“একটা বিরাট জেল খাটার শাস্তি পাওয়ার পরে, শাকিল আফ্রিদি হঠাত্ করেই সুযোগ পেয়েছে “যাবজ্জীবন কারাদণ্ড” থেকে রেহাই পাওয়ার. পাকিস্তানের প্রশাসনকে কি আফ্রিদির মামলায় আবার ফিরে আসার জন্য বাধ্য করেছে, যা এক সময়ে পাকিস্তানে ও তার বাইরে বহু দূরেও বিশাল প্রতিধ্বনি তুলেছিল, তা এখনও শেষ অবধি স্পষ্ট হয় নি. সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে একেবারেই বিচার সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার উপরে প্রশ্ন করা দিয়ে. তা স্বত্ত্বেও, খুবই কঠিন হয় বিশ্বাস করতে যে, আগামী সময়ে এই মামলার আবার বিচার করাটা হবে শুধুমাত্র বিচার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য, যা এখন দেখা গিয়েছে যে, ভঙ্গ করা হয়েছিল”.

আরও একটা বিষয় নিয়ে ধারণা করাও কঠিন যে, এই মামলার পুনর্বিচার করার জন্য আবেদন করেছে পাকিস্তানেরই কোন রাজনৈতিক শক্তি. কারণ শাকিল আফ্রিদি - এমন একজন মানুষ, যিনি আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগের হয়ে কাজ করেছেন ও ওসামা বেন লাদেনকে খতম করার জন্য জমি তৈরী করে দিয়েছিলেন. এই অপারেশন পাকিস্তানের নেতৃত্বের নেপথ্যেই করা হয়েছিল, যা দিয়ে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে এই ভাবেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই হেয় করা হয়েছিল.

কিন্তু তাহলে কে আর কি কারণে এই “ডাক্তারের মামলায়” ফিরতে চেয়েছে? সব দেখেশুনে মনে হয়েছে যে, আফ্রিদির মামলাকে পুনর্বিচার করার কথা ঘোষণা করে পাকিস্তানের নতুন প্রশাসন এটা দিয়েই একটা পরীক্ষার জন্য বল ছুঁড়েছে. আজ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, দেশের সামাজিক মতামত যাচাই করে দেখা, বোঝা যে, দেশ কি করে শাকিল আফ্রিদির সম্ভাব্য মুক্তি পাওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়, নওয়াজ শরীফের মন্ত্রীসভার পক্ষে খুবই গুরুতর রাজনৈতিক ক্ষতি কি এড়ানো যাবে. কারণ স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের জন্যই গুরুতর ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত.

কিন্তু নওয়াজ শরীফের সরকারের জন্য এই খেলার দাম রয়েছে, কারণ তিনি নিজেদের একটা মুখ্য কাজ বলে ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা, তাই তোমিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাকে বীর বলে মনে করা হয়েছে, সেই আফ্রিদিকে রায় দেওয়া মাত্রই তা সেখানের ওবামা প্রশাসনের তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল. “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে না যে, ডাক্তার আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করার জন্য কোনও ভিত্তি রয়েছে. আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও এত কড়া শাস্তির জন্য নিজেদের সমবেদনা প্রকাশ করছি”, তখন এই কথা বলেছিলেন পররাষ্ট্র সচিব ক্লিন্টন. তিনি এই রায়কে অন্যায্য ও অনুপযুক্ত বলে নাম দিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রশাসনের উপরে চাপ দেবে, যাতে এই রায় আবার করে বিচারকরা হয়. আর আমেরিকার আইন প্রণেতারা পাকিস্তানের আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এক আইন গ্রহণ করে, যার ফলে পাকিস্তানকে দেওয়া আমেরিকার সাহায্য কমে হয়েছিল ঠিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার কম, অর্থাত্ যত বছরের জন্য আফ্রিদিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, ঠিক ততটাই কম”.

কিন্তু পাকিস্তানের সরকার বুঝতে দিয়েছিল যে, তারা হঠে যাবে না আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান করেছিল পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান দেখানোর জন্য.

তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, “আফ্রিদির মামলা” ভবিষ্যতে এক বিশাল পরিসরে সিদ্ধান্ত খোঁজার মত প্রশ্নাবলীর মধ্যে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আরও একটি প্যাকেজ করে দরাদরির অংশ হয়ে দাঁড়াবে – সেখানে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক ও সামরিক –প্রযুক্তি বিষয়ে সহায়তা দেওয়া থেকে শুরু করে, পাকিস্তানের এলাকায় মার্কিন ড্রোন বিমানের করা আঘাত পর্যন্ত এবং আফগানিস্তানের থেকে ট্রানজিটের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়েও, কথা হবে.

আজ আবারও সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে যে, পাকিস্তানের নতুন প্রশাসন ঠিক করেছে বহুদিন ধরে জমিয়ে রাখা ট্রাম্প কার্ড আস্তিন থেকে বের করবে. এখন শুধু বোঝার বাকী যে, ওয়াশিংটন থেকে এর জন্য কি লাভ করতে চলেছে ইসলামাবাদ, যদি এই ডাক্তার আফ্রিদি – ওসামা বেন লাদেনের “নীরব হত্যাকারী” জেলের বাইরে চলে আসতে সক্ষম হয়, তাহলে.