ফিন উপসাগরের তীরে উনবিংশ শতকে নির্মিত কনস্তানতিনোভ প্রাসাদের মালিকানা ছিল জারের ভাইয়েদের. বিংশ শতাব্দীতে ঐ প্রাসাদের শুধু ধ্বংসাবলী অবশিষ্ট ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিরন্তর গোলা ও বোমার আঘাত খেয়ে ওটা একটা বর্জিত দ্বীপে পরিণত হয়েছিল. কনস্তানতিনোভ প্রাসাদ নতুন জীবনের শ্বাস নিয়েছে এই শতকের সূচনায়, যখন মেরামতি করার পরে ঐ প্রাসাদটিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সরকারি সামুদ্রিক বাসভবনের মর্যাদা দেওয়া হয়. কনস্তানতিনোভ প্রাসাদের পুনরুদ্ধারের কাজে অন্যতম অগ্রগণ্য স্থপতি রাফায়েল দায়ানভ বলছেন, যে অতঃপর ঐ প্রাসাদ যেমন সাধারণ পর্যটকদের, তেমনই উচ্চপদস্থ অতিথিদের মনোরঞ্জন করতে পারে. –

প্রাসাদটির প্ল্যানিং রাশিয়ার জন্য স্বকীয়, হয়তো ইউরোপে যেমন ভার্সাই প্রাসাদের রূপ ঐরকম. মুখ্য প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রাসাদে ঢুকে আপনি তত্ক্ষণাত পৌঁছাবেন লম্বা একটা ব্যালকনিতে, যেখান থেকে বিস্তৃত পরিসরে অবলোকন করা যায় পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যা গ্রীষ্মকালীন পিটার্সবার্গের চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রদর্শন করে.

প্রাসাদের ভেতরের সাজসজ্জা পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে পুনরুদ্ধারকারীরা চেষ্টা করেছিলেন যতদূর সম্ভব ঐতিহাসিক সত্যতা পুনর্মুদ্রণ করার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হতে. পুরনো ছবি ঘেঁটে প্রাসাদের বড় হলগুলিকে সাজানো হয়েছেঃ আসমানি, মর্মর এবং ত্রোয়ান হলের. প্রত্যেকটি হলের ছাদের তলায় পুরাকালীন দেবদেবী ও বীরদের প্রতিকৃতি. পুনরুদ্ধারকারী-শিল্পীরা শুধুমাত্র উপাখ্যানই অনুসরন করেননি, তারা চেষ্টা করেছেন উনবিংশ শতাব্দীর স্থাপত্যের আদল আবার ফুটিয়ে তুলতে. এই সম্পর্কে বলছেন শিল্পতত্ত্ববিদ মারিনা ইগোরভা. –

সব দেওয়াল, প্রত্যেকটি থাম পাঁচ রঙের কৃত্রিম মার্বেল দিয়ে গড়া হয়েছে. এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও দামী. এখানে পুরাকালের মতোই প্রতিটি স্তরকে লেপন করা হয়েছে নিজ হাতে মোম দিয়ে.

জি২০-র শীর্ষ নেতারা ঐ প্রাসাদে রাত্রিযাপণ করবেন না, প্রাসাদটি পুরোপুরি থাকবে পুতিনের হেফাজতে. তবে তারা থাকবেন কাছেই. আরও বলছেন মারিনা ইগোরভা. –

ফিন উপসাগরের পাড়েই আছে কনস্যুলেট ভিলেজ, যেখানে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের নামে নামাঙ্কিত ২০টি পৃথক অতি উচ্চমানের কটেজ রয়েছে.

বিশ্ব নেতাদের কে কোথায় থাকবেন – এখনো জানা যায়নি, যেমন জানা যায়নি, যে কোথায় তাদের অভ্যর্থণা করা হবে. আগে প্রাসাদের মালিক নাইটরা অতিথিদের বরণ করতে পছন্দ করতেন ছাদের তলায়, যেছানে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয়. প্রাসাদের একতলাটি মিউজিয়ামই থেকে যাবে, যেখানে রাশিয়ার বিশ্ববন্দিত সংগীতজ্ঞ দম্পতি রসত্রপোভিচ ও ভিশনেভস্কায়ার সারা জীবন ধরে সংগ্রহ ও পরে বিনামূল্যে দেশকে দান করা দুস্প্রাপ্য সব চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের সংগ্রহ সাধারণ দর্শকদের প্রতিদিন প্রদর্শন করা হয়.