যুদ্ধপোযোগী বিমানবহর: চুক্তি থেকে সম্ভাবনা অবধি

শেষ হওয়া বিমান প্রদর্শনীতে উল্লেখযোগ্য রকমের নতুন চুক্তি রাশিয়ার বিমানবাহিনীর কাছে যুদ্ধপোযোগী বিমান বা হেলিকপ্টার নিয়ে করা হয়েছে বলে দেখা যায় নি, যা হয়েছিল বিগত কয়েকটি বছর ধরেই. আগামী বছরগুলোতে সামরিক ও সামরিক –পরিবহন সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি রাখার জায়গায় নতুন যন্ত্র যোগ করবে বর্তমানে কাজ চলা সমস্ত চুক্তিগুলোই. তাতে ২৫০টারও বেশী যুদ্ধবিমান, ৬৫টা প্রশিক্ষণের বিমান, ৩৯টা পরিবহনের বিমান আর ৪০০টারও বেশী হেলিকপ্টার থাকবে. এর পরবর্তী দফায় চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০১৪- ২০১৬ সাল পর্যন্ত.

নতুন প্রযুক্তি কেনা নিয়ে বলতে গিয়ে, উল্লেখ করা দরকার এই ধরনের চুক্তির চরিত্র বদলের কথাও. বিমানবাহিনীতে একবার করে যন্ত্র সরবরাহ করার বদলে এখন থেকে এক একটি বিমান বাহিনীর অংশ সম্পূর্ণ ভাবেই নতুন যন্ত্র দিয়ে বদলে দেওয়ার কথা হয়েছে. এটা সম্ভবপর হয়েছে উত্পাদনের গতি ও পরিমাণ বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই. বর্তমানে বিমানবাহিনীতে ইতিমধ্যেই এমন সব আলাদা গোষ্ঠী রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী করা হয়েছে সু-৩৪ বোমারু বিমান, মিগ-২৯এসএমটি ফাইটার ও কা-৫২ হেলিকপ্টার দিয়ে, এছাড়া মি-২৮, মি-৮এএমটিশা ও অন্যান্য রকমেরও বিমান ও হেলিকপ্টার দিয়ে.

নতুন বিমান সরবরাহের ফলে, সবার আগে সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে. সোভিয়েত দেশের সময়ে তৈরী হওয়া ও বর্তমানে ক্ষয় হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতির সঙ্গে তুলনায় নতুন বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো কাজ করে একেবারেই নিরলস ভাবে আর প্রায় সমস্ত রকমের ক্ষেত্রেই পুরনো এই ধরনের যন্ত্রের চেয়ে অনেক ভালো. দ্বিতীয়তঃ, নতুন ধরনের যন্ত্র নতুন সুযোগ করে দেয়. আকাশেই প্রয়োজনীয় বাড়তি জ্বালানী ভরার ও খুবই প্রসারিত ভাবে ব্যবহারের উপযুক্ত উচ্চ মাত্রায় লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম অস্ত্র সম্ভার সুযোগ করে দেয় যে কোন ধরনের বিপদের ক্ষেত্রেই খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার ও খুবই কম নিজের ক্ষতি করে অনেক বেশী ফলপ্রসূ ভাবে মাটির ওপরে থাকা লক্ষ্য ধ্বংস করতে সুযোগ করে দেয়.

হেলিকপ্টার গুলোর পার্ক নতুন করা হলে পদাতিক বাহিনীর ফলপ্রসূতা অনেক বেড়ে যায়. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ এই নতুন যন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে: ইঞ্জিনের শক্তি বেড়ে যাওয়া, যা শুধু বেশী উঁচুতে ওড়ার শক্তিই দেয় না, বরং তাতে করে বেশী ওজন নেওয়াও যেতে পারে, লক্ষ্যভেদের ব্যবস্থাতেও সংস্কার করা হয়েছে, যা বাজে আবহাওয়া ও রাত্রি বেলাতেও যুদ্ধের কাজ কর্ম করার সম্ভাবনা দিয়েছে. তাছাড়া, আধুনিক যুদ্ধে ব্যবহার যোগ্য হেলিকপ্টার গুলোকে টেকসই করা হয়েছে অনেক, যা বাহিনীর ক্ষয় ক্ষতি কমানোর জন্যও কাজে লেগেছে.

খুবই আসন্ন সময়ে নবীকরণ হয়েছে এমন সেই সমস্ত বিমানবাহিনীর ঘাঁটি গুলোর সংখ্যাও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে. সব মিলিয়ে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর বিমান বহরে রাশিয়াতে ২০২০ সালের আগে ৬০০টারও বেশী নতুন যুদ্ধবিমান ও ১০০০টারও বেশী হেলিকপ্টার থাকবে, সেই ক্ষেত্রে যদি অন্যান্য যন্ত্রপাতির কথা না ধরাও হয়, তাহলে.

কেনা হচ্ছে এমন যুদ্ধ বিমানের প্রধান অংশ আসবে “সুখই” বিমান নির্মাণ সংস্থা থেকে – বিভিন্ন ধরনের সু- ৩০ ও সু-৩৫ যুদ্ধ বিমান, বোমারু বিমান সু-৩৪, পরবর্তী কালে - পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান টি-৫০. এই যন্ত্র আপাততঃ পরীক্ষা করা চলছে. এগুলোকে নিয়মিত ভাবে তৈরী করা শুরু হবে দু-তিন বছর পর থেকেই.