প্রথম দিকের একটি প্রশ্ন ছিল সিরিয়া ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে. ছাত্ররা আগ্রহ প্রকাশ করেছিল যে, বর্তমানে যা হচ্ছে, তা কি দশ বছর আগের সেই ইরাককে ঘিরে পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি নয়? নির্দিষ্ট কিছুটা এক রকমের ঘটনা পরম্পরা এখানেও রয়েছে, বলেছেন সের্গেই লাভরভ, কারণ যেহেতু বাশার আসাদের সম্পর্কেও একই ধরনের উপায় নেওয়া হচ্ছে, যা হয়েছিল সাদ্দাম হুসেইনের বিষয়ে. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের রাস্তা ধরা হচ্ছে, সারা বৃহত্ নিকটপ্রাচ্যের জন্যই, তাই লাভরভ বলেছেন:

“যদি নিকটপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা নিয়ে বলতে হয়, তবে একেবারে চোখের সামনেই দুমুখো নীতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, চোখের সামনেই ব্যক্তি নিয়ে ব্যাপার হচ্ছে. কোন একজন একনায়কতন্ত্রী নেতার প্রতি ব্যক্তিগত অপছন্দ এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যে, তাকে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেই পদচ্যুত করা হচ্ছে. আর সেই সমস্ত স্বৈরতন্ত্রী নেতা, যাদের উপরে এই ধরনের ব্যক্তিগত অপছন্দ নেই ও যারা আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীদের জন্য সহায়ক ও জোট সঙ্গী হচ্ছেন, তাদের কথা একেবারেই বলা হচ্ছে না. আর একই ভাবে মোটেও যুক্তিসঙ্গত লাগছে না যে, কোন রকমের পরম্পরা না মেনেই এই ব্যাপারগুলোকে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের স্লোগান দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে, যা এই এলাকার জন্য সত্যই এতটাই প্রয়োজন”.

ইরাকের ক্ষেত্রের মতই সিরিয়ার উপরে আঘাত হানার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা হয়েছে গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার রোধের সম্ভাবনা বন্ধ করার ইচ্ছা নিয়ে. কিন্তু এখন সকলের কাছেই ভাল করে জানা রয়েছে যে, কোন রকমের গণহত্যার অস্ত্র ইরাকে ছিল না. ঠিক একই ভাবে আজও হচ্ছে: আমেরিকার প্রমাণ যে, আসাদের প্রশাসন নাকি রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে, কোন রকমের সমালোচনার উপযুক্তই হতে পারে না, এই কথা উল্লেখ করে লাভরভ বলেছেন:

“হ্যাঁ, আমাদের একটা কিছু প্রামাণ্য দেখানো হয়েছে, যাতে কোন কিছুই নির্দিষ্ট করে ছিল না: কোন ভৌগোলিক অবস্থান নির্দেশ, কোন নাম, কোন রকমের প্রমাণই নেই যে, এই সব নমুনা পেশাদার লোকরা সংগ্রহ করেছেন. আর যেখানে কোন মন্তব্য করা হয় নি সেই বিষয়ে যে, ইন্টারনেটে যে সমস্ত ভিডিও বর্তমানে দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে বহু সংখ্যক বিশেষজ্ঞই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, সেই সম্বন্ধে”.

মন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এরই মধ্যে পশ্চিমের দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিকটপ্রাচ্যে অপছন্দের প্রশাসনগুলোকে হঠানোর প্রক্রিয়া কোন ভাল কিছু দিয়েই শেষ হচ্ছে না. এই ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে লিবিয়া. মুহম্মর গাদ্দাফির পতনের পরে এই দেশ থেকে সমস্ত এলাকাতেই অস্ত্র ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে. আর লিবিয়ার জঙ্গীরা সমস্ত রকমের সশস্ত্র সংঘর্ষেই অংশ নিয়েছে, যত দূরে তারা পৌঁছতে পেরেছে, সেখানে.

তাঁর বক্তব্যের একটা ইতি করতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ নিজের বিশ্বাসের কথা বলেছেন যে, সিরিয়ার সঙ্কট কোন না কোন ভাবে রাজনৈতিক উপায়েই সমাধান করা হবে, শক্তি প্রয়োগ করে নয়.