উন্নতিশীল দেশগুলোর বিনিময় যোগ্য মুদ্রার তহবিল তৈরী এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে. সাক্ষাত্কারের সময়ে এই গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে স্থির থাকা মূলধন সংক্রান্ত সমঝোতা সমর্থন করা হয়েছে: চার হাজার একশ কোটি ডলার দেবে গণ প্রজাতান্ত্রিক চিন, এক হাজার আটশো কোটি ডলার করে দেবে রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিল, আরও পাঁচশো কোটি ডলার দেবে দক্ষিণ আফ্রিকা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন যেমন ঘোষণা করেছেন যে, এই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন আলাদা করে বিশ্বের বিনিয়োগ বাজারকে স্থিতিশীল করার কাজ করবে. বাস্তবে এই তহবিল হবে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক রকমের বিকল্প ও তা ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশ গুলিতে ডলারের প্রভাব কমাতে বাধ্য. এখন এই ধরনের তহবিল সত্যই প্রয়োজন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার পক্ষ থেকে পরিমাণ গত লঘুকরণ নিয়ে প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা নিয়ে খবরের পরেই উন্নতিশীল দেশ গুলোর জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমতে শুরু করেছিল, আর বিনিয়োগ কারীরা সেই এলাকা থেকে নিজেদের অর্থ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছিলেন, এই কথা উল্লেখ করে ব্রিকস দেশগুলোর গোষ্ঠীতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্বিভাগীয় পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ভাদিম লুকভ বলেছেন:

“এটা সত্যিই ব্রিকসের স্বার্থের উপরে আঘাত করে, তাই বিগত মাসগুলোতে বহুল পরিমাণে “হট মানি” ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশগুলোর বিনিয়োগের বাজার থেকে ফিরে গিয়েছে আর তার সঙ্গেই জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমেছে, অংশতঃ, ভারতে ও ব্রাজিলে, এটা স্রেফ ন্যায্য হয় নি. ম্যাক্রো ইকনমিক সূচক এই সব কিছুর উপরে ভিত্তি করে তৈরী হয় না, এটাকে বাইরের থেকে দেওয়া স্পষ্টই আচমকা আঘাত”.

মে মাস থেকে উন্নতিশীল দেশগুলোর স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় কমেছে আট হাজার কোটি ডলারের বেশী. রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ মনে করেন যে, এই তহবিল তৈরী করার ফলে রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার নতুন নীতির পরিণামের জন্য তৈরী হওয়ায় সহায়তা হবে. তিনি তাই বলেছেন:

“আমরা ব্রিকস গোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরনের সঞ্চয় তহবিলের তৈরী করার ধারণা এই কারণেই নিয়েছি যে, যাতে মূলধনের স্রোতের উবে যাওয়ার সময়ে মূল্য দেওয়ার ক্ষমতাকে সাহায্য করা যেতে পারে. এটা সেই সমস্ত দেশের মধ্যে একটা সাধারণ নীতি, তাই সেই জন্যই তৈরী থাকতে হবে যে, জাতীয় মুদ্রার দাম ও মূলধনের স্রোতের পরিস্থিতি বদলাতে থাকবে”.

আরও একটি অভূতপূর্ব ব্যবস্থা, যা এই গোষ্ঠীর দেশগুলোকে সহায়তা করতে বাধ্য, তা হল যে, ব্রিকস গোষ্ঠীর নতুন উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরী হওয়া. এখন বাস্তবে এই ব্যাঙ্কের স্রষ্টাদের গঠন তৈরী করা হয়ে গিয়েছে, এই কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামো নির্দিষ্ট করা হয়েছে ও তার চার্টার ক্যাপিটাল ঠিক করা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলার, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার উপ অর্থমন্ত্রী সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

“ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্কের মূলধনের বিষয়ে - প্রশ্ন এখনও আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে. পাঁচ হাজার কোটি ডলার, যা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা তথাকথিত শেয়ার ক্যাপিটাল বা চাঁদা. আরও একটা ধারণা রয়েছে যে, এই স্রষ্টাদের দেয় মূলধনের সঙ্গে যোগ করা হবে কারবারের উপযুক্ত মূলধন, যা এই চার্টার ক্যাপিটালের চেয়ে অনেক বেশী হবে. এটা সেই কারণেই দরকার যে, তাদের জন্য একটা “বাড়তি লেজ” তৈরী করে দেওয়া, যারা পরে এই ব্যাঙ্কে যোগ দিতে চাইবে. এই ব্যাঙ্ক কোন বদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মতো করে তৈরী করা হচ্ছে না”.

পরে এই ব্যাঙ্কের কাজে যোগ দিতে অন্যান্য দেশরাও পারবে, আর তারই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থাগুলোও. ব্যাঙ্ক ঋণ দেবে ও অর্থনীতির বাস্তব ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ করবে: পরিকাঠামো তৈরী করা ও শিল্প ক্ষেত্রের প্রকল্পগুলো. প্রসঙ্গতঃ, তা শুধু ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশের সীমান্তের মধ্যেই নয়, অন্যান্য উন্নতিশীল দেশগুলিতেও. সহজলভ্য অর্থ উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলোতে উদ্যোগের সৃষ্টি করবে, যে ক্ষেত্রে ব্রিকস নিজেদের অর্থনীতির ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছে.

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা, ব্রিকস গোষ্ঠীর এই অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সার্বিক পরিকাঠামোয় পরিবর্তন, আর সঠিকভাবে বললে কোটা ব্যবস্থার নিয়মে. উন্নতিশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে চায়, কিন্তু উন্নত দেশগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সহমতে পৌঁছতে তাড়া করছে না. এই প্রসঙ্গে ব্রিকস গোষ্ঠীর নেতারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সংস্কারের কাজে থেমে থাকা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন আগামী বছরের শুরুতে এই কোটা ব্যবস্থা নতুন করে বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে.