বিমান প্রদর্শনীর ব্যবসায়িক অংশের অনুষ্ঠানে বিমান নির্মাণ কোম্পানীগুলো ইতিমধ্যেই এক হাজার ষোল কোটি ডলার মূল্যের চুক্তি সম্পাদন করেছে.

এই ভাবেই মিগ কর্পোরেশন ভারতের সঙ্গে দুটি চুক্তি করেছে, যার অর্থমূল্য পাঁচ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ডলার. প্রথম চুক্তি অনুযায়ী ভারতে একটি পরিষেবা কেন্দ্র তৈরী করা হবে, যেখানে “ঝুক-এমই” ধরনের বিমানের মধ্যে থাকা রাডার ব্যবস্থা সার্ভিস করা হবে, যা রাশিয়ার যুদ্ধ বিমানে থাকে. দ্বিতীয় দলিলে ভারতে আরও একটি পরিষেবা কেন্দ্র তৈরীর জন্য বলা হয়েছে, যেখানে “মিগ-২৯ইউপিজি” বিমানের আধুনিকীকরণ করা হবে.

পাভেল গ্রোমভের নামাঙ্কিত উড়ান-গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলাকায় হওয়া বিমান প্রদর্শনীর অন্যান্য খুঁটিনাটির খবর আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধি জেনে এসেছেন.

প্রত্যেকদিনই বেশ কয়েক হাজার লোক ঝুকোভস্কি আসছেন রাশিয়ার সর্বাধুনিক বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো দেখতে যা এখানে স্থির অবস্থায় রাখা আছে, তার মধ্যে দারুণ ভাল রকমের ওড়ার সময়েই দিক বদলে সক্ষম “সু-৩০এসএম” – যা ম্যাক্স প্রদর্শনীতেই প্রথম নিয়ে আসা হয়েছে. বিমান প্রদর্শনীর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়েছে প্রথমবার খুবই ভারী সামরিক পরিবহন বিমান “ইল-৭৬এমদে-৯০আ” প্রদর্শনী, যেটাকে লোকে জানে “ইল-৪৭৬” হিসাবে. এই বিমানের প্রধান নির্মাতা আন্দ্রেই ইউরাসভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, বিদেশী যারা এই বিমানের বরাত দেবেন, তারা এই বিমানের ব্যাপারে উত্সাহী হবেন, কারণ এখন প্রায় ১০০টি দেশে “ইল-৭৬” বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে. বেশ কিছু বড় কোম্পানী রয়েছে, যাদের এই বিমানের সংখ্যা নিজেদের কাছে ২০ থেকে ২৫টা. বিমান কাজের ক্ষেত্রে খুবই ভাল বলে প্রমাণিত, আর এই বিমানের নতুন যে সব গুণ যোগ করা হয়েছে, তা এটাকে আরও পছন্দসই করে তুলেছে”.

এই বিমানের সম্ভাব্য ক্রেতা হতে পারে ভারত, আলজিরিয়া, চিন. ম্যাক্স প্রদর্শনীর সময়ে সাংবাদিকরা শুনেছেন এক চাঞ্চল্যকর খবর. রাশিয়ার প্রযুক্তিগত রকেট সমরাস্ত্র (“তেএরভে”) কর্পোরেশনের জেনারেল ডিরেক্টর বরিস অবনোসভ বলেছেন যে, ফরাসী বিমান “রাফালে”, যা ভারতে টেণ্ডারে জয়লাভ করেছে, তা রাশিয়ার রকেট দিয়ে সজ্জিত করা হতে পারে. কর্পোরেশন এই প্রশ্নের সমাধানের প্রথম দশাতেই এখন রয়েছে. কিন্তু খুবই আসন্ন সময়ে তা ফরাসী বিমানের উপযুক্ত করে তৈরী করে দেওয়া হতে পারে. ম্যাক্স প্রদর্শনীতে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের একেবারেই আধুনিক নির্মাণের প্রদর্শনী করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে বরিস অবনোসভ বলেছেন:

“এগুলো আধুনিক জিনিষ, প্রযুক্তিগত ক্ষমতায় এগুলো পশ্চিমের কোন কিছুর চেয়েই কম নয়. অংশতঃ, রকেট আকাশ থেকে আকাশে যেগুলো আঘাতের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে, আর তা দীর্ঘ, মাঝারি ও স্বল্প দূরত্বের জন্য, জাহাজ বিরোধী রকেট, বিমানের বোমা যার পতনের পথে পরিবর্তন করা সম্ভব আর বিশাল সংখ্যক জলের নীচে ব্যবহার যোগ্য সামুদ্রিক অস্ত্র, এখানে বিজ্ঞাপণের জন্য যে সব জিনিষ দেওয়া হয়েছে, তাতে রয়েছে”.

ম্যাক্স প্রদর্শনীতে বরিস অবনোসভ জানিয়েছেন যে, “তেএরভে” কর্পোরেশনের একসারি রকেট ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দূরে উড়ানে সক্ষম (“পাক-দা”) বিমানের অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য তৈরীকরা হয়ে গিয়েছে. কিন্তু যদি এই বিমান তৈরী করা বর্তমানে শুধু শুরু করা হয়ে থাকে, তবে আধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের “তে-৫০” বিমান এবারে আকাশে তাদের সমস্ত রকমের সম্ভাবনার অনেকটাই উড়ান প্রদর্শনীর সময়ে দেখিয়েছে এই ঝুকোভস্কির আকাশে. ম্যাক্স প্রদর্শনীতে যারা আসছেন, তাদের জন্য এখনও অপেক্ষা করে রয়েছে রাশিয়ার সেরা পাইলট দল “স্ত্রিঝি, বেরকুট” ও “রুস্সকিয়ে ভিতিয়াজী” দলের বিমান ও হেলিকপ্টারগুলোর উড়ান প্রদর্শনী, যা দিয়ে ঝুকোভস্কি শহরে বিমান প্রদর্শনীর সমাপ্তি করা হবে.