সিরিয়ার সঞ্চয় দিয়েই এই বিষয় শেষ হওয়া উচিত্ হবে না. তাঁর মতে, সমগ্র নিকটপ্রাচ্যকেই এই ধরনের এক এলাকায় পরিণত হতে হবে, যেখানে কোন রকমের গণহত্যার অস্ত্রই থাকবে না. এই প্রসঙ্গে মস্কো ও কায়রোর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করার দরকার রয়েছে, যা এই প্রশ্নের আলোচনার কারণেই করার দরকার রয়েছে.

সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, ইজিপ্ট সিরিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ও “জেনেভা – ২” সম্মেলনের আয়োজনের পক্ষে. কিন্তু যদিও সিরিয়ার প্রশাসন বহুদিন আগেই এই সম্মেলনে নিজেদের প্রতিনিধি দল প্রেরণ করতে তৈরী হয়ে থাকে, তবুও সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ কোন রকমের আলোচনার টেবিলে বসতে রাজী নয়, এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক দপ্তরের প্রধান বলেছেন:

“সেই পক্ষ আপাততঃ কোন রকমের সহমত পোষণ করছে না, তারা যে কোন রকমের পদক্ষেপকেই এড়িয়ে যাচ্ছে, যা এই পরিস্থিতিকে একটা ধ্বংস মূলক জায়গা থেকে গঠনমূলক বিষয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে. যাতে এটা (সম্মেলনের আহ্বান) করা সম্ভব হয়, তাই আগে প্রমাণ করে দিতে হবে, এমনকি আমি নিজেও জানি না, আমরা সব সময়েই এই কথাটা ব্যবহার করছি, বিরোধী পক্ষকে প্রমাণ করে দিতে হবে সম্মেলনে যোগদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. আমার বোধ হয়েছে যে, এবারে সময় এসেছে অন্য একটা ক্রিয়াপদ ব্যবহারের: বিরোধী পক্ষকে সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাধ্য করতে হবে”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তৈরী রয়েছেন মস্কো শহরে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জাতীয় জোটের নেতাকে আসতে বলতে. তাঁর কথামতো, যাতে সিরিয়াতে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায়, তার জন্য এই বিরোধের সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই পারস্পরিক ভাবে কাজ করার, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা শুধু সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জন্য সম্মেলন আহ্বানের জন্য রুশ-মার্কিন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাই বলছি না. আমরা কাজ করছি বিরোধীদের সঙ্গেও, আর আমাদের কাছে প্রায় সমস্ত বিরোধী পক্ষের নেতারাই ঘুরে গিয়েছেন, একমাত্র এই জাতীয় জোট বাদে, যাদের কাছেও আমন্ত্রণ রয়েছে”.

তারই মধ্যে, কবে সিরিয়া সঙ্কটের সমস্ত পক্ষই আলোচনার টেবিলে বসতে পারবে, তা রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায় আপাততঃ বলা কঠিন. সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, এবারে সময় হয়েছে সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার. সম্ভবতঃ, তা করা হবে আগামী মাসেই.