তাহলে, হতে পারে যে, খুঁটিনাটির বিষয়ে ছল চাতুরী করে, পশ্চিম প্রধান বিষয়ে সত্ আর তারা বোধহয় সত্যই চাইছে সিরিয়াতে একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজ তৈরী করার লক্ষ্য নিতে? এই বিষয়ে আমাদের সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“দশ বছর আগে, তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনী অনুপ্রবেশ করা নিয়ে বলেছিলেন: “ইরাকে গণতন্ত্রের জয় হবেই. তার সাফল্য সকলকেই প্রমাণ করে দেবে যে, স্বাধীনতাই সমস্ত জাতির ভবিষ্যত্ হতে পারে”. তার পরে ইরাকে যা হয়েছে ও আজও হয়ে চলেছে, তা তো আমরা সকলেই দেখতে পাচ্ছি, আর এটাকে “সাফল্য” বলা খুবই কঠিন”.

যদি অবশ্য “সাফল্য” বলতে মনে করা হয়ে থাকে যে, একটা অর্ধেক ভেঙে পড়া রাষ্ট্র, পতনোন্মুখ অর্থনীতি আর আন্তর্ধর্মীয় সংঘর্ষ, যাতে বাইরে থেকে পাঠানো প্রতিনিধিরা উস্কানি দিচ্ছে. কিন্তু খুব সম্ভবতঃ, ওয়াশিংটন মনে করে যে, ইরাকের উদাহরণ খুবই সফল. ইরাকের পরে আমেরিকার লোকরা, ইউরোপ আর আরবের লোকদের সঙ্গে নিয়ে একই হাল করেছে লিবিয়ার. এবারে লাইনে রয়েছে সিরিয়া.

কিন্তু এই দেশ গৃহযুদ্ধের আগে এই এলাকার একটি সবচেয়ে বেশী গণতান্ত্রিক দেশই ছিল. অন্তত পক্ষে, সেখানে কম করে হলেও বহুদলীয় প্রশাসনের ব্যবস্থা ছিল. সেখানে নির্বাচন করা হয়ে থাকে, একেবারে আদর্শ না হলেও, কিন্তু এটা নির্বাচনই. পারস্য উপসাগরীয় এলাকার একেবারেই চরম রাজতন্ত্রগুলোতে কোন নির্বাচনও নেই, কোন রাজনৈতিক দলও নেই – কিন্তু তাদের সামাজিক ব্যবস্থাতেই দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অভিযোগ নেই.

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পশ্চিম গায়ের জোরে শুধু সেই রাষ্ট্রগুলোকেই গণতান্ত্রিক করছে, যেখানে গণতন্ত্র আদর্শ অনুরূপ না হলেও রয়েছে. তা সংশোধন করা যেতে পারত ও উন্নত করা যেতে পারত, কিন্তু তা না করে এখানে ধ্বংস করা হচ্ছে ও বলা হচ্ছে: এখানে খুবই খারাপ গণতন্ত্র ছিল, তাই আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলবো, আর তারপরে এখানে সব কিছুই একদম ভালো হয়ে যাবে. কিন্তু যা পাওয়া যাচ্ছে, তা মোটেও একেবারে খুব ভালো কিছু নয়, আর কার্যক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু গণতান্ত্রিক ধারণাকেই হেয় করার মতো করে দিচ্ছে.

অন্যদিক থেকে নিকটপ্রাচ্যের এই তথাকথিত গণতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আমাদের আলোচনার আরও একজন অংশগ্রহণকারী রাজনীতিবিদ ভিক্টর নাদেইন-রায়েভস্কি পর্যালোচনা করেছেন. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“পশ্চিমের বহু সংখ্যক কেন্দ্র অনেক কিছুই করেছে যাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিকটপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পশ্চিমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ধারণাকে চাপিয়ে দেওয়া যায়. এটা সেই হিসাব করেই করা হয়েছিল যে, এই দেশগুলোতে নতুন এক স্তর মানুষের উদ্ভব হয়েছে, যারা পশ্চিমের গণতান্ত্রিক মডেলের দিকেই যাচ্ছে. সেই ধরনের লোকরাও আছে, তাই যারা আজ সিরিয়াতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের মধ্যে সকলেই ঐস্লামিক চরমপন্থী নয়. হতে পারে, সেই ধরনের লোকরাও রয়েছেন, যারা খুবই বেশী করে চায় যে, তাদের দেশও “ইউরোপের মতই” হোক. কিন্তু সেই ইউরোপ, যাকে আজ গণতন্ত্র বলছে, তার দিকে কয়েকশো বছর ধরে গিয়েছে, আর সেই যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না, বরং প্রায়ই ছিল রক্তাক্ত পথ ধরে যাওয়া”.

পশ্চিমের গণতন্ত্র – সামাজিক বিরোধকে শান্তিপূর্ণ ভাবে নানারকমের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বের করা একটা সমাধানের খুঁজে পাওয়া পথ. আর সেটা শান্তিপূর্ণ পথ. আর নিকটপ্রাচ্যের লোকদের পশ্চিম ঠেলে দিচ্ছে একটা হিংসার পথে, আর সবচেয়ে বেশী করে তাদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যারা হিংসার পক্ষেই কথা বলছে. আসলে, বোধহয় যে, পশ্চিমে মোটেও চেষ্টা করা হচ্ছে না এই এলাকার লোকজনকে গণতন্ত্র গঠনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য, অথবা, কোন কিছু একটা গড়ার দিকেই – বরং ধ্বংসের পথেই ঠেলা হচ্ছে. আর ধ্বংস স্তুপের উপরে বসানো হবে পুতুলের মতো দুর্বল সমস্ত রাষ্ট্র গঠনকে, যারা পুরোপুরি ভাবেই পশ্চিমের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে. আর গণতন্ত্র নেই বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা হল স্রেফ একটা হাতের কাছে থাকা ছুতো, কারণ কোন আদর্শ সমাজ নেই আর কখনোই তা ছিল না.