২০০৯ সাল পর্যন্ত “চান্দ্রায়ণ – ১” মহাকাশযান চাঁদের কাছের কক্ষপথ থেকে সঙ্কেত পাঠাতো, এর পরে তার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তার থেকে পাওয়া তথ্যের উপরে কাজকর্ম এখনও করা হচ্ছে. আর এই সামান্য কিছুদিন আগেই বোঝা গিয়েছিল যে, বড় সেই খাদ বুল্লিয়ালডুস, যার ওপর দিয়ে এই যান উড়ে গিয়েছিল, সেখানে জল রয়েছে. চাঁদে জলের উপস্থিতির কথা কয়েক বছর আগে বৈজ্ঞানিক স্টেশনগুলো সমর্থন করেছিল, আর তাদের মধ্যে রাশিয়া থেকে পাঠানো যন্ত্রও ছিল. কিন্তু তখন কথা হয়েছিল স্রেফ মেরু অঞ্চল নিয়ে, যেখানে বরফ জমা হয়. আর এই খাদ কিন্তু চাঁদের বিষুব রেখার কাছে, তার ওপরে আবার জলের অস্তিত্ব শুধু তার কেন্দ্রেই নয়, বরং আগ্নেয়গিরির লাভা দিয়ে সৃষ্ট পাহাড়ের উপরেও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, যা কোন এক প্রাচীন সময়ে আঘাতের ফলে চাঁদের গভীর থেকে উপরে উঠে এসেছিল.

নতুন সব তথ্য, সম্ভবতঃ, সেই ধারণাকেই বদলে দেবে যে, কি করে আমাদের পৃথিবীর এই উপগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল. কিন্তু এখনই বলে দেওয়া যে, চাঁদের সর্বত্রই জল রয়েছে, তাও শুধু এই খাদের থেকে পাওয়া একমাত্র প্রামাণ্যের উপরে ভিত্তি করে, সেটা ঠিক হবে না: খুবই কম পরিসংখ্যান রয়েছে. অন্যান্য খাদগুলোকেও পরীক্ষা করে দেখতে হবে, আর তারই সঙ্গে আইসোটোপ বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার যে, সেখানের জল কি রকমের – ধুমকেতুর মতো, নাকি মাটির গভীরে থাকা জল. এটা করতে পারে একমাত্র চন্দ্রযান অথবা সেখানে বসানো কোন স্টেশন, যা একশ মিটার অবধি গভীরে খুঁড়ে দেখতে পারে. আর এমন কোন বাস্তব প্রমাণ নেই যে, সেই জল সহজেই পাওয়া যাবে, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মী ভ্লাদিস্লাভ ত্রেতিয়াকভ বলেছেন:

“সেটা কোন অবস্থায় রয়েছে? খুবই কম সম্ভাবনা যে, তা রয়েছে তরল অবস্থায়. খুব সম্ভবতঃ, এটা সংযুক্ত অবস্থায় জল, যেমন থাকে খনিজ দ্রব্যে. যেমন সিমেন্টে – যদি জল দেওয়া হয়, তবে কংক্রীট পাওয়া যায়, আর যদি কংক্রীট থেকে জল আলাদা করতে হয়, তবে সেটাকে খুবই বেশী রকমের গরম করতে হয়. চাঁদেও সেই রকমেরই ব্যাপার: যদি এটা সংযুক্ত জল হয়, তবে তা বার করে আনা কঠিন হবে. সেই রকম করে জল বার করার অনেক সমস্যা”.

ভ্লাদিস্লাভ ত্রেতিয়াকভ আরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন সেই বিষয়ে যে, এই খাদ তৈরী হয়েছে বহু লক্ষ বছর আগে. তাই সেখানে বাইরে ছিটকে বেরিয়ে আসা জল মনে হয় না যে, এখনও সংরক্ষিত রয়েছে. খুব সম্ভবতঃ, তার জায়গা নিয়েছে অন্য বাইরের স্তরের কাছের জল – ধুমকেতুর জল.

ভারতীয় মহাকাশযান দিয়ে আবিষ্কার করা এই তথ্য চাঁদের অন্বেষণ কাছে নিয়ে আসবে, এই রকম একটা বিশ্বাস নিয়ে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের নক্ষত্র বিজ্ঞান দপ্তরের লেকচারার ভ্লাদিমির সুর্দিন বলেছেন:

“শুধু মেরু এলাকায় এই আশা নিয়ে কাজ করা যে, সেখানে জল রয়েছে. তা খুব একটা আগ্রহের বিষয় নয়. আর যদি চাঁদের পিঠের সর্বত্রই মাটির নীচে জল পাওয়া যায়, তবে যে কোন জায়গাতেই বৈজ্ঞানিক স্টেশন বসানো যাবে. জল খুবই গুরুত্বপূর্ণ. তা দিয়ে যেমন পান করা, তেমনই যন্ত্রপাতি ভর্তি করা যাবে. বিদ্যুতশক্তি থাকলে, অর্থাত্ সূর্যের আলো থাকলেই এটা অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন, অর্থাত্ খুব ভাল রকমের রকেটের জ্বালানী. যদি এটা চাঁদের সব জায়গায় থাকে, তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য জ্বালানী পাওয়া যাবে আর একই ভাবে মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহগুলোতে যাওয়ার জ্বালানীও পাওয়া যাবে”.

এটা ঠিক যে, এই সব পাওয়া তথ্যকে খুবই ভাল করে এই উপগ্রহের উপরের সর্বত্র থেকে যোগাড় করে বিশ্লেষণ করা দরকার, বিশেষজ্ঞ বিশেষ করেই বলেছেন. খুব ভাল হয় যদি একটা গভীর কূপ খনন করা সম্ভব হয়. প্রথম পদক্ষেপ এই বিষয়ে হতে পারে যে, চাঁদের গভীরে কয়েক মিটার অবধি খননের জন্য রুশ ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের যে পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, সেটা. অন্তত পক্ষে নিজেদের বুঝে নিতে হবে যে, সেই রকমের গভীরেই বরফ রয়েছে. আর যদি তা থাকে, তবে চাঁদ সব দিক থেকেই “ভিজে”, তাহলে তা সহজ হবে গবেষণার জন্য, আর ভবিষ্যতে – তা ব্যবহারও করা যাবে.