ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ শুধু প্রমাণ করেই দেন নি যে, তিনি আগামী মস্কো শীর্ষ সম্মেলনের আগে তাঁর রাশিয়ার সহকর্মীর সঙ্গে শুধু “একই তরঙ্গে” রয়েছেন, বরং খুবই ওজনদার উত্তর দিয়েছেন ভারতের বিরোধী পক্ষকেও, যাঁরা প্রশাসনকে সিরিয়ার প্রশ্নে দোনামোনার অভিযোগ করেছিল. এই প্রসঙ্গে সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“সেন্ট পিটার্সবার্গে ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের নেতার সঙ্গে “জি-২০” দেশের শীর্ষ সম্মেলনের নেপথ্যে খুবই ছোট একটা সাক্ষাত্কার করার সময় বার করে নিতে পেরেছেন, কিন্তু তারই মধ্যে, সেটা ছিল খুবই প্রতীকী ধরনের. এই সাক্ষাত্কারে কোন রকমের গোপন উত্তেজনা দেখতে পাওয়া যায় নি, যা ধরা যাচ্ছিল রাষ্ট্রপতি পুতিন ও ওবামার “অঙ্গভঙ্গির ভাষা” দেখেই”.

এটা ছিল এক রকমের ভারত- রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের একটা মহড়া, যা এই বছরে নিয়ম মেনেই চতুর্থ ত্রৈমাসিকে হবে মস্কো শহরে. দুই দেশের অবস্থানের এক জায়গায় থাকাটা দুই দেশের নেতার পক্ষ থেকেই ব্রিকস গোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে মন্তব্যেই দেখতে পাওয়া গিয়েছে. অংশতঃ, ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরী করা ও বিশ্ব অর্থনীতির সংস্কারের প্রসঙ্গে, তাই তোমিন বলেছেন:

“তা স্বত্ত্বেও, সিরিয়ার বিষয় সেন্ট পিটার্সবার্গে স্পষ্টই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল, যদিও শুর থেকেই তা এই ফোরামে আলোচনার তালিকায় উল্লেখ করা ছিল না. এখানে মনোযোগ আকর্ষণ করে, সেই প্রশ্ন যে, “বিশ্বের সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যার গণতন্ত্র” ভারতবর্ষ সিরিয়ার প্রশ্নে কোন অবস্থান নেবে, তা রাশিয়ার উত্তরের রাজধানীতে সাক্ষাত্কারের আগেই শুধু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেই একটা আগ্রহের সৃষ্টি করে নি, বরং দেশের ভিতরেও একটা তীক্ষ্ণ আভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল”.

ব্রিটেনের পার্লামেন্টে শুনানীর সময়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের দপ্তর আগে থেকেই ভারতকে বিদেশী অনুপ্রবেশের সমর্থকদের মধ্যে ধরে রেখেছিল. আর শুধু তার পরেই, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত মূলক ভাবে এর বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হয়েছিল, লন্ডন তখন ক্ষমা চেয়েছিল: বলেছিল যে, একটা যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে. আর ভারতের অবস্থানের মজবুত হওয়াটাকে “স্পর্শ করে” দেখতে ও দিল্লীকে যুদ্ধের প্রধান বিরোধীদের দল রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রের রাজধানীগুলো মস্কো ও বেজিংয়ের থেকে ছিঁড়ে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল.

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছিল যে, সিরিয়ার বিরোধ সামরিক হস্তক্ষেপ দিয়ে সমাধান করার মত বিষয় নয়, আর আহ্বান জানানো হয়েছিল তার সমস্ত অংশগ্রহণকারীদেরই আলোচনার টেবিলে বসার জন্য. পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরুদ্দীন মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, “ভারত সিরিয়া নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে “জেনেভা -২” সম্মেলনের আয়োজনকেই সমর্থন করে যাবে”. তাই তোমিন বলেছেন:

“কিন্তু এই ব্যাখ্যাতেও তখন উত্তেজনা কম হয় নি. ভারতের বিরোধী পক্ষ মনে করেছিল এই ধরনের আশ্বাস দেওয়া যথেষ্ট নয় ও তারা আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিল. প্রশাসনের উচিত্ সিরিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে ঘোষণা করা – ভারতের পার্লামেন্টে দাবী করেছিলেন প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির এক নেতা যশবন্ত সিংহ. আর তিনি ক্ষমতাসীন প্রশাসনের বাগানে একটা ঢিল ছুঁড়তে কোন দ্বিধাই করেন নি: “যখন বিশ্বে কোন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, ভারত নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে দেরীই করে থাকে”, - বলে”.

আর এবারে সেন্ট পিটার্সবার্গে সিরিয়ার প্রশ্নে ভারতের মন্ত্রীসভা কোন অবস্থান নিচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তরে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, একেবারে শেষ অবধি একটা ইতি টানা সম্ভব হয়েছে. এবারে কেউই মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভাকে দোনামোনার অভিযোগ করতে পারবে না.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুধু সেটাই প্রমাণ করে দেন নি যে, তিনি তাঁর রাশিয়ার সহকর্মীর সঙ্গে মস্কোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে “একই তরঙ্গে” রয়েছেন, বরং তাঁর ভারতীয় সমালোচকদের কাছেও বার্তা দিয়েছেন যে – খুবই ওজনদার ও যুক্তিপূর্ণ ভাবেই, কোন রকমের শোরগোল তোলা ইঙ্গিত বা থিয়েটারের এফেক্ট না দিয়েই.