রাশিয়ার শান্তি উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে. জার্মানীর চ্যানসেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল জানিয়েছেন যে, তিনি এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সহায়তা করতে তৈরী রয়েছেন. নিজেদের পক্ষ থেকে সমর্থন জানিয়েছেন ইরানের ও জাপানের প্রশাসকরা. চিন রাশিয়ার উদ্যোগকে সমর্থন করে ও তাকে স্বাগত জানিয়েছে. এমনকি ফ্রান্সের, যে দেশের প্রশাসন সিরিয়ার উপরে রকেট আঘাত হানার জন্য সবচেয়ে বেশী সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছিল, তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, এই প্রস্তাব খুবই গভীর মনোযোগ দিয়ে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে.

এই উদ্যোগ নিয়ে, যেখানে সিরিয়ার সমস্ত রাসায়নিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেওয়া, যাতে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন এড়ানো সম্ভব হয়, তা সোমবারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন:

“আমরা সিরিয়ার প্রশাসনকে শুধু আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার গুলোকেই রাখা নিয়ে সমঝোতায় আসতে আহ্বান করছি না, বরং তা পরবর্তী সময়ে ধ্বংস করার ও তারই সঙ্গে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ মাত্রায় যোগদানের জন্যেও বলছি”.

দামাস্কাস থেকে তত্ক্ষণাত মস্কোর উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে. সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম যেমন ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ সমস্ত রাসায়নিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার জন্য সহমত হবেন, যাতে সিরিয়াতে আমেরিকা থেকে বোমা মারা না হয়. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি ঘোষণা করছি যে, সিরিয়া আরব প্রজাতন্ত্র রাশিয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তা করা হয়েছে সিরিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের দেশের নাগরিকদের জীবন রক্ষা করার জন্য ও আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্যই. আর তারই সঙ্গে আমাদের রাশিয়ার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস ও তাঁদের জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধার কারণেই, যাঁরা চেষ্টা করে চলেছেন আমাদের জনগনের প্রতি আমেরিকার আগ্রাসন থেকে রেহাই পাইয়ে দেওয়ার জন্যই”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা একই সঙ্গে ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, যদি দামাস্কাস সত্যই রাশিয়ার প্রস্তাব মানে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অপারেশন করবে না. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমরা সামরিক অপারেশন থেকে নিরস্ত হব, যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়. এটা পরিস্থিতির একেবারেই ইতিবাচক মোড় ফেরা. রাশিয়া সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্রের সমস্যা সমাধান করবার জন্য বোঝাতে পেরেছে, এটাই তা, যা আমরা কোন এক সপ্তাহ নয়, অথবা এক মাসও নয়, বরং বিগত দুই বছর ধরে করার জন্য আহ্বান করে এসেছি. সম্ভাবনার অর্থে এটা খুবই ফলপ্রসূ ধারণা হতে পারে. কিন্তু আমরা এটা করতে পারতাম না, যদি না সামরিক আঘাত হানার ভয় দেখাতাম. আর এবারে আমরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্যই কাজ করব. জন কেরি, আমার দলের লোকরা রাশিয়ার সঙ্গে ও আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করবে, যাতে বোঝা যেতে পারে যে, কি করে আমরা ফল পেতে পারি. সম্ভবতঃ, এটা একটা মোড় ফেরার মতো মুহূর্ত, কিন্তু কথার পরে কাজও হওয়া দরকার. আরও একবার বলি – এটা সিরিয়াতে রাজনৈতিক সঙ্কটের ইতি করবে না, কিন্তু যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় কোন রকমের সামরিক আঘাত ছাড়াই রাসায়নিক অস্ত্রের নিরাপত্তা বজায় রাখার, তবে আমি বেছে নেব এই পরিকল্পনাকেই”.

মস্কোর পক্ষ থেকে বারাক ওবামাকে সমর্থন, যাঁর পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে রেটিং বর্তমানে খুবই নীচু স্তরে নেমে এসেছে, - তা একটা সম্ভাবনা, যাতে মুখরক্ষা করা যায়, পিছিয়ে গিয়েও. সবার আগে, নিজের দেশের লোকের কাছেই. সামাজিক মতামতগুলো অনুযায়ী, বেশীর ভাগ আমেরিকার লোক, যাঁরা আফগানিস্তানে ও ইরাকের এই যুদ্ধগুলোর জন্য ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন, তাঁরা কেউই সিরিয়াতে শক্তি প্রয়োগকে সমর্থন করছেন না. বারাক ওবামা নিজেও আমেরিকার টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর স্ত্রী মিশেল নিজেও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে.