মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সংক্রান্ত সেনেট কমিটি ৩রা সেপ্টেম্বর সিরিয়াতে আঘাত করার সার্থকতা নিয়ে আলোচনা করবে. সেনেট সদস্যদের কাছে সামরিক অপারেশন সমর্থন করানোর জন্য পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে যে, এর মূল লক্ষ্য – সিরিয়ার প্রশাসনের সম্ভাব্য গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া. কিন্তু আপাততঃ অনেক সেনেট সদস্যই সেই মতের সঙ্গে একমত নন যে, এই কাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের উপযুক্ত. যেমন, রিপাব্লিকান দলের সদস্য অ্যালান গ্রেইসন ঘোষণা করেছেন যে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ধরনের সামরিক হঠকারিতা করতে যেতে পারে না, যা দেশকে আগামী দশক অথবা তার থেকেও বেশী সময়ের জন্য যুদ্ধের মধ্যে টেনে নিয়ে যেতে পারে”. এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে রাজনীতিবিদ ও আমেরিকা বিশেষজ্ঞ ফিওদর ভোইতোলোভস্কি বলেছেন:

“সেনেট সদস্য ও কংগ্রেস সদস্যরা সেই বিষয়েই মনোযোগ দেবেন, যাতে তাঁদের নির্বাচকদের হতাশ করতে না হয়. আর আমেরিকার সমাজে শেষ জনমত গ্রহণ অনুযায়ী এই প্রশ্নে সহমত নেই, সিরিয়াতে অপারেশনের জন্যও জনগনের প্রচুর সমর্থন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. সামরিক অপারেশনের বিরোধীদের সংখ্যা পক্ষের লোকদের চেয়ে অনেক বেশী. বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ আমেরিকার লোক সিরিয়াতে আঘাত করার বিরুদ্ধে. সুতরাং আমেরিকার পার্লামেন্টের সদস্যরা মোটেও ইচ্ছুক নন নিজেদের নির্বাচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য”.

কংগ্রেসের শুনানীর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন, সামরিক বাহিনীর দপ্তরগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান মার্টিন ডেম্পসি, এর আগে বুঝতে দিয়েছেন যে, তিনি মনে করেন সিরিয়ার অপারেশন একটা সামর্থ্যের বাইরে থাকা বিলাসিতা. একদিকে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের উপরে বাড়তি খরচ হিসাবে চাপবে, আর অন্যদিক থেকে – এই অপারেশনের পরিণাম সম্বন্ধে আগে থেকে বলা কঠিন.

সিরিয়ার উপরে আঘাত নিয়ে আসলে পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ও পেন্টাগনের প্রধান চাক হেগেল কি ভাবেন, তা বোঝা যাবে কংগ্রেসে এই নিয়ে ভোটাভুটি কিভাবে হবে তার উপরে, এই রকম মনে করে ফিওদর ভোইতোলোভস্কি বলেছেন:

“আমি এখানে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইব সেই ব্যাপার নিয়ে যে, যেমন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি, তেমনই চাক হেগেল – তাঁরা দুজনেই প্রাক্তন সেনেট সদস্য. আর জন কেরি এমনকি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সেনেট কমিটির প্রধান ছিলেন. এটা সেই রকমের লোক, যাঁরা কংগ্রেসে অনেক প্রভাব রাখেন. আর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কত দীর্ঘসূত্রী হবে, তা থেকেই বুঝতে পারা যাবে যে, কেরি ও হেগেল সিরিয়ার সম্পর্কে অবিলম্বে শক্তি প্রয়োগ করা নিয়ে আগ্রহী কি না অথবা যাতে নিজেদের মুখ নষ্ট না হয়, তাই সামরিক অপারেশনের জায়গায় রাজনৈতিক উপায় ব্যবহার করতে আগ্রহী”.

এখানে যোগ করা দরকার যে, নিজেদের আমেরিকার সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যরাও. আলোচনার সময়ে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা আশা করেছেন যে, তাঁরা আমেরিকার লোকদের সিরিয়া প্রশ্নে ভারসাম্য রেখে অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে বোঝাতে পারবেন.

আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের জোট সঙ্গী – গ্রেট ব্রিটেন – ওয়াশিংটনকে একটা অপ্রিয় চমক দিয়েছে. সংযুক্ত রাজতন্ত্রের পার্লামেন্ট সদস্যরা বেশীর ভাগ ভোট দিয়ে সিরিয়াতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন. এই অপারেশনে উত্তর অতলান্তিক জোটও অংশ নিতে চায় নি. “আমি ন্যাটো জোটের কোন ভূমিকা সিরিয়ার প্রশাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি না”, - ঘোষণা করেছেন ন্যাটো জোটের সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুস্সেন.