খনিজ তেল উত্পাদক ও তা নিয়ে যারা ব্যবসা করে তারা নতুন করে দামের লেবেল তৈরী করছেন. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট আঘাত সিরিয়াতে হয় – তবে খনিজ তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১৪০- ১৫০ ডলার হবে, এই রকমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সোসাইটি জেনারেলে থেকে. এই প্রসঙ্গে সর্বাধিক ভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখ্য সামনের ঘাঁটি গুলোর উপরে আক্রমণ.

নিকটপ্রাচ্যের খনিজ তেল উত্পাদক দেশগুলোকে বিরোধের ঘূর্ণিপাকে টেনে আনার জন্যও “দেওয়া হচ্ছে” ১৫০ ডলার. এটা কোন কল্পিত কাহিনী নয়, এই রকম মনে করে বিনিয়োগ কোম্পানী “নর্ড ক্যাপিটাল” গ্রুপের বিশ্লেষণ দপ্তরের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির রোঝানকভস্কি বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, সিরিয়া খুব অল্প খনিজ তেল উত্পাদন করে. কিন্তু সিরিয়া খনিজ তেলের বাণিজ্য পথের উপরেই রয়েছে. তারা ইরানের কাছেই রয়েছে. ইরান ঠিক সিরিয়ার মতই একটা অস্থিতিশীলতার কারণ”.

ইরানকে সামরিক কাজ কারবারের মধ্যে টেনে আনার ফলে পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে খনিজ তেল সরবরাহের উপরে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, আর এখান দিয়েই বিশ্বের প্রয়োজনের একের পঞ্চমাংশ খনিজ তেল রোজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে. ইরাকের থেকে খনিজ তেল সরবরাহ করাও ব্যাহত হবে.

“রিগিওন” বিনিয়োগ কোম্পানীর বিশ্লেষণ বিভাগের ডিরেক্টর ভালেরি ভাইসবের্গের নিজের একটা পূর্বাভাস রয়েছে পশ্চিমের তরফ থেকে সিরিয়াতে আক্রমণের প্রথম কয়েকদিনের খনিজ তেলের দাম নিয়ে, তিনি বলেছেন:

“যদি সামরিক বিরোধ একটা সক্রিয় অবস্থায় পৌঁছায়, তবে আমরা দেখতে পাবো যে, ১২০ থেকে সামান্য বেশী দামের খনিজ তেল. এটাও ঠিক যে, সম্ভবতঃ, এই সময় বেশী দিন চলবে না. এই ধরনের পরিস্থিতি লিবিয়ার ও ইজিপ্টের পরেও ঘটেছে”.

কিন্তু ব্যাপার শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অপারেশনেই বা ন্যাটো জোটের অন্যান্য রাষ্ট্রের সিরিয়ার উপরে করা নিয়েই নয়. সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাব্য প্রসারিত হওয়ার পরিস্থিতি হতে পারে এমন যে, তা এখনই বিশ্বের সমস্ত বিকাশশীল দেশের বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের পালিয়ে যাওয়ার কারণ হয়েছে, কোন রকমের বাছাই না করেই. প্রথম ঘন্টা বেজেছে সংযুক্ত আরব আমীরশাহীতে, সেখানে দুবাইয়ের শেয়ার মার্কেটে শতকরা সাত ভাগ ধ্বস নেমেছে.

বেশীর ভাগ উন্নতিশীল দেশ অর্থনৈতিক ভাবে খনিজ তেলের সরাসরি আমদানীকারক, তাদের মধ্যে রয়েছে চিন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক. আর তারাই প্রথম সিরিয়া থেকে আসা খনিজ তেলের ঝড়ের আঘাত টের পেয়েছে. ভারতের বাজারে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে. ভারত দেশের প্রয়োজনের শতকরা ৮০ ভাগ তেল আমদানী করে, আর বেড়ে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় টাকার বিনিময় মূল্য গত কুড়ি বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমে গিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সিরিয়াতে আঘাত হানা চিনেরও মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে, এই রকম মনে করে ভ্লাদিমির রোঝানকভস্কি বলেছেন:

“চিনের জন্য খুবই বিপজ্জনক হল যে, খনিজ তেলের দাম হুহু করে বেড়ে যাওয়া, চিন সদ্য তাদের অর্থনীতির মন্দ গতির থেকে বের হতে পেরেছে, তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, বছরে উন্নয়নের হার গড় বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা সাড়ে সাত ভাগে ধরে রাখতে পারা. কারণ এটাই চিনের কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য, যা তাদের অষ্টাদশ সম্মেলনে ঠিক করা হয়েছিল”.

খনিজ তেলের দাম বেড়ে যাওয়াটা এন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে. তারা শেল গ্যাস প্রযুক্তি দিয়ে জ্বালানীর দামকে সারা বিশ্বের চেয়ে অনেক কমের মধ্যে ধরে রাখতে পেরেছে.আর এটা বাড়তি একটা কারণ, যা তাদের চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়ে সুযোগ করে দিচ্ছে. কারণ চিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই আমেরিকার প্রথম স্থান দখল করে নিতে পারে. চিনকে নিকটপ্রাচ্য উত্তর আফ্রিকাতে পাওয়া খনিজ সম্পদের থেকে বঞ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে, তারা এটা সাফল্যের সঙ্গেই লিবিয়াতে বোমা মেরে ও সুদানকে দুটো দেশে ভাগ করে দেওয়া দিয়ে করতে পেরেছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখাই যাচ্ছে যে, আশা করেছে সিরিয়ার উপরে “টমহক” প্রয়োগ করে তারা আসলে তাদের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের উপরেই আঘাত হানতে পারবে.