"এক সঙ্গে অনেকগুলো দেশ, যাদের অগণতান্ত্রিক বলে ঘোষণা করা হতে পারে আর তার সঙ্গে যেমন লিবিয়া, ইরাকের সঙ্গে করা হয়েছে, সেই রকম করা হতে পারে, তারা নতুন করে অস্ত্র প্রযুক্তি সজ্জিত হচ্ছে. একেবারে ধ্রুপদী উদাহরণ – আলজিরিয়া. মনে হতে পারে যে, এই দেশ বেশী করেই অস্ত্র কিনে ফেলেছে আর অস্ত্র বোধহয় কিনবে না. কিন্তু পরিস্থিতি দেখে, আলজিরিয়া সমরাস্ত্র কেনা বরং বাড়িয়ে দিয়েছে, সম্ভবতঃ – প্রাথমিক ভাবে রাশিয়া থেকেই. দ্বিতীয়তঃ, রাশিয়ার অস্ত্র ঐতিহ্য মেনেই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজ ও সাধারণ অস্ত্র বলে বিখ্যাত".

বিগত সময়ে রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রীর কাঠামোতে পরিবর্তন দেখতে পাওয়া গিয়েছে. তাতে বেশী করেই আকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কমপ্লেক্স ও যুদ্ধ জাহাজ কেনার সংখ্যা বেড়েছে, আর বিমান ও ট্যাঙ্কের সংখ্যা কমেছে. বিগত ২০ বছর ধরে পঞ্চাশেরও বেশী দেশ রাশিয়া থেকে সু-২৭, সু-৩০ ও মিগ- ২৯ বিমান কিনেছে. তারই সঙ্গে কিছু দেশ সু- ৩৪ বোমারু বিমানও কিনেছে. তাই বেশীর ভাগ ক্রেতারাই নিজেদের বিমান দিয়ে উন্নত করতে পেরেছে, এই কথা উল্লেখ করে রুসলান পুখভ বলেছেন:

“স্বাভাবিক ভাবেই এবারে সময় এসেছে অন্য প্রযুক্তি কেনার, আর তার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে. যেমন ভিয়েতনাম, অন্য দেশগুলোও এই পথ ধরেছে. একটা নির্ভরযোগ্য, অনেক গভীর পর্যন্ত সার দেওয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে সমস্ত ট্যাঙ্ক আর বিমানই হয়ে দাঁড়াবে লক্ষ্যভেদ করার নিশানা. তাই এবারে সময় এসেছে এই ধরনের কমপ্লেক্স কেনার. খুব ভাল ব্যবস্থা আর তার মধ্যে মুখ্য হল – সম্পূর্ণ রকমের, একেবারে জেনিথ রকেট কমপ্লেক্স, যা মানুষের কাঁধের ওপর থেকেই ছোঁড়া যায় এমন থেকে এস- ৩০০ বা এস- ৪০০ কমপ্লেক্সের মত ব্যবস্থা, যা কয়েকশো কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্য ভেদ করতে পারে, তা একমাত্র রাশিয়াই দিতে পারে”.

এখানে বেশ কয়েকটা কারণ আলাদা করা যেতে পারে সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রীর ক্ষেত্রে “রসআবারোনএক্সপোর্ট” কোম্পানীর সাফল্যের জন্য, তাই বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেনিসেন্তসেভ বলেছেন:

“একেবারে প্রথম স্থানে রয়েছে কাঠামোর ব্যাপারটা: বিশ্বের সমরাস্ত্রের বাজার ও সব মিলিয়ে যুদ্ধের কারণে খরচা করার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়ার সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির ক্রেতারা. এঁরা চিন, ভারতবর্ষ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো. এই সব দেশের সামরিক ব্যয় বরাদ্দ বাড়ছে, তাই আমদানীও বাড়ছে. এমনকি নিজেদের সামরিক শিল্পের উন্নতি হওয়া স্বত্ত্বেও”.

বিশেষজ্ঞের মতে, কয়েকটি উত্তর আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্যের দেশ থেকে সম্ভাব্য সমরাস্ত্র কেনা না হওয়ার ক্ষতি অনেকাংশেই রাশিয়াকে পুষিয়ে দিয়েছে ইরাকে রাশিয়ার সমরাস্ত্রের বাজার. ইরাকের সঙ্গে বেশ বড় প্যাকেজ চুক্তি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে. রপ্তানীর পরিমাণ বজায় রাখা, আর তারই সঙ্গে কাঠামো গত ব্যাপারটাও বজায় রাখতে পারা, সেই সঙ্গে জড়িত যে, “রসআবারোনএক্সপোর্ট” শুধু কোন যন্ত্র সরবরাহ করেই ছেড়ে দেয় না, তার সঙ্গে এই এক হাজার কোটি ডলারের চুক্তির অনেকটা জুড়েই রয়েছে বাড়তি যন্ত্রাংশ, মেরামত ও প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের জন্য চুক্তিও.