অনানুষ্ঠানিক সান্ধ্যভোজের সময়ে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের প্রধানরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বলেছেন, এমনকি আন্তর্জাতিক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত না থাকার সময়েই. এই বিষয়ে স্ত্রেলনা প্রাসাদে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির তথ্য সচিব দিমিত্রি পেসকভ বর্ণনা করেছেন. বেশ কিছু রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের মূল্য কম করতে নিষেধ করেছেন ও সেই বিষয়ে ভুলে যেতে বারণ করেছেন যে, শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদই শক্তি প্রয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে. তাই দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন:

“একমাত্র সংস্থা, যারা শক্তি প্রয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে, এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ. রাশিয়ার পার্লামেন্ট যেমন নয়, তেমনই মার্কিন কংগ্রেসও অথবা অন্য যে কোন দেশের আইন প্রণয়নের প্রতিষ্ঠানই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়. যদি তাও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আর তা যে কোন দেশের প্রধান সমর্থন করেন, তবুও সেই সিদ্ধান্তকে আইন সম্মত বলা হতে পারে না ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে তা ঠিক হয় না”.

মার্কিন কংগ্রেসে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সিরিয়ার উপরে রকেট আঘাত করা নিয়ে সিদ্ধান্তের উপরে ভোট হতে চলেছে ১১ই সেপ্টেম্বর. আপাততঃ সম্পূর্ণ রকমের বিশ্বাস যে, যেমন সেনেট, তেমনই কংগ্রেস প্রশাসনের সামরিক উপায়কে সমর্থন করতে চলেছেন, এমন কারোরই নেই. বরং উল্টো, বেসরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষের ও বিপক্ষের লোকদের ভোটের হিসাব করে যে সাক্ষ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হল যে মার্কিন কংগ্রেসে বেশীরভাগ রিপাব্লিকান দলের লোকরা সামরিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন. আর সেই প্রশ্ন যে, ডেমোক্র্যাটিক দলের লোকরা কি রাষ্ট্রপতিকে সমর্থন সকলেই করবেন, তার উত্তরে এঁদের নেতা ন্যান্সী পেলোসি বলেছেন “জানি না”. হোয়াইট হাউস এই প্রসঙ্গে এমনকি কংগ্রেসের নেতৃত্বকে ভোটের দিন ৯ই সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ১১ই সেপ্টেম্বর করতে বলেছেন, যাতে সাংসদদের প্রস্তুত করার জন্য বেশী সময় পাওয়া যায়.

তারই মধ্যে সিরিয়ার সমস্যাকে শক্তি প্রয়োগ করে সমাধানের যারা বিরুদ্ধে, তাঁদের সঙ্গে খুবই শক্তিশালী জোটসঙ্গী যুক্ত হয়েছেন রোমের পোপ ফ্রান্সিস্ক. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের নামে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি পিটার্সবার্গের শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে আহ্বান করেছেন সিরিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপ হতে না দিতে. পন্টিফিক বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই সমস্যার সমাধান শুধু শান্তিপূর্ণ পথেই হওয়া দরকার. ফ্রান্সিস্ক ৭ই সেপ্টেম্বর দিনটিকে উপবাস ও প্রার্থনার দিন বলে ঘোষণা করেছেন সিরিয়াতে শান্তির উদ্দেশ্যে.

ইতালি ব্রিটেন ও জার্মানীর সঙ্গে একসাথেই, যে কোন ধরনের একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ, যা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে, তা থেকে ইতিমধ্যেই অংশগ্রহণে অস্বীকার করেছে, এই কথা এক সাক্ষাত্কারে এই দেশের প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেত্তি উল্লেখ করে বলেছেন:

“আমাদের জন্য এই “বড় কুড়ি” দেশের শীর্ষ সম্মেলন, যাতে সিরিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা খুবই বড় ধরনের সংজ্ঞা রাখে. আমরা আশা করছি যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এই সাক্ষাত্কারের সময়ে সভাপতিত্বের কাঠামোর মধ্যে সমস্ত শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের কাছেই এমন করতে পারবেন, যাতে সমস্ত রকমের প্রচেষ্টাই করা হতে পারে, যাতে এই সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক ভাবেই হতে পারে. ইতালির আইন এই রকমের যে, এই দেশ কোন রকমের মিশনেই আন্তর্জাতিক সংস্থার সহমত ছাড়া যেতেই পারে না. অর্থাত্ আমরা কোন রকমের সামরিক অপারেশনে যাবো না, যদি তার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত না থাকে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রভাবিত করার কাজকর্মে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে. ৫ই সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেখানে তাদের দেখানো হয়েছে বাশার আসাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে দামাস্কাসের উপকণ্ঠে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে গুপ্তচরদের যোগাড় করা তথ্য. কিন্তু কোন রকমের নতুন ও প্রামাণ্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্য, তারা সেখানে দেখাতে সক্ষম হন নি – এই কথা এই “শো” দেখার পরে রাষ্ট্রসঙ্ঘে চিনের স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী ভান মিন বলেছেন. চিনও রাশিয়ার মতোই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রয়োগের অধিকার রাখে.

কিন্তু আমেরিকার প্রশাসন সিরিয়াতে আঘাত হানার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েই চলেছে. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে ইতিমধ্যেই দুটি বড় বিমানবাহী জাহাজের দল জমা হয়েছে, যাদের সঙ্গে রয়েছে সহযোগিতার জন্য অন্য যুদ্ধ জাহাজের দলও. সেখানে রয়েছে বিমানবাহী জাহাজ “নিমিত্স” ও “হ্যারি ট্রুম্যান”.