এই মেলার অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৫৭টি. গত বছরের চেয়েও ১২টি দেশ বেশী. এই প্রসঙ্গে নিজেদের বইপত্র মস্কোতে দেখাতে আনছেন এই প্রদর্শনীর ঐতিহ্য অনুযায়ী চেনা অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয় দেশের প্রকাশনাগুলোই নন, বরং এশিয়া মহাদেশের রাষ্ট্ররাও, আর এমনকি আরব দুনিয়াতে যারা খুবই সামাজিক ঝঞ্ঝার মধ্য দিয়ে চলেছেন, সেই সব দেশ থেকেও, এই প্রসঙ্গে “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিকের সঙ্গে কথাবার্তার সময়ে এই প্রদর্শনীর জেনারেল ডিরেক্টর নিকোলাই অভসিয়ান্নিকভ বলেছেন:

“এখানে ইজিপ্ট ও সৌদি আরবের বই দেখানো হবে. প্রত্যেক বারের মতই খুবই বড় প্রদর্শনী হবে ইরানের প্রকাশকদের পক্ষ থেকে. তাদের নিজেদের অনুষ্ঠান সূচী. আর এখানের প্রদর্শনীতে প্যাভিলিয়নে, তারা নিজেদের নানা রকমের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন. আমাদের এই বছরে জাপানও অংশ নিচ্ছে, আমাদের কাছে টোকিও শহরের বই মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ আসছেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি, আর ভিয়েতনাম, ভারত এবং মালয়েশিয়া ও তুরস্ক থেকেও আসছেন”.

২০০৫ সাল থেকে মস্কো বই মেলার কর্তৃপক্ষ একটি করে দেশকে নির্দিষ্ট করেন – সম্মানিত অতিথি হিসাবে. বিগত বছরগুলোতে এশিয়া মহাদেশের শুধু একটি দেশই এই সম্মান পেয়েছে – চিন: ২০০৭ সালে গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের প্রদর্শনীর জন্য জায়গা লেগেছিল এক হাজার স্কোয়ার মিটারেরও বেশী, সেটাই মস্কোর আন্তর্জাতিক বই মেলার ইতিহাসে অতিথি দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ছিল.

এই বছরেও চিনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল কিছু কম প্রতিনিধিত্ব মূলক হয় নি, তাই নিকোলাই অভসিয়ান্নিকভ বলেছেন:

“আমাদের এবারেও আগের থেকেও বেশী চিনের প্রকাশকেরা এসেছেন. প্রায় পনেরোটি প্রকাশনা সংস্থা, প্রতিনিধি দলে একশরও বেশী লোক, চিনের লেখকরা - তাঁরা দশ জনের একটি দল – মস্কোর বই মেলার পরে তাঁরা আবার সেন্ট পিটার্সবার্গে যাবেন, আর যাওয়ার পথে বিভিন্ন শহরে পাঠকদের সঙ্গে দেখা করবেন. সেন্ট পিটার্সবার্গে তাঁদের জন্য তৈরী রয়েছে এক বড় অনুষ্ঠান সূচী”.

মস্কো শহরে ৬ই সেপ্টেম্বর প্রদর্শনীতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, চিঙ্গিজ আইতমাতভ স্মৃতি দিবস পালন করা হবে. এই দিনে তিনি বেঁচে থাকলে, তাঁর বয়স হত ৮৫. বিখ্যাত রুশ ও কিরগিজিয়ার এই লেখকের, যিনি আন্তর্জাতিক তুর্কী সংস্কৃতি সংস্থার পুরস্কার পেয়েছিলেন, লেখা বিশ্বের ১৭৮টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে, আর সেই বইগুলোই তাঁর জন্যে আলাদা করে করা “আইতমাতভের মহাবিশ্ব” নামের প্রদর্শনীতে রাখা হতে চলেছে. এই প্রদর্শনী এখানে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে কিরগিজিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগার.

বই মেলার অনুষ্ঠানগুলোও সব বারের মতই খুবই প্রসারিত: কবি ও লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার, নতুন বইয়ের উপস্থাপনা, বাত্সরিক “বছরের সেরা বই” পুরস্কার প্রদানের উত্সব, “রাশিয়ার ২০১৩ সালের বই বাজার” নামে এই শিল্পের সম্মেলন, আর বাচ্চাদের জন্য – বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করা হতে চলছে, একটা নতুন স্লোগান ব্যবহার করে – “পড়তে পারায় কত আনন্দ!”

এখানে যোগ করব: - বিভিন্ন ভাষাতে পড়াতেও.