সেই সময়ে পাইলটরা চেষ্টা করতেন যে, তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কোন রকমের বিপজ্জনক টাল খাওয়া এড়িয়ে যেতে ও চেষ্টা করতেন একেবারেই মাটির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবেই উড়ে যাওয়ার. নেস্তেরভ পছন্দ করতেন সব দুঃসাহসী পরীক্ষা নিরীক্ষাকে ও আকাশে মাত্র একবারই নিয়ম ভঙ্গ করেন নি. এই ঐতিহ্য হয়ে যাওয়া পাইলট বলতেন যে, তিনি এই সব ওড়ার কায়দা শিখেছেন পাখীদের দেখে. কিন্তু তখন নেস্তেরভের এই সব কায়দাকে মনে করা হয়েছিল স্রেফ বাহবা পাওয়ার জন্য করা বলেই. তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছিল পরে: বিশ্বযুদ্ধের সময়ে সত্যিকারের যুদ্ধে. বিমান উড়ানের ক্ষেত্রে যাঁরা প্রথম এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের সাফল্যের কথা আজও মনে করা হয়, এই কথা উল্লেখ করে আভিয়া. রু পোর্টালের সম্পাদক রোমান গুসারভ বলেছেন:

“বিমান চালকরা নিজেদের ও নিজেদের বিমানগুলোকে সম্ভবের একেবারে চূড়ান্ত জায়গায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন. তাঁরা একেবারেই অজ্ঞাত জায়গায় ঢুকে পড়েছিলেন. নেস্তেরভের আগে কেউই জানত না যে এই ধরনের এয়ারোব্যাটিক্স করা সম্ভব বলে. সেই সময়ের জন্য এই রকমের বুদ্ধির অতীত ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, এটা সম্ভব. নেস্তেরভ এছাড়াও প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, এয়ারোব্যাটিক্স করার জন্য শুধু যন্ত্র থাকলেই চলে না, বরং পাইলটকেও সেই রকম কাজের উপযুক্ত হতে হয়”.

নিজের “মরণ গ্রন্থি” নেস্তেরভ একটা কাঠের বাই প্লেনে কিয়েভের বিমান বন্দরের উপরে করেছিলেন. সেদিন কিয়েভের নাগরিক (“কিয়েভলিয়ানিন”) নামের সংবাদপত্র লিখেছিল যে, “এক হাজার মিটার উঁচুতে উঠে, পাইলট বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে নীচে পড়তে শুরু করেছিলেন সোজা, তারপরে ৬০০ মিটার উচ্চতায় তিনি আবার করে ইঞ্জিন চালু করেন, বিমানকে সোজা করেই বাধ্য করেন খুব তীক্ষ্ণ ভাবে উপরে উঠতে. বিমান তার ফলে মাটির সাথে সমকোণে থাকা তলে একটা বৃত্ত তৈরী করে... পাইলট এই সময় ছিলেন মাটির থেকে উল্টো হয়ে... জনতা তা দেখে চমকে গিয়েছিল...” এর আট দিন পরে নেস্তেরভ বর্ণনা করেছিলেন এই গ্রন্থির, যা প্যারিসের সংবাদপত্র “ম্যানিট” ছেপেছিল. খুব শীঘ্রই এই সাফল্য “ব্লেরিও” কোম্পানীর পাইলট অ্যাডল্ফ পেগু পুনরাবৃত্তি করেছিলেন. তাঁকেই পশ্চিমে মনে করা হয়েছে এয়ারোব্যাটিক্স স্রষ্টা বলে. কিন্তু পেগু নিজে তাঁর “আগে হওয়া নিয়ে” যাঁরা উত্সাহ দেখিয়েছিলেন, তাঁদের মোটেও সমর্থন করেন নি, তিনি বলেছিলেন যে, বাস্তবে তিনি আকাশে একটা লম্বা করে টানা লাতিন এস অক্ষর করে দেখিয়েছেন. এটা তখনও “মরণ গ্রন্থি” হয়ে ওঠে নি, এই কথা ব্যাখ্যা করে রাশিয়ার বীর ও বিমান পরীক্ষক ও পাইলট মাগোমেদ তলবোয়েভ বলেছেন:

“সেই রকমের একটা ধারণা রয়েছে: তিরিশ ডিগ্রী...পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রীর বেঁকা গিঁট. ফলে এরোপ্লেন একটা মোড় ঘোরার পর্যায়ে চলে যেতে পারে, কিন্তু তা হয় ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল ক্ষেত্রেই. একেবারে সোজা আর মাটির সঙ্গে সমকোণে “মরণ গ্রন্থি” করে দেখিয়েছেন আমাদেরই দেশের লোক নেস্তেরভ. এয়ারোব্যাটিক্সের স্রষ্টাই হচ্ছেন নেস্তেরভ. আর এটা কোন রকমের তর্কের উর্দ্ধে থাকা বাস্তব ব্যাপার. এর পরের থেকে আকাশে যুদ্ধের কায়দাই পাল্টে গিয়েছিল. এর আগে যুদ্ধ হত মাটির সঙ্গে সমান্তরালে আর মোড় ঘোরার সময়ে. অন্য কোন ভাবেই নয়. উপরেও না নীচেও না. আর আকাশে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা, প্রতিপক্ষকে তার দিক পরিবর্তনের সময়ে ধরতে পারা – এই সবই শেখার সম্ভাবনা করে দিয়েছিলেন নেস্তেরভ, আর শিখিয়েও ছিলেন”.

এর পরে নেস্তেরভ অন্ধকারে বিমান নিয়ে ওঠানামা অভ্যাস করা শুরু করেছিলেন. বিমানের লেজের দিকের গঠন পাল্টে “ডোভটেল” করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন. এমনকি চেয়েছিলেন নিজে ওড়া বন্ধ করে অবসর নিয়ে বিমানের গঠন নিয়ে কাজ করার. কিন্তু শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ. নেস্তেরভ দেশের বিমান বাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন, যারা দক্ষিণ পশ্চিমের ফ্রন্টে আকাশ পথে গোয়েন্দাগিরি করেছিল. তাঁর দুঃসাহসী আক্রমণে অস্থির হয়ে অস্ট্রিয়ার পক্ষ থেকে এই ক্যাপ্টেনের মাথার জন্য বড় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল. নেস্তেরভ একটা আকাশের যুদ্ধেই নিহত হয়েছিলেন, তিনি প্রতিপক্ষের বিমানের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন.