সিরিয়াতে সামরিক আঘাত হানার পক্ষে যারা রয়েছে, তারা যে ধরনের তথ্য প্রচার করছে, তাকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখ করেছে “অবাস্তব” বলে. কূটনৈতিক ভাষায় “মিথ্যেকে” এই ভাবেই ব্যঞ্জনা দেওয়া হয়ে থাকে. বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের উপায় দিয়েই তৈরী করা হচ্ছে সরকারি দামাস্কাসের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের ভিত্তি.

এই প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবেই রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের ফলাফলকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যারা আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন. তাতে জানানো হয়েছিল যে, এই বছরের ১৯শে মার্চ সেখানে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল. এই ট্র্যাজেডিতে নিহত হয়েছিলেন ২৬জন মানুষ, তাদের মধ্যে সিরিয়ার ফৌজের সৈনিকরাও ছিলেন, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ বলেছেন:

“সিরিয়ার প্রশাসনের অনুরোধে রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া ল্যাবরেটরীতে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে পাওয়া ফলাফল ৯ই জুলাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সিরিয়ার প্রশাসন রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে এই প্রসঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান করেছিল”.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা নির্ণয় করেছিলেন যে, এখানে ব্যবহৃত জারিন গ্যাস তৈরী করা হয়েছিল কোন ল্যাবরেটরীতে, কারখানাতে নয় আর যে বোমায় ভরে এটা ছোঁড়া হয়েছে, সেটাও তৈরী হয়েছে কোন ছোট কামারশালাতেই. তা সমস্ত রকমের মাপজোক অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ শূণ্য রিয়্যাক্টিভ গোলার মতই, যা সিরিয়ার উত্তর দিকে “বাশাইর আন-নাসের” জঙ্গী গোষ্ঠীর যোদ্ধার বানাচ্ছে. তাছাড়া, এই গোলা বা বোমা বিস্ফোরণ করানোর জন্য হেক্সোজেন ব্যবহার করা হচ্ছে. আর এই পদার্থও সামরিক বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না.

আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ একই সঙ্গে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি যে মন্তব্য করেছেন, সেটাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন. সিকোরস্কি বলেছেন যে, সোভিয়েত দেশ নাকি সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল.

কিন্তু ১৯৭০-১৯৮০ সালে যখন সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরীর শিল্প নির্মাণ করা হয়েছিল, তার পিছনে আলেকজান্ডার লুকাশেভিচের কথামতো ছিল সোভিয়েত নয় বরং পশ্চিমের প্রযুক্তি ও তাদের দেওয়া রাসায়নিক পদার্থই, তার মধ্যে যেগুলো সামরিক ও অসামরিক দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে.

রাশিয়ার কূটনীতিবিদ ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের স্বপক্ষের লোকরা এখন চেষ্টা করছে বিশ্ব সমাজের মনোযোগকে দামাস্কাসের উপকণ্ঠে ঘটা ঘটনার দিকে লক্ষ্য করাতে. ২১শে আগষ্ট গুটা নামের জায়গাতেও নাকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে. এই প্রসঙ্গে লুকাশেভিচ বলেছেন:

“একেবারে চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে দামাস্কাসের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে দেওয়া তথ্য অবজ্ঞা করা হয়েছে, যাতে স্পষ্ট করে প্রমাণ দেওয়া হয়েছে যে, ২২, ২৪ ও ২৫শে আগষ্ট সরকারি ফৌজের সেনাদের উপরে রাসায়নিক অস্ত্রের বিষ ছড়িয়েছিল. এটা জারিন গ্যাসের চিহ্ন সমেত যন্ত্রপাতি, বস্তু ও আধার খুঁজে পাওয়ার সময়ে ঘটেছে. যে রকমের জানা রয়েছে যে, যে সমস্ত সৈনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রমাণ ওকে সেলস্ট্রমের নেতৃত্বে সিরিয়াতে যাওয়া রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা সংগ্রহ করেছেন. দেখাই যাচ্ছে যে, যে কোন রকমের বাস্তব তদন্ত, যা ২১শে আগষ্ট পূর্ব গুটা নামের জায়গায় হয়েছে, তার তদন্ত এই সমস্ত পরিস্থিতির বিচার না করে করা সম্ভব নয়”.

সামরিক অপারেশন করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলতে গিয়ে আমেরিকার সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির লোকরা কখনও এমন সমস্ত ঘোষণা করে ফেলছেন, যা সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তব পরিপন্থী. পেন্টাগনে যেমন তাদের নিজেদের নেতা চাক হেগেলের কথা শুধরে দিতে হয়েছে, কারণ তিনি মার্কিন কংগ্রেসে দু’দিন আগে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দুম করে বলে বসেছিলেন যে, সিরিয়াতে রয়েছে প্রচুর রাসায়নিক অস্ত্রের ভাণ্ডার, যা নাকি রাশিয়া থেকে সিরিয়াতে দেওয়া হয়েছে. বৃহস্পতিবারে পেন্টাগনের তথ্য সচিব জর্জ লিটল বলেছেন যে, হেগেলকে ঠিক করে বোঝা হয় নি. দেখা যাচ্ছে যে, তিনি নাকি “রাসায়নিক অস্ত্রের কথা বলেন নি, বলেছেন সাধারণ সামরিক যন্ত্রপাতির কথা”.

তারই মধ্যে, মার্কিন সেনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক পরিষদ মাত্র দশটা সায় দেওয়া ভোটে, যেখানে সাতটা ভোট ছিল বিরুদ্ধে, সিরিয়াতে সামরিক আঘাত করা নিয়ে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে. হোয়াইট হাউস আশা করেছিল যে, আরও বেশী ওজনের সমর্থন পাবে. এই দলিল অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে এই সামরিক অপারেশন শেষ করার কথা বলা হয়েছে, আর তাতে পদাতিক বাহিনী ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধ রয়েছে. সম্পূর্ণ সাংসদদের উপস্থিতিতে আমেরিকার পার্লামেন্টে এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া ৯ই সেপ্টেম্বরের আগে সম্ভব নয়. আমেরিকার সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে যে, তার ফলাফল এখন আগে থেকে বলা একেবারেই সম্ভব নয়.