ইরাকের থেকে নেওয়া হচ্ছে শোরগোল তোলা অথচ প্রমাণ নেই এমন একটা ছুতো, যাতে বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘণ করা হয়েছে. লিবিয়া থেকে নেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের কৌশল: আকাশপথে পশ্চিম আড়াল দেবে সন্ত্রাসবাদী গুণ্ডা বদমাশদের, যাতে তারা স্থল পথে গাদ্দাফির মতো করেই বাশার আসাদকে খুঁজে বার করে বিনা বিচারে হত্যা করে, শুধু এবারে সেই হত্যা কাণ্ডে খুশী কে হবে, কে মার্কিন কায়দায় wow বলে উঠবে এখনও ঠিক নেই, মোনিকা লেভিনস্কির সতীন বর্তমানে বাড়ীতে বসে মজা দেখছেন আর তার উত্তরাধিকারী হাজার হলেও পুরুষ, অন্তত বাইরের চেহারাতে.

এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ বলেছেন:

“তথাকথিত পশ্চিমের সমাজে সমস্ত লোকই বর্তমানে মোটেও যুদ্ধের কুড়ুল (কুঠার) হাতে আস্ফালন করছে না. যেমন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন প্রাড্ড, যিনি আগামী মাসের শুরুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করতে শুরু করবেন, তিনি আহ্বান করেছেন সিরিয়ার ঘটনা নিয়ে সিদ্ধান্ত করায় তাড়াহুড়ো না করতে আর রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে. “আমরা সকলেই খুব ভাল করে মনে করতে পারি যে, কি করে আমাদের ও অন্য প্রশাসনগুলো নিজেদের দেশগুলোকে ইরাকে সামরিক সংঘর্ষে লিপ্ত করেছিল, একটা এমন ধারণার উপরে ভিত্তি করে, যা বলা উচিত্ হবে যে, একেবারেই ঠিক ছিল না”, - বলেছেন এই প্রাড্ড”.

কিন্তু এই ধরনের কন্ঠস্বর পশ্চিমের জোটে এখন খুবই বিরল. এখানে স্বর জুগিয়ে দিচ্ছেন একেবারেই অন্য ধরনের রাজনীতিবিদরা. ফরাসী রাষ্ট্রপতি সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকে এতই উত্তেজিত ভাবে শাস্তি দিতে আহ্বান করছেন যে, তিনি নিজে দেখতেই পাচ্ছেন না যে, এটা করে তিনি নিজেকেই একটা বাজে অবস্থায় নিয়ে ফেলেছেন. কারণ বেশীরভাগ প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞদের মতে, আর তার মধ্যে ফরাসী লোকরাও রয়েছেন, এই ধরনের আক্রমণ – সরকার বিরোধী গোষ্ঠীর তরফ থেকেই প্ররোচনা, তাহলে কাদের শাস্তি দিতে অল্যান্দ আহ্বান করছেন?

কিন্তু এই ক্ষেত্রে যুক্তি ব্যবহার করতে আহ্বান করা, সব দেখে শুনে, মনে হচ্ছে না কোন রকমের ফল দেবে বলে. পশ্চিমের নেতারা শুধু নিজেদেরই আবার করে শুনছেন. আর মনে হয় যে, তারা ইরাকের ও লিবিয়ার অপারেশনকে মনে করেন না যে, নিজেদের জন্য লজ্জার বিষয়, বরং নিজেদের বিশাল সাফল্য বলেই মনে করেন আর এই এলাকায় পরবর্তীতে কাজ করার একটা রোল মডেল বলেই.

এই বিষয়ে লিবিয়া ও ইরাকের সঙ্গে তুলনা নিয়ে প্রাচ্য বিশারদ ভিক্টর নাদেইন-রায়েভস্কি বলেছেন:

“সিরিয়াতে সশস্ত্র বিদেশী ফৌজের অনুপ্রবেশ সম্ভাব্য. কিন্তু যা ইরাকে আক্রমণ করার আগে হয়েছে, তা হবে না. ইরাকের সামরিক বাহিনী বাস্তবে আক্রমণকারীদের কোন প্রতিরোধ করে নি. সিরিয়াতে সবই হবে অন্য রকমের. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা বোঝে আর তাই নিজেদের পদাতিক বাহিনী পাঠাতে চায় না. তারা চাইছে সিরিয়াতে একটা মাত্স্যন্যায় করে দিতে, আর এই সময়ে এটাকে আটকাতে যেতে বাধ্য হবে সিরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ গুলোই. তাদেরই এই সামরিক হঠকারিতার জন্য দাম দিতে হবে. এই অর্থে ইরাকের অভিজ্ঞতা হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে. সিরিয়াতে স্থল পথে অপারেশন নিয়ে যা বলা যায়, তা হল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করবে “ঝেভাত আন-নুসরা” ও “ইরাক ও লেভান্তে ঐস্লামিক রাষ্ট্র” গড়ার গোষ্ঠী. প্রায় সেই রকমই যা লিবিয়াতে হয়েছিল”.

তারই মধ্যে সিরিয়াতে আক্রমণ আঞ্চলিক ভাবে ইরাক ও লিবিয়ার থেকে খুবই খারাপ পরিণাম ডেকে আনবে. সিরিয়াতে আঘাত করে পশ্চিম বাস্তবে আল-কায়দার স্থানীয় শাখাগুলোর ধান্ধা, যে স্থানীয় শিয়া মুসলিম ও খ্রীষ্টানদের খতম করে দেওয়া, তাকেই সহায়তা করবে. এই সমর্থন পেয়ে চরমপন্থীরা সারা এলাকা জুড়েই খ্রীষ্টান ও শিয়া মুসলিমদের উপরে আক্রমণ করবে. চরমপন্থীদের উপরে সিরিয়ার কুর্দ লোকদের শেষ বিজয়ও অর্থহীণ হয়ে যাবে. আর মনে তো হয় না যে, কুর্দরা এটার দিকে শান্ত হয়ে দেখতেই থাকবে – তাই এখানে অনেক রকমের ব্যাপারই হতে পারে.

সব মিলিয়ে সিরিয়ার উপরে আক্রমণ, যদি তা করা হয়, আরও একবার প্রমাণ করে দেবে যে, পশ্চিম নিকটপ্রাচ্যে সমস্ত কম বেশী স্বাধীন প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রগুলোকে শক্তি প্রয়োগ করে ধ্বংস করে দিতে চায়. ইরাক ও লিবিয়া ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপের মতো করে “গণতান্ত্রিকীকরণ” করা হয়ে গিয়েছে. আর বর্তমানের পশ্চিমের জোট সঙ্গীদেরও কোন রকমের আকাশ কুসুম কল্পনা করে লাভ হবে না.

গাদ্দাফি শেষ কিছু বছর ধরে পশ্চিমের আক্রমণের আগে ব্যক্তিগত স্তরে খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করেছিলেন ইউরোপের বহু নেতার সঙ্গেই. এই সব কিভাবে শেষ হয়েছিল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপ কি বছর দুয়েক পরে মনে করতে বসবে না যে, আরব রাজতন্ত্রগুলো তথাকথিত পশ্চিমের গণতন্ত্রের মানের চেয়ে সিরিয়ার থেকেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে?