ল্যুদমিলা পলিনিনা পঁচিশ বছরেরও বেশি কাল সিরিয়ায় বসবাস করছেন. ১৯৮৫ সালে এক জন সিরীয়কে বিবাহ করে তিনি প্রথমবার সিরিয়ায় পৌঁছেছিলেন. ভদ্রমহিলা সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করছেন হৃদয়ের পরম উষ্ণতা নিয়ে. –

সব কিছু খুব সস্তা ছিল, সর্বত্র ছিল নিরাপদ, যদি তুমি বলতে, যে তুমি রাশিয়া থেকে, তাহলে তোমার প্রতি আলাদা শ্রদ্ধা ছিল. ২০১৩ সালে আলেপ্পো শহর থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরবর্তী রাক্কা শহর বিদ্রোহীরা দখল করার পরেই রাতারাতি চালচিত্র একদম বদলে গেল. –

পণ্যদ্রব্যের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকলো. জল ও বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো ঠিকঠিকানা থাকে না, মাঝেমাঝে সারাদিন জল বা বিদ্যুত্ থাকে না. প্রায়ই বোমাবর্ষন হয়, গোলাগুলি চলে. শাসন বলতে এখানে আর কিছু নেই.

যুদ্ধের আগে ল্যুদমিলা পলিনিনা তার প্রিয় শহরে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন. এখন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাড়ির বাইরে যান না. –

আমি কদাচিত্ বেরোই. নিরাপত্তা বলে কিছু নেই, রাস্তা-ঘাটে অনবরত মানুষ মরছে. এরকম ঘটনাও ঘটেছে, যে ১৩-১৪ বছর বয়সী এক বালিকা তার মা-বাবার সাথে যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে. সম্ত্রাসকারীরা তাকে লুন্ঠন করে নিয়ে গেছে, এখনো তার কোনো পাত্তা পাওয়া যায়নি.

সন্ত্রাসী হামলায় ল্যুদমিলার কয়েক জন সিরীয় কুটুম্ব প্রাণ হারিয়েছে. তার পর থেকে ভদ্রমহিলা তার জ্যেষ্ঠ পুত্রদের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত এবং ফোনে বিশেষ কিছু বলতে ভয় পাচ্ছেন. –

আমার মেয়ে এবছরে মাধ্যমিক স্কুল থেকে পাশ করেছে আর ছেলেরা তার চেয়ে বড়. আমি বিষদে বলতে পারবো না, কারণ এখানে ফোন-কল ট্যাপ করা হয়.

ল্যুদমিলা পলিনিনা এখন বিষণ্নতার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই সময়, যখন সিরিয়ায় গর্ব করার মতো শিক্ষাব্যবস্থা ছিল. এখন যে সব এলাকা বিদ্রোহীরা দখল করেছে, সেখানে তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই. –

এই বছরে অর্ধেক সংখ্যক স্কুলে স্বাভাবিক পাঠ্যসূচী চালু করা যায়নি, কারণ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে অন্যান্য শহর থেকে আসা শরণার্থীরা. আমাদের অনেক আত্মীয়ের ছেলেমেয়েরা এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধের পরীক্ষা দিতে পারেনি. আমি জানি না, এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল হবে.

ল্যুদমিলা পলিনিনা আশা করছেন, যে পশ্চিমী দেশগুলো সিরিয়ার উপর বোমাবর্ষণ করা শুরু করবে না. সিরিয়ায় বহু রাশিয়ানের বাস. কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে রাশিয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসছেন, আর ল্যুদমিলা পলিনিনার মতো কিছু সিরিয়াবাসী রুশী এখনও এই আশায় আছেন, যে সব কিছু মিটে যাবে (All will be well).