নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রার্থীপদ ইতিমধ্যেই নোবেল কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে. অন্তত সেই কথা বলেছেন সারারাশিয়া শিক্ষা তহবিলের প্রধান সের্গেই কামকোভ. আর ঐ সংস্থার বিশেষজ্ঞ ওলেগ সের্গেইয়েভের মন্তব্য শুনুন এই প্রসঙ্গে. –

গত সপ্তাহে সারারাশিয়া শিক্ষা তহবিল নোবেল কমিটির ঠিকানায় এই সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে, যাতে ভ্লাদিমির পুতিনকে এবার এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়. মিখাইল গর্বাচোভকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল সেই সময়ে আফগানিস্তানে যুদ্ধে ইতি টানার কৃতিত্বের জন্য. ওবামাও ঐ পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর শান্তিস্থাপক উদ্যোগগুলোর কৃতিত্বে. পুতিনের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, যে সিরিয়া সহ গোটা নিকট প্রাচ্যে শান্তিস্থাপন করার পেছনে তার প্রচেষ্টারও ন্যায্য মূল্যায়ণ করা উচিত.

রুশী পন্ডিতদের পাশাপাশি ইউরোপেও ভ্লাদিমির পুতিনকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে আওয়াজ ক্রমশঃই বাড়ছে. যেমন ফ্রান্সে পুতিনের প্রার্থী পদের সমর্থনে সই সংগ্রহ শুরু হয়েছে, ঠিক কামকোভের করা সুপারিশের মতোই. আর ইতালির রাজধানী রোমে লোকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঘুরছে, যেখানে লেখা – “আমি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একমত.” ‘ওবামা ডাস গ্লোবালিস্তান’ বইয়ের লেখক ও ‘এশিয়া টাইমস’-এর সংবাদদাতা পেপে এস্কোবার বলছেন, যে পুতিনের অবস্থান অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তাঁর সমর্থকদের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে. –

আমি চাইছি, যাতে সারা পৃথিবীতে এই প্রশ্নে গণভোট নেওয়া হয়. আমার মনে হয় যে, ভ্লাদিমির পুতিন অনায়াসে জিতবেন.

স্ট্র্যাটেজিক যোগাযোগ কেন্দ্রের দমিত্রি আবজালোভ মনে করেন, যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার উত্তম সম্ভাবনা আছে ভ্লাদিমির পুতিনের. –

এটা নির্ভর করবে নোবেল কমিটিতে কে কার পক্ষ সমর্থন করবে তার ওপরে. বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়. নোবেল শান্তি পুরস্কার সবচেয়ে বেশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পুতিনের সম্ভাবনা ভালোই, কারণ ইদানীং অনেকেই নিকট প্রাচ্যে সমস্যা নিষ্পত্তির ব্যাপারে সাহায্য করার জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন.

যাই হোক না কেন, এবছর ভ্লাদিমির পুতিন নোবেল পুরস্কার পাবেন না, কারণ সুপারিশ ফেব্রুয়ারী শেষ হওয়ার আগেই জমা দেওয়ার দরকার ছিল. আর পরের বছর তিনি এই পুরস্কার পাবেন কিনা, সেটা বহুলাংশে নির্ভর করবে সিরিয়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় – তার উপরে.