এর অর্থ কি বিরোধীরা সিরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষে চলে যাবে? রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধি এই নিয়ে মাহির মিরখিজকে প্রশ্ন করেছেন:

“সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে সিরিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশের হুমকি নিয়ে আপনার নিজের প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে বিশদ করে বলুন”:

“-এটা ঠিক যে, আমাদের সিরিয়াতে যা কিছুই ঘটছে, তা নিয়ে নিজস্ব মতামত রয়েছে: তা সিরিয়ার প্রশাসনের নেওয়া পথ সম্বন্ধেও, আর তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া দেশের বিকাশ নিয়েও. কিছুর সঙ্গে আমরা একমত, আবার কিছু বিষয়ের সঙ্গে একমত নই, কিন্তু এখন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা তাহলে সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সামনেই পড়ব. আমরা, সিরিয়ার নাগরিক হিসাবেই নিজেদের দেশে যে কোন রকমের সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে. দামাস্কাসে রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ কাউকেই কোন অজুহাত দেয় না আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য. তাছাড়া, দামাস্কাসের পূর্ব উপকণ্ঠের বাসিন্দারা, যারা এই আক্রমণের সাক্ষী হয়েছেন, তারা সশস্ত্র জঙ্গীদেরই এই অস্ত্র ব্যবহারের জন্য দোষী করেছেন, তারা এই কথার স্বপক্ষে প্রমাণও দেশের প্রশাসনের কাছে ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এনে উপস্থিত করেছেন. আসাদের প্রশাসন অথবা সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধী পক্ষ কোন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারই করে নি. বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে চরমপন্থী ঐস্লামিকেরা, যারা তুরস্কের এলাকা থেকে আমাদের দেশে ঢুকে পড়ছে.

এটা আমি শুধু সমস্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই ঘোষণা করছি না, বরং করছি সমস্ত সিরিয়ার জনগনের পক্ষ থেকেও যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবে না, যদি তারা আমাদের উপরে একটাও রকেট ছোঁড়ে. এখন আমাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, কে ক্ষমতায় আছে, বরং কি করে দেশকে রক্ষা করা যেতে পারে. আমরা প্রশাসনের পক্ষে চলে যাই নি, কিন্তু আমরা আমাদের দেশের জনগন ও সামরিক বাহিনীর উপরে আঘাতের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়েছি, যারা আমাদেরই নিরাপত্তা রক্ষা করে”.

“আপনি বলছেন বর্তমানের প্রশাসনকে সাহায্যের প্রয়োজনের কথা, যাতে বাইরের আঘাতের বিষয়ে একজোট হওয়া যায়. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপ্রবেশের বিষয়ে কি অনেক বিরোধী পক্ষের লোকই একমত? কারণ তথাকথিত সিরিয়ার স্বাধীন সামরিক বাহিনীর প্রধান যে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে একেবারে করজোড়ে প্রার্থনা করে চলেছে তাঁর নিজের “প্রিয় জন্মভূমির” উপরেই আঘাত করার জন্য”?

-“না আমি তা মনে করি না যে, সমস্ত সশস্ত্র জঙ্গীই তাদের অবস্থান পাল্টাবে. প্রশাসনের পক্ষে চলে এসে আমেরিকার লোকদের বিরুদ্ধে যেতে পারে শুধু দেশের ভিতরের বিরোধী পক্ষের মধ্যপন্থী গোষ্ঠীরাই. আর হ্যাঁ, এই সব লোকরা সরকারের বিরুদ্ধে, তারা একমত নন, তাদের দাবীও আছে, কিন্তু তারা সিরিয়ার মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না. যখন আলোচ্য তালিকায় সিরিয়ার জনগনকে নির্মূল করা রয়েছে, তখন আর কোন বিতর্কের সময় থাকে না. এটা খুবই বুদ্ধিহীণ মনে করা হবে যে, সিরিয়ার জনগন, অর্থাত্ আমরা, শুধু সেটাই চাইছি যে, আমাদের উপরেই আক্রমণ করা হোক.

আর সিরিয়ার স্বাধীন সামরিক বাহিনীর নেতা অবশেষে নিজের সত্যিকারের মুখ দেখিয়েছে. তার শেষ করা ঘোষণা থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, সে কার হয়ে কাজ করছে. নিজের দেশে বিদেশ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশ করাকে যে সমর্থন করে আর স্বাগত জানায়, স্রেফ সরকারের উপরে প্রতিশোধ তোলার জন্য, সে সেই সন্তানেরই মত, যে নিজের মাকে ধর্ষণ করতে অনুমতি দিয়েছে নিজের পিতার উপরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যেই”.