কিরগিজিয়ার রাজধানীতে আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতিতে নিরাপত্তার সর্বজনীন সমস্যাগুলো সাসস শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য হতে চলেছে. বোধহয় যে, এই শীর্ষ সম্মেলনের অর্ধেকের বেশী সময় দেওয়া হবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, চরমপন্থা ও মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই নিয়েই. নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচ্যের মধ্যে মুখ্য এক বিষয় রয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান সংক্রান্ত প্রশ্ন. সাসস এই প্রসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে যে, আফগানিস্তানের জাতীয় শান্তির প্রশ্নের সমাধান হওয়া উচিত আফগানিস্তানের লোকদের নেতৃত্বে ও আফগানী মানুষদের মধ্যেই. মনে তো হয় না যে, এই সম্মেলনের পরে করা ঘোষণাতে ২০১৪ সালে পরিকল্পিত পশ্চিমের জোটের সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার নিয়ে কোন একটা নির্দিষ্ট মূল্যায়ণ দেওয়া হবে. কিন্তু বিশ্ব সমাজের প্রতি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের মুখ্য যোগ সাধনের ভূমিকা নিয়ে ও আফগানিস্তানের নাগরিকদেরই সহযোগিতা করা ও দেশের পুনরুদ্ধার করা নিয়ে বাধ্যতামূলক ভাবেই বলা হবে.

এটা স্বাভাবিক যে, রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারা সিরিয়া সঙ্কটের প্রসঙ্গ বাদ দিতে পারবেন না. খুব সম্ভবতঃ, এই দলিলে উল্লেখ করা হবে সিরিয়ার লোকদের দিয়ে এই সঙ্কটের সমাধানের কথা, কিন্তু তার ভিত্তি হবে সিরিয়ার আরব প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষিত রেখে প্রশাসন ও বিরোধীদের মধ্যে কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই খুবই প্রসারিত রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করার মধ্যেই. এর ভিত্তি হতে পারে ২০১২ সালের ৩০শে জুনের জেনেভার কমিউনিকে. মনে তো হয় না যে, রুশ প্রজাতন্ত্রের সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেওয়ানোর উদ্যোগ আগে থেকে তৈরী থাকা শীর্ষ সম্মেলনের দলিলগুলোতে কোন রকমের প্রতিফলন করা হবে, যদিও এই সম্মেলনের নেপথ্যে বিষয়টি আলোচনা করা হবে, - এই রকম মনে করেন প্রফেসর সের্গেই লুজিয়ানিন. তাহলে শেষে কি হতে চলেছে? এই প্রসঙ্গে সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে “ব্যক্তিগত ভাবে” নির্দেশ না করেও দেশগুলো, খুব সম্ভবতঃ, এমনকি ছাড় দিতে রাজী না থাকা উজবেকিস্তান সমেত, সেই ধারণাতেই উপনীত হবে যে, অন্যের নিরাপত্তার দামে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখা যায় না. এই তথ্য, জানাই রয়েছে যে, বিশেষ করে বাস্তব হয়েছে যারা এই সংস্থাতে রয়েছে সেই ছোট ও মাঝারি মানের দেশগুলোর জন্যে”.

বিশকেকে ইরান ও পাকিস্তানের নতুন নেতাদের সঙ্গেও পরিচয় হতে চলেছে. এখানে বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, ইরানের বিষয়কে আলাদা করে এখানে আলোচনা করা হতে পারে. খুব সম্ভবতঃ, এটা হতে চলেছে ইরানের চারপাশ ঘিরে ও তাদের পারমাণবিক পরিকল্পনা, যা আসলে একেবারেই শান্তিপূর্ণ ও দেশের বিকাশ ও আধুনিকীকরণের জন্য লক্ষ্য করে করা হয়েছে, তাই নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি. সাসস মনে করে যে, এই দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা নিয়ে কোন রকমের হুমকি দেওয়া কোন ভাবেই চলতে পারে না.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দিক – সম্মিলিত ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সেই বিষয় নিয়ে এখানে কথা হবে প্রকল্প সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে পরিকল্পনাগুলোর, যা ঠিক করা হয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে, সেগুলোর পরবর্তী কালের বাস্তবায়ন নিয়ে, এই বিষয়েও সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

“দুঃখের বিষয় হল যে, এই শীর্ষ সম্মেলনেও উন্নয়ন তহবিল ও সাসস বিকাশ ব্যাঙ্কের কাজ শুরু করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে না. এখানে কথা খুব সম্ভবতঃ হবে পরবর্তী কালে এই সব প্রশ্ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিবেচনা করা নিয়ে. যদিও অবশ্যই পরিবহন- যোগাযোগ প্রকল্পগুলো, আন্তর্জাতিক ও বহু রকমের কাজ একসাথে করা সম্ভব এমন মাল জমা ও পাঠানোর কেন্দ্র তৈরী করা নিয়ে, বাণিজ্য ও পর্যটন নিয়ে, উদ্ভাবনী ও জ্বালানী সংরক্ষণ করে এমন প্রযুক্তি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে”.

সের্গেই লুজিয়ানিনের মতে, এই শীর্ষ সম্মেলনের অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে নতুনত্ব হতে পারে পর্যবেক্ষক দেশগুলির ক্ষমতাকে এই প্রসঙ্গে যোগদানের আহ্বান করা দিয়ে - অর্থাত্ ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান ও আলোচনা সঙ্গী দেশ বেলোরাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক ইত্যাদিকে.

কিন্তু পরিণতি সূচক ও একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় হতে পারে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে এই সংস্থার বিকাশের জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা ও তা গ্রহণ করা, যা আগামী বহু বছরের জন্যই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জন্য একটি মূল কাঠামোগত দলিলে পরিণত হতে পারে.