নিজের টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে বারাক ওবামা স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার উদ্যোগ সিরিয়ার সমস্যায় শক্তি প্রয়োগ না করেই সমাধানের সম্ভাবনা দিয়েছে. তবে এটা সত্য যে, আমেরিকার নেতা শর্ত দিয়েছেন: সিরিয়ার প্রশাসন খুবই অল্প সময়ের মধ্যে শুধু কথাতেই নয়, বরং কাজেও প্রমাণ করতে বাধ্য যে, তারা নিজেদের রাসায়নিক সমরাস্ত্র থেকে মুক্ত হতে চায়.

এর আগে সিরিয়ার প্রতি সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে নিরস্ত হতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান করে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, এই সবেরই একটা অর্থ রয়েছে, আর তা কাজে পরিণত হতে পারে শুধু সেই ক্ষেত্রেই, যদি আমরা শুনতে পাই যে, আমেরিকার পক্ষ ও সেই সমস্ত পক্ষরা, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই মর্মে সমর্থন করেছে, তারা শক্তি প্রয়োগ করা থেকে নিরস্ত হয়েছে. কারণ খুবই কঠিন হবে সিরিয়াকে অথবা অন্য যে কোন দেশকেই, পৃথিবীর যে কোন রাষ্ট্রকেই একতরফা ভাবে নিরস্ত্রীকরণ করতে বাধ্য করা, যদি তাদের বিরুদ্ধে কোন রকমের শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি পাশাপাশি চলতে থাকে, তাহলে”.

বারাক ওবামা আপাততঃ সামরিক আঘাত হানা থেকে নিরস্ত হয়েছেন. তিনি মার্কিন কংগ্রেসের কাছে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা নিয়ে সিদ্ধান্তে মত দেওয়ার বিষয়কে আপাততঃ মুলতুবি করার প্রস্তাব করেছেন.

তা স্বত্ত্বেও, নিজের টেলিভিশন ভাষণে বারাক ওবামা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন, তিনি আগের মতই বিশ্বাস করেন যে, ২১শে আগষ্ট বাশার আসাদের প্রশাসনই রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের পিছনে রয়েছে ও আগের মতই দামাস্কাসকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান করেছেন. তিনি একই সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার প্রশাসনের উপরে চাপ কমাতে তৈরী নন. তিনি নিজেদের দেশের ডানাওয়ালা রকেট সজ্জিত সামরিক যুদ্ধজাহাজ গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূমধ্যসাগরে সিরিয়ার তীরের কাছে প্রহরার কাজ চালিয়ে যেতে. ওবামা উল্লেখ করেছেন যে, যদি কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগে ফল না হয়, তবে প্রত্যুত্তরে কাজ করার জন্য তৈরী থাকতে হবে.

একই সময়ে সিরিয়া থেকে প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, দামাস্কাস তৈরী রয়েছে সম্পূর্ণভাবে রাসায়নিক অস্ত্র থেকে নিরস্ত হওয়ার জন্য ও সেই অস্ত্র নিষিদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সাথে যুক্ত হতে. সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম ঘোষণা করেছেন যে, “আমরা তৈরী রয়েছি রাসায়নিক অস্ত্র উত্পাদন বন্ধ করতে, আর তারই সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের জন্য আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের অন্যান্য সদস্য দেশের জন্য সেই অস্ত্র রাখার গোপন জায়গা খুলে ধরতে তৈরী রয়েছি”.

সিরিয়ার অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা খুব সম্ভবতঃ আসন্ন সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি আলোচনা করবেন. দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের সাক্ষাত্কারের পরিকল্পনা রয়েছে জেনেভা শহরে ১২ই সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবারে.