গ্রেট ব্রিটেন সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন করতে যাবে না. বৃহস্পতিবারে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দেশের মন্ত্রীসভার প্রস্তাব অনুযায়ী কঠোর ভাবে তথাকথিত “মানবিক সঙ্কটের” বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া করার প্রস্তাব বাতিল করেছে, যা আবার সামরিক আঘাত করার প্রয়োজনই উত্পন্ন করতে পারতো. সদস্যদের সিদ্ধান্ত একটি পরামর্শ হিসাবে মনে করা যেতে পারত, কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তা উপেক্ষা করাটা ঠিক হবে না মনে করে বলেছেন:

“হাউস অব কমনসে আমাদের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে. সাংসদরা দেশের জনগনের মতামত প্রকাশ করে থাকেন, সংযুক্ত রাজতন্ত্রের সামরিক অপারেশনে যোগদানের বিষয়ে তাঁরা অমত প্রকাশ করেছেন. সরকার এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করবে”.

শুক্রবার রাতে ন্যাটো জোটের ১২টি দেশ, তার মধ্যে ইতালি, গ্রীস, কানাডা, ঘোষণা করেছে যে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘে অনুমতি ছাড়া যে কোন ধরনের সামরিক কাজকর্মে তারা অংশ নেবে না. সিরিয়ার প্রশাসন যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আদেশ দিয়েছে, সেই বিষয়ে বড় রকমের প্রামাণ্য ছাড়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা বাস্তব নয়. আজকের দিনে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে শুধু একটিই সরকারি রিপোর্ট রয়েছে – সেটা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেই, যারা এই বছরের মার্চ মাসে আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করেছিলেন. তখন একেবারেই অকাট্য প্রমাণ দেওয়া হয়েছিল যে, এটা বিরোধী পক্ষেরই কাজ.

এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা দামাস্কাসের কাছে ২১শে আগষ্ট রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছেন.শনিবারে তাঁরা তাঁদের কাজের ফল রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনকে দেবেন, আর তিনি এই রিপোর্ট নিরাপত্তা পরিষদের গোচরে আনবেন. ততক্ষণ অবধি এমনকি সিরিয়ার উপরে সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনাও – বেআইনি বলে মস্কোয় বিশ্বাস করা হয়. একই ধরনের মত রয়েছে বিশ্ব সমাজের বহু সদস্য দেশেরও. কিন্তু শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তা নয়. “নিউইয়র্ক টাইমস” সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ওয়াশিংটন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগ করার কোন রকমের সম্মতি ছাড়াই আক্রমণের আদেশ দিতে পারে. সম্ভবতঃ, শনিবারেই, যখন সিরিয়া থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা চলে যাবেন. মধ্য এশিয়া ও নিকট প্রাচ্যের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সিমিওন বাগদাসারভ বলেছেন:

“এই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে. খুব সম্ভবতঃ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা যে তথ্য উপস্থাপন করবেন, তাতে বলা হবে যে, রাসায়নিক অস্ত্র জঙ্গীরা ব্যবহার করেছে. আমার মনে হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব ভাল করেই এটা জানে. আর তারা এই রিপোর্ট প্রকাশের আগেই আঘাত করতে পারে”.

এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের চারপাশে সিরিয়ার বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করার উপযুক্ত সহযোগী খুঁজছে. আর যদি ইউরোপীয় লোকদের মধ্যে সেই রকমের প্রায় নাও থাকে, তবুও কিছু নিকটপ্রাচ্যের দেশ প্রতিবেশীর উপরে আঘাত হানতে অনিচ্ছুক নয়. অংশতঃ, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আখমেত দাভুতোগলু ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়া বিরোধী জোটে ২৫টি দেশ যেতে পারে.প্রসঙ্গতঃ এটা নেপথ্যে চলা আলোচনা অনুযায়ী. যখন বিষয়টা কাজে পরিণত করা অবধি পৌঁছবে, তখন প্রত্যেক দেশই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ব্যাপারে এগিয়ে আসবে না, এই রকম মনে করে নিকট প্রাচ্য ও ককেশাসের আন্তর্জাতিক নবীনতম রাষ্ট্রগুলি নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“এই যেমন তুরস্ক. সেখানে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ তৈরী করা হয়েছে, কি একটা অভিবাসনে থাকা সিরিয়ার মন্ত্রীসভাও তৈরী করা হয়েছিল. আর একবার চিন্তা করে দেখুন যে, কুর্দরা কোথাও একটা তেহরানে জমায়েত হয়ে, এরদোগানের প্রশাসনকে স্বৈরতান্ত্রিক, বেআইনি বলল, আর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল. কারণ পরিস্থিতি, যখন আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে ঘটনা প্রসারিত হয়, তখন যা খুশীই আশা করা যেতে পারে”.

একই সময়ে আমেরিকার প্রশাসনের প্রতিনিধিদের কথা অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস একলাই সিরিয়া বিরুদ্ধে কাজ করতে তৈরী, যদি তারা শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে. আপাততঃ সেই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি.