“ভারতের নেতৃস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছে যে, ভারত সরকার তাদের আগে দেশের পার্লামেন্টে পেশ করা একটা সিদ্ধান্তকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, যে সিদ্ধান্তে অন্ধ্রপ্রদেশ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভাগ করে দেওয়ার একটা “পথনির্দেশ” দেওয়া হয়েছিল. দেশের ভিতরের একটা সবচেয়ে গরম বিষয় নিয়ে প্রকাশনাতে ভারতের গণ সম্প্রচার ব্যবস্থা দেশের পার্লামেন্টের লোকদের উল্লেখ করেছে, যারা ভরসা করে জানিয়েছেন যে, তেলেঙ্গানা তৈরী নিয়ে “তাড়াহুড়ো না করার” নতুন নির্দেশ এসেছে দেশের সর্ব্বোচ্চ স্তর থেকেই”.

এই ব্যাপারে যতটাই আচমকা মনে করা হোক না কেন, মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ অযৌক্তিক নয়. কারণ নীতিগত ভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যকে ভাগ করার ও তার উত্তরের অংশ নিয়ে ভারতের নতুন ২৯তম রাজ্য সৃষ্টির সিদ্ধান্ত, যা এর আগেই মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভা সমর্থন করেছে, তা হতে যাচ্ছিল একটা সাহসী ও বলা যেতে পারে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে যেতে পারত রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রেই. একদল জয়ধ্বনি দিয়েছে, অন্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, আর তৃতীয়েরা দাবী করেছে “তেলেঙ্গানার অভিজ্ঞতাকে” দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়ার.

রাজ্য ভাগ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত, গণ বিরোধে পরিণত হয়েছে, যা পরিণামে বাধ্য করেছে মন্ত্রীসভাকে “এক পা আগে তো দু’পা পেছনে যাওয়ার” নীতি অনুসরণ করতে. কিন্তু আজকের দিনে প্রশাসনের যতই ইচ্ছা হোক না কেন যে, তেলেঙ্গানা ভাগ নিয়ে উত্তেজনা ও গতি কমানোর, তাতে ধরার দরকার নেই যে, এই প্রক্রিয়াকে থামানো বা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব. কারণ অন্ধ্রপ্রদেশের দুই অংশের বিচ্ছেদ – এটা ঐতিহাসিক অর্থে একটা কষ্ট করে পাওয়া সিদ্ধান্ত, তাই তোমিন বলেছেন:

“ভারত স্বাধীন হওয়ার নয় বছর পরে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হয়েছিল ১৯৫৬ সালে দুই রাজ্য অন্ধ্র ও হায়দ্রাবাদকে এক করে.বর্তমানের বিতর্ক, সঠিক করে বললে, তখনই শুরু হয়েছিল. অনেকেই প্রথমে ধরে নিয়েছিলেন যে, অন্ধ্রপ্রদেশ একটা কৃত্রিম ভাবে সৃষ্টি করা রাজ্য. তেলেঙ্গানা এলাকায় খুবই ঘন সন্নিবদ্ধ ভাবে বাস করা তেলেগু প্রজাতির লোকরা কখনোই তাদের এই নিয়ে বিরোধ থামায় নি ও অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে নিজেদের এক মনে করে নি. নতুন রাজ্যের দুটি অংশের মধ্যে সম্পর্ক সহজ হচ্ছে না দেখে, নিজে একজন বাস্তববাদী হিসাবে জওহরলাল নেহরু বাধ্য হয়েছিলেন স্বীকার করতে যে, এই বিবাহে বিচ্ছেদের অধিকারের কথাও বলে রাখা দরকার”.

রাজ্য ভাগ করা নিয়ে মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত নিজেদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরী নিয়ে তেলেগু জনগনের অর্ধ শতাব্দী ব্যাপী লড়াইয়ের ফল. তার নানা রকমের রূপও ছিল – অনশন ও পুলিশের থানার উপরে হামলা করা থেকে শুরু করে নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়া পর্যন্ত. শুধু গত দশ বছরেই যা হাজারেরও ওপর জীবনহানীর কারণ হয়েছে. ফলে আট কোটির রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছিল.

বিশেষ করে এই পরিস্থিতির তীক্ষ্ণতা দিয়েছে যে, অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের আপাততঃ না হওয়া বিচ্ছেদের ইতিহাস ঘটেছে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগেই. এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হারাতে না চেয়ে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস চেষ্টা করবে আঞ্চলিক প্রশাসনিক বিষয়ে নিজেদের রাজনীতির ফলপ্রসূতা প্রমাণ করা.

এই প্রসঙ্গে তেলেঙ্গানা সংক্রান্ত প্রশ্ন একটা লিটমাস পেপার হয়েছে, যা ঠিক করে দিচ্ছে যে, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে রাষ্ট্র কাঠামো হিসাবে কি ঘটতে চলেছে. অন্ধ্রপ্রদেশের আগামী বিভাগ একটা প্যানডোরার বক্সই খুলে ধরতে পারে, যার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে আরও কয়েকটা রাজ্য – মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আন্দোলন. পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে নতুন আলাদা রাজ্য গোর্খাল্যান্ড করার দাবীদার নেতারা ইতিমধ্যেই মনে করিয়ে দিয়েছেন: তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার লড়াই তেলেঙ্গানার চেয়েও আগে থেকে শুরু হয়েছে.

আর তাও ভারতের প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে সম্পূর্ণ ভাবেই ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে এই “সার্বভৌমত্বের প্যারেডের” পরীক্ষা সহ্য করার, এই রকমই বিশ্বাস করেন সের্গেই তোমিন. বহু দশক ধরে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের মজবুত হওয়ার সেই গোপন কথা – “বহুত্বের মধ্যেই ঐক্যের নীতি” – কেউই এখনও বিতর্কের মধ্যে আনছেন না.

আপাততঃ তা করা হচ্ছে না.