ইয়াসিনের সঙ্গে ফাইনালে উপস্থিত হয়েছিলেন আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা – ইজিপ্ট, লিবিয়া, টিউনিশিয়া, কুয়েইত ও বাহরিন থেকে, জ্যুরি বোর্ডের সদস্যরা – হাফিজ ও লেবানন, তুরস্ক, সুদান ও রাশিয়ার ধর্ম গুরুরা – সকলেই এক বাক্যে প্রথম স্থান দিয়েছেন সিরিয়ার এই প্রতিযোগীকে. পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের পরে ইয়াসিন রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিকে একটি সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

“আমি রাশিয়া ও ব্যক্তিগত ভাবে মুফতির প্রতি এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞ, কারণ সব কিছুই হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে আর তা ইসলাম আরও ভাল করে গেড়ে বসার জন্যই কাজ করবে. আমি পবিত্র কোরান পড়েছি দামাস্কাসে, দুই বছর আগে এই পথে নেমেছি – কোরান মুখস্থ করা নিয়ে. বহু প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি. এখানে ফাইনালে একটু নার্ভাস বোধ করেছি, কারণ আমার সঙ্গে যাঁরা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন, তাঁরা সকলেই উপযুক্ত ব্যক্তি. মস্কো শহরে যে আরব দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতা করছেন, এটাই নিজের থেকে একটা উল্লেখ করার মতো ঘটনা.

আমাদের দেশ সিরিয়াতে এখন পরিস্থিতি খুবই সঙ্কট জনক, আর আমি আল্লার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি, যাতে তিনি আমাদের এই পরীক্ষা পার হয়ে যাওয়ার শক্তি দেন”.

প্রতিযোগিতার ফাইনালের আগে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার মুসলমানদের মুফতিদের সভার সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন – যিনি আবার মস্কোতে আন্তর্জাতিক কোরান পাঠের প্রতিযোগিতার সভাপতিও, তিনি বলেছেন:

“আমরা রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে কৃতজ্ঞ, যাঁরা প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করেছেন সিরিয়ার সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করার জন্যই. আমাদের দেশ দাবী করেছে ও আশা করবো যে, এর পরেও দাবী করবে, যাতে সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বার্থ মেনে চলা হয় ও স্বাধীন দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন রকমের শক্তিই বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ না করে. আমরা লিবিয়া ইরাক ও আফগানিস্তানের উদাহরণে দেখতে পেয়েছি যে, বাইরের হস্তক্ষেপের ফল কি হতে পারে. কোন শক্তি দিয়েই এই সব দেশে গণতন্ত্র স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না. বরং উল্টো, সমাজেরই খালি ভাগ হয়ে যাচ্ছে, দেশই খালি খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে. আমরা আশা করব যে, আমাদের কূটনীতিবিদদের শক্তি প্রয়োগের ফলে জেনেভাতে সিরিয়া নিয়ে সম্মেলন করা হলে সিরিয়াতে শান্তি ফিরে আসবে”.

রাশিয়ার মুফতি সভার উদ্যোগে কোরান পাঠের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা প্রতি বছরেই মস্কো শহরে আয়োজন করা হয়. এই বারের অনুষ্ঠানের একটা বিশেষত্ব রয়েছে: ২০১৩ সালকে রাশিয়াতে পরিবেশ সংরক্ষণ বছর বলে ঘোষণা করা হয়েছে. দুই হাজারের বেশী মস্কো বাসী, যাঁরা এবারে ফাইনালের প্রতিযোগীদের শুনতে এসেছিলেন, তাঁরা একটি তথ্যচিত্রও দেখেছেন পরিবেশ সংরক্ষণের সমস্যা নিয়ে.

এটা ঠিক যে, কোরান পাঠের প্রতিযোগিতায় মস্কোতে মুখ্য হয়েছেন সেই সব প্রতিযোগীরাই, যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন. সিরিয়া থেকে আসা ইয়াসিন আল-খুমভি ছাড়া, যাঁরা পুরস্কার পেয়েছেন – তাঁদের মধ্যে ইজিপ্টের মুহম্মদ আল-মালাওয়ানি পেয়েছেন দ্বিতীয় পুরস্কার, লিবিয়া থেকে আসা খলিফা এরমাল্লি পেয়েছে তৃতীয় পুরস্কার, শ্রোতাদের পছন্দের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে কুয়েইত রাষ্ট্রের ওটমান আশ-শালান নামের প্রতিযোগীকে.

এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার হয়ে অংশ নিয়েছে দাগেস্তানের হাফিজ – মাখাচকালা শহরের ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল গাজী ইলিয়াসভ. রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধির কাছে শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে কোরান পাঠের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী রাশিয়ার মুসলমান প্রজাতিদের কোন প্রতিনিধি, তাই তিনি বলেছেন:

“তাতার, চিচনিয়ার লোক, দাগেস্তানের লোকদের মধ্যেও খুব ভাল হাফিজ রয়েছেন. আমি বিশ্বাস করি যে, তাঁদের সংখ্যা খালি বাড়তেই থাকবে, আর আমরা এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জেতার সুযোগও পাবো”.

আর আমরা এবারের প্রতিযোগিতা নিয়ে আমাদের বিবরণের শেষে শ্রোতাদের জন্য আল-বকর সুরা থেকে একটি আয়াত শোনার ব্যবস্থা করছি, যা সিরিয়া থেকে এই ইয়াসিন আল-খুমভি আবৃত্তি করেছেন.