এটা কি প্রতিপক্ষকে মানসিক ভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অথবা যুদ্ধের জন্য সত্যিকারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিনের মন্তব্য দেওয়া হল.

কোন সন্দেহ নেই যে, ইরান সিরিয়াতে ও তার চারপাশ জুড়ে নানা রকমের পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার জন্যেই প্রস্তুত হচ্ছে. ঠিক এই লক্ষ্য সাধনের জন্যই তেহরান নিজেদের সারিক বাহিনীর নানা রকমের মহড়ার বন্দোবস্ত করেছে আর একই সময়ে বহু দিকে সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক কাজকর্ম করে চলেছে.

ঐস্লামিক রাষ্ট্র ইরানের জন্য মুখ্য হল যে, বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন রোধ করা. এই প্রসঙ্গে প্রাচ্য বিশারদ প্রফেসর ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

“ইরানের সর্বশেষ ঘোষণা যে, তারা আরব দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে কাছের জোটসঙ্গী সিরিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে কোন কিছুর সামনেই থামবে না, তা প্রমাণ করে দেয় যে, ইরান নিজেদের জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে খুবই গুরুতর বিপদ দেখতে পেয়েছে, যদি সিরিয়াতে আসাদের প্রশাসন কোন না কোন ভাবে বাইরের হস্তক্ষেপে পদচ্যুত হতে বাধ্য হয় তা হলে. প্রাথমিক ভাবে বোমা বর্ষণের ফলেই, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করার হুমকি দেওয়া হয়েছে”.

তেহরানের প্রতিক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার উপরে সম্ভাব্য আঘাতের ফলে কি হবে? কোন সন্দেহই নেই যে, সম্পূর্ণ রকমের শক্তি দিয়েই প্রচারের যন্ত্রকে চালু করা হবে, যারা ওয়াশিংটনের আগ্রাসী রাজনীতির মুখোশ খুলে ধরবে. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও তাদের আসাদ বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে মনে তো হয় না যে, সক্রিয়ভাবে তেহরান যুদ্ধে নামবে. তার মধ্যে আবার অসমান্তরাল ভাবে প্রত্যুত্তর দিয়েই, যার কথা বলা হয়েছে ও যার অর্থ হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী ও অন্তর্ঘাত মূলক কাজকর্ম করা.

প্রথমতঃ, ইরানের রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে বহু সংখ্যক ঘোষণা থেকে যা বোঝা গিয়েছে, তা হল যে, ইরানের ক্ষমতাসীন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মধ্যেই ইরান – সিরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কোনও ঐক্যমত নেই. বিদেশী রাজনীতিবিদেরা মনে করেন যে, সিরিয়ার “রাসায়নিক সঙ্কট” রাষ্ট্রপতি রোহানির গোষ্ঠী ও ইরানের “যুদ্ধবাজ” লোকদের মধ্যে একটা বিরোধ ডেকে এনেছে.

যেমন, কয়েকদিন আগে খুবই প্রভাবশালী ও বিখ্যাত ইরানী রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আলি আকবর হাশেমী রাফসানজানি নাকি ইঙ্গিত করেছেন যে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি আসাদ নিজের দেশের জনতার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েও থাকতে পারেন. এই ইঙ্গিত রাফসানজানি দিয়েছেন সেই ঘোষণা করে যে, “একদিক থেকে সিরিয়ার জনগন নিজেদের দেশের প্রশাসনের কাছ থেকেই রাসায়নিক অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হচ্ছে আর অন্যদিক থেকে অপেক্ষায় রয়েছে আমেরিকার তরফ থেকে বোমার, তবুও সিরিয়াতে যুদ্ধ আটকানো ভাল কথা, কিন্তু আমরা ইরানের জাতীয় স্বার্থকে তার সঙ্গে জড়াতে পারি না, যা আজ সিরিয়াতে ঘটছে. তাই কোন রকমের হুমকি দিয়ে ঘোষণা করার কোনও প্রয়োজন নেই”.

দ্বিতীয়তঃ, রাষ্ট্রপতি রোহানির নতুন প্রশাসনের মুখ্য কাজ হল যে, দেশকে অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বের করে আনা আর রাজনৈতিক ভাবে একঘরে হয়ে থাকা থেকেও, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় লড়াই করে দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোকে শিথিল বা বাতিল করিয়ে আর এখানে প্রাথমিক ভাবেই পশ্চিমের বিরোধী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ কঠোর করার কোন জায়গাই নেই (একেবারে সামরিক কাজকর্ম পর্যন্ত!).

ইরানের রাজনীতিবিদদের তুলাদণ্ডের এক পাত্রে ইরানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে রেখেছে, আর অন্যদিকে – বাশার আসাদের মতো স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জোট সঙ্গীর প্রতি ঋণকে. খুবই কঠিন দ্বিধা, কিন্তু এখানে বাছাই পর্ব আগে থেকেই অনুমেয়.

এটা সত্য যে, সম্ভবতঃ, ইরানের নেতৃত্বকে এই বাছাই করতেই হবে না সম্ভবতঃ. এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দামাস্কাসকে রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দিতে আহ্বান করছেন ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থায় যোগ দিতে বলেছেন. সিরিয়ার প্রশাসন নিজেদের সম্মতির কথা ঘোষণা করেছে. মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা রাশিয়ার প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছেন. পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ঘোষণা করেছ নয়ে, সিরিয়া সামরিক অপারেশন এড়াতে পারে, যদি এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে রাসায়নিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়.

মনে হচ্ছে, দামাস্কাসের উপরে ঝঞ্ঝার মেঘ সরে যাচ্ছে. তেহরানের পক্ষ থেকেও খুবই কঠিন বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার বিপদও কেটে যাচ্ছে, আমেরিকার পক্ষ থেকে সিরিয়ার উপরে আঘাত হানা হলে কি করা হবে তা নিয়ে. কিন্তু সিরিয়ার সমস্যা, হতাশার কথা হল যে, থেকেই যাচ্ছে.