অতলান্তিক সমুদ্রের তলা দিয়ে একেবারে রেকর্ড তৈরী করা স্বল্প সময় – মাত্র দুই মাসে একটা কেবল লাইন পাতা হয়েছিল. এটার পথে, যোগ করা হয়েছিল লন্ডন, কোপেনহেগেন, স্টকহোম, হেলসিঙ্কি শহরকে আর তা ছিল দশ হাজার কিলোমিটার লম্বা লাইন. মস্কো ও ওয়াশিংটন থেকে খবর দেওয়া নেওয়া করা হত লিখিত অবস্থায়. এই লেখা উদ্ধার করা ও তার অনুবাদ করার দায়িত্ব প্রত্যেক পক্ষই নিজেরা নিজেদের জন্য করে নিত. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়েভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“লাল টেলিফোনের উদ্ভব হয়েছিল ১৯৬২ সালের ক্যারিবিয়ান সঙ্কটের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, যা দুটি দেশকে, সঠিক করে বললে সারা বিশ্বকেই পারমাণবিক যুদ্ধের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল. যাতে এই ধরনের সঙ্কট পরিস্থিতির আর উদ্ভব না হয়, তাই দুই রাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল”.

প্রসঙ্গতঃ, প্রথম চার বছর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কোন রকমের বার্তা এই লাইন দিয়ে আসে নি. দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এটাকে ব্যবহার করেছিলেন নিজেদের ওস্তাদি সুনিপুন করে তোলার জন্য, নিয়মিত ভাবে একে অপরকে নানারকমের অর্থবহ খবর পাঠিয়ে. অবশেষে ১৯৬৭ সালের ৫ই জুন এই হট লাইনের কথা মনে পড়েছিল তখনকার সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই কোসীগিনের. সেই দিনই শুরু হয়েছিল আরব-ইজরায়েল যুদ্ধ, আর রাষ্ট্রপতি লিন্ডন জনসন খুব ভোরে বিপদ সঙ্কেত পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলেন. সোভিয়েত পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল সারা বিশ্বের জন্যই এই বিপজ্জনক সংঘর্ষ বন্ধ করতে সহায়তা করার জন্য.

১৯৭১ সালে এই লাইন শক্তিশালী করা হয়েছিল উপগ্রহ মারফত যোগাযোগ ব্যবস্থা দিয়ে, তারপরে তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ফ্যাক্স. ১৯৯১ সালে সরাসরি টেলিফোন লাইন লাগানো হয়েছিল. আর ২০০৮ সালে নতুন করে এবারে ফাইবার অপটিক্স কেবল লাইন পাতা হয়েছিল.

হট লাইনে গঠনমূলক কথাবার্তার একটা সফল উদাহরণ দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ভ্লাদিমির পুতিন ও জর্জ বুশের মধ্যে কথার, এর পরেই দ্বিপাক্ষিক ভাবে সন্ত্রাস বিরোধী কাজকর্মের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সক্রিয়তা অনেক বেড়ে গিয়েছিল.