জি২০ গোষ্ঠীর নেতৃত্বে দাঁড়িয়ে রাশিয়া শুরুতেই প্রাথমিক কর্তব্যের বিষয় নির্দিষ্ট করেছে: আলোচ্য বিষয়ের তালিকাকে দীর্ঘায়িত না করে অংশগ্রহণকারীদের মনোযোগ অর্থনৈতিক সমস্যা ও সঙ্কট পরবর্তী উন্নয়নের সমস্যার প্রতি আকর্ষণ করেছে. অর্থাত্ সেই প্রশ্নগুলোতেই মনোযোগ নিবদ্ধ করার, যা অনেকদিন ধরেই সমাধানের প্রয়োজন বোধ করেছে, আর তাছাড়া, বৃহত্ অর্থনৈতিক নীতি গঠনের ও বিনিয়োগের বাস্তব একজোট করার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অগ্রগতি করতে পারা সম্ভব হয়েছে. এই প্রসঙ্গে জি২০ বিশেষজ্ঞ সভার ডিরেক্টর সের্গেই দ্রোবীশেভস্কি বলেছেন:

“রাশিয়া জি২০ গোষ্ঠীর আলোচ্য বিষয়ের তালিকাকে দীর্ঘায়িত করতে যায় নি, বরং সেটাকে শুরুর উদ্দেশ্যেই ফিরিয়ে এনেছে, একটা বিভিন্ন রাষ্ট্রের সম্মিলনে তৈরী ক্লাব হিসাবে, যারা বিশ্ব স্তরে অর্থনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করে থাকে. জি২০ গোষ্ঠীতে রাশিয়ার সভাপতিত্বের মূল পরিণাম – এটা সমস্ত দেশেই রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে একটা স্থিতিশীলতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া, আর সেটা যেমন উন্নত, তেমনই উন্নতিশীল দেশগুলোর জন্যেও; দীর্ঘকালীণ বিনিয়োগকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য বিষয়ে ও নতুন বিনিয়োগ ব্যবস্থার গঠনের মূল রূপরেখা তৈরী নিয়েও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া”.

এই প্রাথমিক কাজগুলোর কথা, নতুন গুণমান সম্পন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরীর সমস্যার মতো ব্যাপারকেও মস্কো সেই ২০১২ সালের হেমন্তে উল্লেখ করেছিল. এখন তা আগামী জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু হতে চলেছে.

রাশিয়ার সভাপতিত্বের সাফল্য হয়েছে নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী মহলকে আলোচনার মধ্যে ডেকে আনাতেও, এই রকম মনে করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের আন্তর্জাতিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মারিনা লারিওনোভা বলেছেন:

“নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের আকর্ষণ করা হয়েছিল পরামর্শ চেয়ে ও আলোচনা করার জন্য, যা তাঁরা করেছেন জি২০ গোষ্ঠীর শেরপাদের সঙ্গে ও সমস্ত মুখ্য দিকের কার্যকরী দলের সঙ্গেই. দুর্নীতির মোকাবিলা, কর্মক্ষেত্র তৈরী করা ধরনের প্রশ্ন থেকে বিকাশের ক্ষেত্রে মূল আলোচনার তালিকা পর্যন্ত সমস্ত প্রশ্নেই আলোচনা করা হয়েছে. এটা সুবিধা করে দিয়েছে যে, জুন মাসেই প্রয়োজনীয় পরামর্শগুলোকে তৈরী করে উপস্থিত করার”.

এখন রাশিয়ার মূল কাজ হল – জি২০ শীর্ষ সম্মেলন সফল ভাবে করা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, জি২০ গোষ্ঠীর নেতাদের পক্ষ থেকে বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশের জন্য ও নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরীর জন্য তথাকথিত পিটার্সবার্গের পরিকল্পনা গ্রহণ করাকে সাফল্য বলা যেতে পারে. তাঁর মতে, এই দুটি মূল দিককে বাস্তবায়িত করতে গেলে প্রয়োজন পড়বে বেশ কিছু এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নের সমাধান করার. তাদের মধ্যে – বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দেওয়া, বিশ্ব অর্থনীতিকে বেশী করেই খোলাখুলি করে দেওয়া, কর সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কাজ করার, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার. আমরা মনে করব যে, এই শীর্ষ সম্মেলন সফল হয়েছে, যদি আগে থেকে প্রস্তুত করা ও সহমতে আসা সমস্ত দলিলই এখানে গৃহীত হয়, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি.