তিনি বলেছেন যে, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়া নিয়ে আলোচনার সময়ে সিরিয়ার উপরে আঘাত হানার পক্ষে মত দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া তুরস্ক, সৌদী আরব, কানাডা, ফ্রান্স, আর গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনও সেই পক্ষেই রয়েছেন, যদিও তাঁর দেশের পার্লামেন্ট এই কাজ করতে সায় দেয় নি. যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে সমস্ত দেশ ছিল, তাতে রাশিয়া ছাড়াও রয়েছে চিন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইতালি. পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে আঘাত হানার বিপক্ষে বলেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন ও রোমের পোপ. সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে পুতিন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভারসাম্য হারালে অর্থনীতির দিক থেকে জটিলতা বৃদ্ধি হবে আর তা কূটনৈতিক ভাবে সঠিক করে বলা উচিত্ বিপরীত ফলই দেবে. তাঁরই কথামতো, নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খুবই গুরুতর ভাবে অর্থনীতির উপরে প্রতিফলিত হবে, কারণ এই এলাকা সারা বিশ্বের অর্থনীতিকেই, অন্তত তার বেশীর ভাগ অংশকেই জ্বালানী সরবরাহ করে থাকে.

পুতিন একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগ করা হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরিকল্পনা থেকে নিরস্ত হওয়ার প্রশ্নের সমাধান করা খুবই কঠিন হবে. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বে গণহত্যার অস্ত্র প্রসার রোধ করতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মকে বিনা শর্তেই পালন করা দরকার, কোন রকমের সামরিক আঘাত হেনে নয়.

ইজিপ্ট সম্বন্ধে বলতে গিয়ে পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আশা করেন এই দেশে দ্রুত পরিস্থিতি ভাল হবে.তাঁর কথামতো, রাশিয়া ইজিপ্টের যে কোন আইন সম্মত প্রশাসনের সঙ্গেই সহযোগিতা করবে. পুতিন একই সঙ্গে ইজিপ্ট সহ সমগ্র নিকটপ্রাচ্যে পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া নিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন.

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের পরিণাম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিস্থিতি বিগত পাঁচ বছর আগের চেয়ে অনেক স্থিতিশীল হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে. তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী ও গোষ্ঠীর বাইরে থেকেও আলোচনায় তৈরী রাষ্ট্রের জন্য এখানে মাঝারি সময়ের জন্য বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, এখানে কথা হচ্ছে শ্রমের বাজার, মানবিক সম্পদের বিকাশ, পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, পণ্যের বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং কর প্রয়োগ নিয়ে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে, সেগুলোর. তাঁর কথামতো, এই সমস্ত ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের অর্থনীতির বাস্তব ক্ষেত্রগুলোতে উন্নয়নের জন্যই বিনিয়োগ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা উচিত্. জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে তারই সঙ্গে কর ব্যবস্থার নীতিগত ভাবে সংশোধন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে. পুতিনের কথামতো, “এই সিদ্ধান্ত কর দেওয়া থেকে এড়িয়ে যাওয়ার মোকাবিলা করার জন্যই করা হয়েছে, আর তার মধ্যে অফশোর কোম্পানী ব্যবহারে বিষয়ও রয়েছে”.

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে এরই সঙ্গে দুর্নীতি বিরোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কুড়ির গোষ্ঠীর তরফ থেকেও. পুতিন এখানে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন বড় আন্তর্জাতিক খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও, যেখানে অনেক ও বিশেষ করে বাজেট থেকে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে, সেখানে দুর্নীতি রোধের জন্য ভাল বাস্তব কাজকর্মের অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্বন্ধেও.