নতুন করে শক্তি প্রদর্শন, যা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ করতে চেষ্টা করেছিল, তা হতে যাচ্ছিল অযোধ্যা শহরে ধ্বংস করে দেওয়া বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির করার জন্য দাবী আন্দোলন. আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন লিখেছেন যে, এটা আবার তারা সেই সময়েই করতে চেয়েছে, যখন নির্বাচনের আগে হাতে গোনা সময় বাকী রয়েছে.

কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিয়ে প্রশাসন বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে দমন করেছে. হিন্দু তীর্থযাত্রীদের পদযাত্রা, যা করার ডাক দিয়ে মুসলমান অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ধান্ধা করা হয়েছিল, তা একবার হলে, প্রভূত রক্তপাত আটকানো যেত না. তাই প্রশাসন বিগত ছুটি দিনগুলোতে লক্ষ্ণৌ শহরের বিমান বন্দরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিংহল ও তার সবচেয়ে কাছের সহকর্মী প্রবীণ তোগাড়িয়াকে গ্রেপ্তার করেছে. তাছাড়া আরও আটশোরও বেশী এই সঙ্ঘের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া বহুদিনের এই পদযাত্রার লোকদের রাস্তা দেখাতে চেয়েছিল. এই সময়ে আবার অযোধ্যা শহরে ঢোকার রাস্তাও কয়েক হাজার পুলিশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল.

প্রসঙ্গতঃ, উত্তেজনা প্রশমন করা সম্ভব হয় নি. চরমপন্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারকে দোষ দিয়েছিল যে, তারা মুসলমান সমাজের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে, যাতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাদের পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়া যায়.

প্রশাসনকে ভারতের আরেকটা রাজ্যেও এই কট্টরপন্থীরা নিজেদের জবাব দিতে চেয়েছে. উত্তর প্রদেশের ঘটনার অব্যবহিত পরেই ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য আসামের শিলচর শহরে একসঙ্গে বেশ কয়েকটা জায়গায় হিন্দুদের প্রার্থনা করার জায়গায় কিছু অজ্ঞাত পরিচয় লোক এসে গরুর মাংসের টুকরো ফেলে দিয়ে গিয়েছে. ধর্মভীরু লোকদের অনুভূতিতে আঘাত করা এই “মাংসের ঘটনা” আরেকটু হলেই মুসলমানদের ধ্বংস করার অভিযানে পরিণত হতে যাচ্ছিল. তা বন্ধ করার জন্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স নামাতে হয়েছিল. গোলমালের সময়ে বেশ কিছু পুলিশ আহত হয়েছেন, দুটো পুলিশের গাড়ীকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে.

আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এই গোলমালের জন্য সেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদকেই দোষ দিয়েছেন. তাঁর কথামতো, অযোধ্যার ঘটনা ও শিলচর শহরে হওয়া ঘটনা একই শৃঙ্খলের দুটো ঘটনা, গগৈ মনে করেন যে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লক্ষ্য হল, দেশের ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সারা দেশ জুড়ে আন্তর্সামাজিক সম্পর্কে একটা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা.

বহু পর্যবেক্ষকের মতেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বর্তমানের সক্রিয়তা ও দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ হিন্দুদের অনুভূতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরী করার পেছনে রয়েছে তাদের শক্তিশালী অভিভাবক – বিরোধী বিজেপি.

মনে হচ্ছে যে, দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আহ্বান করাই বর্তমানে ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের মুখ্য অস্ত্র হয়েছে. ভারতীয় টাকার বিনিময় মূল্য কমে যাওয়া ও দেশের রাজ্য গুলোর সীমান্ত বদল করা নিয়ে বিতর্কের সময়ে বিরোধী পক্ষ মনে করেছে যে, তারা একটা খুবই শক্তিশালী রকমের প্রশাসন বিরোধী মনোভাব তৈরী করতে সক্ষম হবে. আর সেটা করা দরকার ধর্মীয় ভিত্তিতেই.