এই বছরে ইতিমধ্যেই পঞ্চাশ লক্ষ লোক রাশিয়ার রাজধানী ঘুরে গিয়ে তাদের স্বপ্ন সার্থক করেছেন. মস্কো মহানগরীর ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের হিসাব মতো, ২০১৪ সালে পর্যটকদের সত্যিকারের ঢল নামবে এখানে. অবসর বিনোদনের বৈচিত্র্য এখানে এতই, যে সারা বছর ধরেই পর্যটকদের স্রোতে ভাঁটা পড়ে না. এমনকি শীতকালেও নগরীর হোটেলগুলো পরিপূর্ণ. সিআইএস এবং ইউরোপের দেশগুলির অধিবাসীরা সোত্সাহে এখানে আসেন. কিন্তু ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সের্গেই শ্পিলকো বলছেন, যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসছে এশিয়া থেকে. –

দূরবর্তী বিদেশের কথা বললে বলতে হয়, যে গতবছর জার্মানী থেকে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার পর্যটক এসেছিল, চীন থেকে এসেছিল ২ লক্ষ ৬০ হাজার. সংখ্যার দিক থেকে জার্মানী ছিল প্রথম স্থানে, চীন দ্বিতীয় স্থানে. এবছরের প্রবণতা প্রত্যক্ষ করে সহজেই এই পূর্বাভাস দেওয়া যায়, যে চীনের পর্যটকরা প্রথম স্থান দখল করবে. গত তিন বছর ধরেই চীনের পর্যটকদের সংখ্যা বছরে ৪০% করে বাড়ছে. এবং আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইউরোপে আর্থিক মন্দা আর এশিয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণী মজবুততর হচ্ছে, বেশি রোজগার করছে এবং তারাই বিদেশ ভ্রমণ করতে উত্সাহী. এই নব্যোদ্ভূত পর্যটকদের স্রোতকে নিজেদের দেশে টানার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে. বরাবরের মতোই আমাদের এখানে আসে আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রিক্সের দেশগুলির অধিবাসীরা. কিন্তু ঐ স্রোতে টান পড়ছে. অর্থনৈতিক মন্দার দরুন লোকে পর্যটনের খাতে খরচ কমাচ্ছে.

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো বিশ্বের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক কেন্দ্র. রাশিয়ার অধিকাংশ ঐশ্বর্যভান্ডার মস্কোয় অবস্থিত – জগদ্বিখ্যাত হীরক ভান্ডার থেকে শুরু করে ত্রেতিকোভ আর্ট গ্যালারী ও পুশকিন ভ্যিজ্যুয়াল আর্ট মিউজিয়াম. আর অবশ্যই রাজধানীর অতিথিদের পরিচয়পর্ব মস্কোর সাথে শুরু হয় ক্রেমলিন দিয়ে. সের্গেই শ্পিলকো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে আর সবমিলিয়ে মস্কোয় নব্বইটিরও বেশি একজিবিশন হল, ১৮০টি থিয়েটার সেন্টার, ৩৫০টি মিউজিয়াম ও নয় শতাধিক মন্দির আছে. –

অধিকাংশ পর্যটক, যারা প্যাকেজ ট্যুরে দলবদ্ধ হয়ে আসে, তারা নগরীতে মাত্র ২-৩দিন কাটায়. এই সল্প সময়ের মধ্যে তারা ক্রেমলিন পরিদর্শন করে, হয় ত্রেতিকোভ অথবা পুশকিন আর্ট গ্যালারীতে যায়, লঞ্চে চড়ে মস্কোভা নদীর বুকের ওপর দিয়ে মহানগরী পরিভ্রমণ করে, যায় ভোরোভিওভি টিলায় অথবা নোভোদেভিচে সমাধিক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে. চীনারা অবশ্যই চায় লেনিন মৌজলিয়াম পরিদর্শন করতে আর পাশ্চাত্য দেশীয়দের আগ্রহ মস্কোর অন্যতম কেন্দ্রস্থল তাগানকায় স্তালিনের ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়স্থল দেখার, যেখানে এখন খোলা হয়েছে শীতল যুদ্ধের স্মৃতিশালা.

সারা দুনিয়া স্বীকৃত মস্কোর ঐতিহাসিক ও সামাজিক কেন্দ্রগুলি ছাড়াও চালু করা হচ্ছে ভ্রমণবিলাসীদের জন্য নিত্যনতুন রুট. খুব শীঘ্রই ইউরোপের সবচেয়ে বড় পার্কের আবির্ভাব হবে মস্কোয়. আর ইউরোপের বহু শহরের মতোই মহানগরীর ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল পুরোপুরি পদব্রাজকদের হেফাজতে দেওয়া হবে, যাতে তারা নির্বিবাদে পায়ে হেঁটে ঘুরতে পারেন. মস্কোর পুরপিতা সের্গেই সোবিয়ানিনের কোনো সন্দেহই নেই, যে মস্কোয় পায়ে হেঁটে ঘোরার রুট অত্যন্ত জনপ্রিয় হবে. –

পায়ে হাঁটার পথ আগের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে এবং চলতি বছরে আমরা আরও ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা সেখানে জুড়বো, যে সব রাস্তা হবে পুরোপুরি যানবাহনমুক্ত. তার মানে, ২০১০-১১ সালের তুলনায় মহানগরীর কেন্দ্রস্থলে যানমুক্ত পথঘাট ছয়গুণ বাড়বে.

বছরের শুরু থেকে মস্কোয় বিভিন্ন ‘তারকাখচিত’ আরও প্রায় ২০টি নতুন হোটেলের উদ্বোধন হয়েছে. আজকের দিনে মস্কোর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হোটেলই বিশ্বমানের. বিদেশী পর্যটকদের সুবিধার্থে নগরীর রাস্তাঘাটের নাম এবং মেট্রো স্টেশনের নামধাম ইংরাজি ভাষাতেও উল্লেখ করা হচ্ছে. মস্কো নগরীর মধ্যে দিয়ে চলাচলকারী সাবার্বন ট্রেনগুলিতেও রুশীর পাশাপাশি ইংরাজিতে যাত্রাপথের পুরো স্কিম দেখানোর কাজ শুরু হয়েছে. মোটের উপর আরও বেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষন করার উদ্দেশ্যে মহানগরীর আবহকে আরও অতিথিপরায়ণ করে তোলার কর্মকান্ড জোর কদমে চলছে. এটা তো সর্বজনবিদিত, যে ভ্রমণ করার সম্ভাবনা এবং একের অপরের সাথে সাক্ষাতের মতো অন্য কিছু মানুষকে কাছে টানতে পারে না.